ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪০০

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নেপালে হিমবাহ ধসের কারণে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে। এছাড়া নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ আছেন। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি, এনডিটিভি ও এএফপি৷

এর আগে, গত বুধবার সকালে হিমবাহ ধসে পড়ার পর হিমালয়ের নদীগুলো দিয়ে প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও কাদা নেমে আসে। এর ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির প্রবল স্রোত গ্রাম ও উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে সংযুক্ত করা এবং পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি রয়েছেন।

নেপাল কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় জীবিতদের খুঁজছে এবং দুর্গম শহর ও উপত্যকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে স্রোতে ভেসে সমতল এলাকায় যাওয়া কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে দিবগা তামাং নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তামাং বলেন, ‘আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। তারা মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো আর কেউ নেই।’

এদিকে বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় আরও বড় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ওপর ধ্বংসাবশেষ জমে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা বাড়ছে এবং যেকোনো সময় বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি হ্রদে প্রবেশ করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪০০

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

 

নেপালে হিমবাহ ধসের কারণে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ জনে। এছাড়া নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ আছেন। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি, এনডিটিভি ও এএফপি৷

এর আগে, গত বুধবার সকালে হিমবাহ ধসে পড়ার পর হিমালয়ের নদীগুলো দিয়ে প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও কাদা নেমে আসে। এর ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির প্রবল স্রোত গ্রাম ও উপত্যকাগুলো ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে সংযুক্ত করা এবং পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি রয়েছেন।

নেপাল কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় জীবিতদের খুঁজছে এবং দুর্গম শহর ও উপত্যকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে স্রোতে ভেসে সমতল এলাকায় যাওয়া কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে দিবগা তামাং নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তামাং বলেন, ‘আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। তারা মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো আর কেউ নেই।’

এদিকে বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় আরও বড় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ভোতেকোশি নদীর ওপর ধ্বংসাবশেষ জমে একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেখানে পানির উচ্চতা বাড়ছে এবং যেকোনো সময় বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে চীন জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি হ্রদে প্রবেশ করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে