ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পল্টা- পাল্টি হামলা বন্ধ না হওয়ায় তেলের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ না হওয়ায় তেলের সঙ্কটে পুড়ে মরছে বিশ্ব৷ বিশ্ব বাজারে আবারও বাড়ছে তেলের দাম৷

(৯ সেপ্টেম্বর) টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। একইসঙ্গে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কাও বাড়ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাত আরও জোরালো হওয়ায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাবে বুধবার এশিয়ার লেনদেনে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে তেলের দাম। এদিন দিনের শুরুতেই ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়েছে ১ ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাড়িয়েছে৷

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, আগস্টের শুরু থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আশা ফিকে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।

এদিকে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

আইএনজির বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আরও জোরালোভাবে দেখাচ্ছে যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। এর মধ্যে বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকির প্রভাব দামের ওপর পড়তে থাকবে।’

রয়টার্স বলছে, নতুন করে এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে তেল সরবরাহ ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অন্য পথে কিছু তেল রপ্তানি করছে। তবে সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং এর পর পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় তেল সরবরাহে আরও দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পল্টা- পাল্টি হামলা বন্ধ না হওয়ায় তেলের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ না হওয়ায় তেলের সঙ্কটে পুড়ে মরছে বিশ্ব৷ বিশ্ব বাজারে আবারও বাড়ছে তেলের দাম৷

(৯ সেপ্টেম্বর) টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। একইসঙ্গে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ায় তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কাও বাড়ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাত আরও জোরালো হওয়ায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাবে বুধবার এশিয়ার লেনদেনে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে তেলের দাম। এদিন দিনের শুরুতেই ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়েছে ১ ডলারের বেশি।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাড়িয়েছে৷

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, আগস্টের শুরু থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আশা ফিকে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।

এদিকে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

আইএনজির বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আরও জোরালোভাবে দেখাচ্ছে যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। এর মধ্যে বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকির প্রভাব দামের ওপর পড়তে থাকবে।’

রয়টার্স বলছে, নতুন করে এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে তেল সরবরাহ ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অন্য পথে কিছু তেল রপ্তানি করছে। তবে সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং এর পর পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় তেল সরবরাহে আরও দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’