স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল
- আপডেট সময় : ০৭:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে ঘিরে জাতীয় সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন সংসদ অধিবেশন চলাকালে গত ৬ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন, নাকি ব্যর্থ হয়েছেন এমন প্রশ্নও তুলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা, সেটি দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ক্ষেত্রবিশেষ ৭ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢালাওভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে কিংবা এই সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এগুলো পল্টনে বক্তৃতার মতো। এটি সংসদ, সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। এ সময় সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ যেকোনো ঘটনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ নিয়ে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমরকে প্রশ্ন করার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে তার প্রশ্নের উত্তর দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এরপর এভাবে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে যেতে থাকে।
একপর্যায়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বক্তব্যকালে দেশে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সম্প্রতি সরকারদলীয় এমপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মিথ্যা মামলা করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ইস্যুতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চান।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেয়া আর সংসদে বক্তব্য দেয়া এক না।’ তার এমন মন্তব্যের পর সংসদে আবারও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যরা দাঁড়িয়ে গেলে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একই সময় স্পিকার বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিবৃত করারা চেষ্টা করেন।
এভাবে কয়েক মিনিট হট্টগোলের একপর্যায়ে স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বরাবরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন। এটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এই সংসদের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করতে হবে।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, জাতীয় সংসদে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের জন্য সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। সংসদ দেশের গর্ব, জনগণের প্রতিষ্ঠান। কিছু আইন-কানুন অনুসারে এই সংসদ পরিচালিত হয়। আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- ক্রমেই কিছু কিছু সংসদ সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ্য করছি।
সংসদ সদস্যের নিয়ম অনুযায়ী কথা ও যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের ঘটনায় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বহাল রাখা সব সংসদ সদস্যের কর্তব্য। এভাবে চলতে থাকলে সংসদ বেশিদিন চলবে না। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসংসদীয় কিছু বললে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন স্পিকার।




















