ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

জঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যটাই শুনতে হবে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শাসন ক্ষমতার বয়স মাত্র দুই মাস। আর এই সময়ের মধ্যে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশে জঙ্গিবাদ থাকা না থাকা নিয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে দুই ধরনের বক্তব্য। আজ সোমবার ৪ মে এমন সত্যতা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন।বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মতামত প্রকাশ করেন।

একদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ আছে।কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তা নেই। একই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদকর্মীদের বুজাতে চেয়েছেন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কোথ্থেকে এই তথ্য পেয়েছেন সেটা জাহেদ উর রহমানই বলতে পারেন বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে সেটাই তো শুনতে হবে।’

পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের রুটিন ফাংশন যেগুলো- নিয়োগ, বদলি, প্রমোশন, রিটায়ারমেন্ট- এগুলো সবই আইনানুগভাবে করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। আর পদ সৃজনের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় পদ সৃজন করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি, অনুমোদন সাপেক্ষে। সেটা যখন যেখানে প্রয়োজন হয় আমরা করি। আর অন্য বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক এবং রুটিন বিষয়।’

বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ডিপার্টমেন্ট যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করে।’
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং দাগি আসামি জেলখানা থেকে বেরিয়েছে, আমরা তখন লক্ষ্য করেছি। এটা তারা জামিনে বেরিয়েছে, এটা আদালতের বিষয়। তো কীভাবে বেরিয়েছে, আদালত কেন জামিন দিয়েছেন সেটা আদালতেরই বিবেচ্য বিষয়, আমাদের কোনো বিবেচ্য বিষয় না।’

‘তারা অনেকেই স্বভাবগত অপরাধী বলে চিহ্নিত। তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, অপরাধ সংঘটন করবে, এটা স্বাভাবিকভাবে আমরা ধারণা করতে পারি। কিন্তু পুলিশ কোনো অ্যাকশন নিতে গেলে সেক্ষেত্রে আমাদের আইনানুগভাবে যেতে হয়। কারও যদি অভিযোগ থাকে, থানায় মামলা থাকে, সেটা তদন্ত করে যেতে হয়,’ যোগ করেন তিনি।

রাজধানীতে সম্প্রতি একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হওয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেই বিষয় পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক আর যাই হোক, হত্যাকাণ্ড মানেই হত্যাকাণ্ড। সেটা আইনের আওতায় অবশ্যই আসবে। কেউ যদি সে বিষয়ে মামলা করে অথবা পুলিশ ইউডি (অপমৃত্যুর) মামলা করে, সেটা তদন্ত হবে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।’
মন্ত্রী জানান, তারা উত্তরাধিকার সূত্রে নাজুক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পেয়েছেন। এগুলোকে আবার পুনর্গঠন করা, শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা ও সুশৃঙ্খল করা একটু সময়সাপেক্ষ।

সেখানে আসলে কী ঘটেছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতি কেমন- তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় একটি পরিবহন স্ট্যান্ডের ইজারা এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হলেও পরবর্তীতে বন্ড নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং সব যানবাহনের নির্ধারিত ফি সাইনবোর্ডে লিখে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যটাই শুনতে হবে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শাসন ক্ষমতার বয়স মাত্র দুই মাস। আর এই সময়ের মধ্যে দেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশে জঙ্গিবাদ থাকা না থাকা নিয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে দুই ধরনের বক্তব্য। আজ সোমবার ৪ মে এমন সত্যতা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন।বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মতামত প্রকাশ করেন।

একদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ আছে।কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তা নেই। একই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদকর্মীদের বুজাতে চেয়েছেন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান কোথ্থেকে এই তথ্য পেয়েছেন সেটা জাহেদ উর রহমানই বলতে পারেন বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে সেটাই তো শুনতে হবে।’

পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের রুটিন ফাংশন যেগুলো- নিয়োগ, বদলি, প্রমোশন, রিটায়ারমেন্ট- এগুলো সবই আইনানুগভাবে করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। আর পদ সৃজনের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় পদ সৃজন করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি, অনুমোদন সাপেক্ষে। সেটা যখন যেখানে প্রয়োজন হয় আমরা করি। আর অন্য বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক এবং রুটিন বিষয়।’

বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ডিপার্টমেন্ট যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করে।’
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং দাগি আসামি জেলখানা থেকে বেরিয়েছে, আমরা তখন লক্ষ্য করেছি। এটা তারা জামিনে বেরিয়েছে, এটা আদালতের বিষয়। তো কীভাবে বেরিয়েছে, আদালত কেন জামিন দিয়েছেন সেটা আদালতেরই বিবেচ্য বিষয়, আমাদের কোনো বিবেচ্য বিষয় না।’

‘তারা অনেকেই স্বভাবগত অপরাধী বলে চিহ্নিত। তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, অপরাধ সংঘটন করবে, এটা স্বাভাবিকভাবে আমরা ধারণা করতে পারি। কিন্তু পুলিশ কোনো অ্যাকশন নিতে গেলে সেক্ষেত্রে আমাদের আইনানুগভাবে যেতে হয়। কারও যদি অভিযোগ থাকে, থানায় মামলা থাকে, সেটা তদন্ত করে যেতে হয়,’ যোগ করেন তিনি।

রাজধানীতে সম্প্রতি একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হওয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেই বিষয় পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সে শীর্ষ সন্ত্রাসী হোক আর যাই হোক, হত্যাকাণ্ড মানেই হত্যাকাণ্ড। সেটা আইনের আওতায় অবশ্যই আসবে। কেউ যদি সে বিষয়ে মামলা করে অথবা পুলিশ ইউডি (অপমৃত্যুর) মামলা করে, সেটা তদন্ত হবে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখানে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।’
মন্ত্রী জানান, তারা উত্তরাধিকার সূত্রে নাজুক অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পেয়েছেন। এগুলোকে আবার পুনর্গঠন করা, শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা ও সুশৃঙ্খল করা একটু সময়সাপেক্ষ।

সেখানে আসলে কী ঘটেছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতি কেমন- তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় একটি পরিবহন স্ট্যান্ডের ইজারা এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হলেও পরবর্তীতে বন্ড নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং সব যানবাহনের নির্ধারিত ফি সাইনবোর্ডে লিখে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।