ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে চলছে মৃত্যুর মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • মৃত্যু- ১৬৪, আহত- প্রায় এক  হাজার, ভবন ধ্বসে পড়েছে একশতের উপরে
  •  ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৯৭১ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ২৪ জুন সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিকম্প দেশটির গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরা, মিরান্দা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঙ্গরাজ্য। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধু লা গুয়াইরা অঞ্চলে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে গেছে।

ভূমিকম্পের পরপরই হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর মেট্রো ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার ফলে ভূ-পৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মডেলিং অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প দুটি একটি বিরল “সিসমিক ডাবলেট” বা যুগ্ম ভূমিকম্পের উদাহরণ। একই অঞ্চলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় কম্পন আঘাত হানায় ভবন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, স্পেন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ভেনিজুয়েলাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক এই বিপর্যয় দেশটির জন্য এক বড় মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করছেন তিনি। পাশাপাশি দেশটির পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাথমিক তহবিল গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও কাজ করছেন।

উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে বেসরকারি খাতের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার জনগণকে শান্ত ও ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব ভবন নিরাপদ রয়েছে, সেসব ভবনের বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করা উচিত। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় দেশের সব ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে চলছে মৃত্যুর মিছিল

আপডেট সময় : ১১:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • মৃত্যু- ১৬৪, আহত- প্রায় এক  হাজার, ভবন ধ্বসে পড়েছে একশতের উপরে
  •  ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৯৭১ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ২৪ জুন সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূমিকম্প দেশটির গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরা, মিরান্দা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঙ্গরাজ্য। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধু লা গুয়াইরা অঞ্চলে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে গেছে।

ভূমিকম্পের পরপরই হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর মেট্রো ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার ফলে ভূ-পৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মডেলিং অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প দুটি একটি বিরল “সিসমিক ডাবলেট” বা যুগ্ম ভূমিকম্পের উদাহরণ। একই অঞ্চলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় কম্পন আঘাত হানায় ভবন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা, সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, স্পেন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ভেনিজুয়েলাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক এই বিপর্যয় দেশটির জন্য এক বড় মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করছেন তিনি। পাশাপাশি দেশটির পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাথমিক তহবিল গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গেও কাজ করছেন।

উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে বেসরকারি খাতের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার জনগণকে শান্ত ও ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব ভবন নিরাপদ রয়েছে, সেসব ভবনের বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করা উচিত। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় দেশের সব ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।