রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ জেলায় মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রথম সফর
- আপডেট সময় : ০৪:২৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫০ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মস্থান ঠাকুগাাঁয়ে। যেখানে কৈশর-যৌবনের অনেকটা সময় পার করা।সোনালী অধ্যায়ের ছবিগুলো স্মৃতির সুতোয় যেখানে বাঁধা। সেখানে রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার যাওয়া হয়। ছয়মাসের মধ্যে আসা-যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এরপরেও আজ রোববার নিজ এলাকায় সফরটা ছিলো ভিন্ন এক মাত্রার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম নিজ এলাকায় সফর করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দু’দিনের সফরে ঠাকুগাঁও গেছেন তিনি। আজ দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের শহিদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন।
সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলা সার্কিট হাউসে যান। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের উৎসব উৎসব ভাব লক্ষণীয় ছিল। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও প্রস্তুত। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানো হয়েছে তোরণ ও আলোকসজ্জায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় জোরদার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা।
সফরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংবর্ধনা শেষে তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম লুৎফর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে তার। পরে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়বেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার নিজ জেলায় প্রথম সফর। ফলে তাকে একনজর দেখতে এবং বরণ করে নিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের পর আবার শিক্ষকতায় ফেরেন তিনি। পরে ১৯৮৮ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন এই দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
এরপর চলতি বছরের ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা সফরে এসে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ঠাকুরগাঁওয়ে দুদিন সময় কাটাবেন তিনি।






















