দলীয় প্রতীকহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু, প্রস্তুত হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ৬১ বার পড়া হয়েছে
ঘনিয়ে আসছে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষন৷ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে মতে, আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট বরাদ্দসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে। সব মিলিয়ে, দলীয় প্রতীকহীন এই স্থানীয় নির্বাচন দেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে দলগুলোর জনপ্রিয়তা প্রমাণের এক নতুন ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে। যা কিনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ও বটে।
নতুন এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেল করতে রাজনৈতিক দলগুলো উঠে পড়ে নেমেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহনের লক্ষ্যে তৃণমুলের নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় বড় দলগুলো থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। যা কিনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অস্বস্থির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এমন বিপদ সংকেত মাথায় রেখেই ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলাকে বড় সাফল্যের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক ছাড়া হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে এবং তৃণমূলের বিভক্তি নিরসনে আগেভাগেই কৌশল সাজাচ্ছে দলটি। অন্যদিকে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীও নিজস্ব রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামছে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি তৃণমূল গোছাতে মরিয়া
জাতীয় নির্বাচন এবং ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য প্রথম বড় স্থানীয় পরীক্ষা। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই নির্বাচনকে শুধু জয়ের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
এ লক্ষ্যে কয়েকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। আর তা হচ্ছে- বিদ্রোহী প্রার্থী দমন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয়করণ করা।
দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একই এলাকা থেকে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নিজেকে দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দাবি করতে পারেন। এতে দলের সমর্থন বিভক্ত হতে পারে, পছন্দের প্রার্থী দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা পেতে পারেন।
এ কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ও পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীর পক্ষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সমর্থন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

এ ছাড়া নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোদ্দা কথা, দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে কেন্দ্র থেকে আগাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এমন কি স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থীও খোজা হচ্ছে। তবে তৃণমুলের কোন্দল মেটাতে হাইকমান্ড থেকে কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এমন কি প্রতিটি ইউনিটে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতেও নির্দেশ রয়েছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলার নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা শুরুও করে দিয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার জৈষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এক সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নেতারদের একজন জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলের পুনর্গঠন নিয়ে তারেক রহমান বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে দল একক প্রার্থী বেছে নেবে, সে বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পেতে পারেন। তবে দলীয় প্রতীক না থাকলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। একই এলাকা থেকে একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নিলে প্রত্যেকেই নিজেকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। এতে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রার্থী নির্বাচনে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেতৃত্বের। এ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য তৃণমূলের বিভক্তি নিরসন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা।
জামায়াত ও এনসিপির একক লড়াইয়ের প্রস্তুতি
জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এবার আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দিতে এবং জনগণের রায় নিজেদের পক্ষে টানতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার লড়াইয়ে দল দুটি দলের নীতিপ্রণেতারা এখনই নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ভোটের মাঠে অস্তিত্ব ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে এনসিপি
নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার বড় সুযোগ। আর তাই নবীন এই দলটির নেতারা স্থানীয় নির্বানকে ঘিরে কয়েকটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূল কমিটি পুনর্গঠন করা, জনসংযোগ ও উঠান বৈঠক করা, ইশতেহারে জোর দেয়া।

সারা বছর দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে ঝিমিয়ে পড়া কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করার কাজে হাত দিয়েছে এনসিপি নেতারা। বিএনপির আগ থেকেই দলটির নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা। এমন কি অনেক জায়গায় তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীতাও নির্ধারণ করে রেখেছেন। যারা ইতোমধ্যে নিজনিজ এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করছেন। বিগত দিনে জনগণের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তারা।
পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা ‘স্থানীয় নির্বাচনী ইশতেহার’ তৈরির পরিকল্পনা করছে দলটি।
এনসিপির এক সিনিয়র নেতা জানান, “আমরা এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। মাঠপর্যায়ে আমাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করার এবং জনগণের সেবায় যোগ্য প্রতিনিধি উপহার দেওয়ার এটিই সেরা সময়।”
সুসংগঠিত জামায়াতে ইসলামী
সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির আরেকটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত তাদের সুসংগঠিত ক্যাডারভিত্তিক শক্তি এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক আসনে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া। ইতোমধ্যে দলটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা নিয়ে মাঠ গোছানোর কাজে অনেক দূর এগিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে তাদের বেশ কিছু অবজারবেশন রয়েছে। প্রার্থী নির্ধারণে কয়েকটি গুণাগুন যাচাই-বাচাই করে থাকে। জামায়াতে ইসলাম তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোরতা অবলম্বন করে আসছে। তারা প্রথাগত প্রচারণার চেয়ে অন্তরালে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে যোগ্য, সৎ এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
যে ব্যক্তি সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত তাদের প্রার্থীতা নির্বাচনে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিশেষ করে যে সব ব্যক্তি বন্যা, শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজের মাধ্যমে দলটির নেতা-কর্মীরা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছেন, যা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশাবাদী তাদেরকেই নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
এছাড়া ভোটের দিন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই প্রতিটি বুথের জন্য বিশ্বস্ত পোলিং এজেন্টদের তালিকা তৈরি ও তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। পাশাপাশি তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের অবস্থান
বিগত সংসদ নির্বাচনের পর মাঠের রাজনীতি থেকে অনেকটা উধাও হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন এক বড় অনিশ্চয়তা। যেহেতু দলটি এখনো পর্যন্ত জুলাইয়ের অপকর্মের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির কাছে দু:খ্য প্রকাশ করেনি, কিংবা অনুতপ্ত প্রকাশ করেনি এমন কি দলটির কর্মকান্ডও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ছদ্মবেশে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়াটাও ঝুকি পূর্ণ। যদিও দলীয় প্রতীক না থাকায় এই নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থকদের যে কেউ এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। কিন্তু সরকার পতনের পর নানা ধরণের মামলা,নেতাদের দেশ ত্যাগ, কারাবাস থাকায় প্রকাশ্য কোন প্রস্তুতি নেই। করার সুযোগ ও নেই। তবে স্বতন্ত্র কৌশলের ছক নিয়ে দলটির অনেক প্রার্থী স্থানীয় পর্যায়ে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাধাটা হচ্ছে, জামায়াতসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি থাকা। এ কারণে তাদের প্রার্থী হওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।






















