এমবাপ্পের গোলের রেকর্ড, সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের থ্রিলার
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ৯১ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপের এক ম্যাচ এতো রুপ এর আগে কখনো দেখা মিলেছে কিনা তা ইতিহাসই বলতে পারে। তবে ম্যাচটির এতো রুপ দেখে নেটিজেনরা অন্য রকম এক পাতানো ম্যাচের গন্ধ খুজে বেড়াচ্ছেন। ম্যাচ শেষে দু’দলের উচ্ছাসে সে সন্দেহ আরেকটু বাড়িয়ে দিতেই পারে। ফ্রান্সের হার নিয়ে দু:খ্য নেই। কারণ এমবাপ্পে গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে এগিয়ে গেছেন। অন্য দিকে নাক উচু জাতি ইংল্যান্ড তো হারতে চাইবে না। হয়েছোও তাই। তাই গোল কয়টা হলো সেটা নিয়ে দুই কোচের কারো ভিতর টেনশানের দেখা মিলেনি। যতোটা দেখা গিয়েছিলো সেমিফাইনালের লড়াইয়ে।

এটা হতে পারে বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে দলগুলোর অনীহার বহি:প্রকাশ। তবুও এমন ঘটনাবলী ম্যাচে মায়ামির দর্শকরা আজ যা দেখলেন, তা ফুটবল ইতিহাসের রূপকথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ১০ গোলের অতিপ্রাকৃতিক থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এটাই থ্রি-লায়ন্সদের সেরা ফুটবলীয় সাফল্য।
এই ম্যাচে একদিকে হ্যাটট্রিক করেছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা। অন্যদিকে, ফরাসিদের পরাজয়ের রাতেও জোড়া গোল করে ফুটবলের অনন্য এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে এখন সর্বোচ্চ গোলের মালিক তিনি। মেসি ৬ বিশ্বকাপে ২১ গোল আর এমবাপ্পে ৩ বিশ্বকাপে করেছেন ২২ গোল। বয়স বলছে আগামী বিশ্বকাপ অনায়াসে খেলতে পারবেন এই ফরাসী স্ট্রাইকার। সে অর্থে ২০৩০ বিশ্বকাপে গোলের খাতায় আরো অনেক বড় উচ্চতায় পৌছে যাবেন তিনি তাতে কোন সন্দেহ নেই।
আক্রমন-পাল্টা আক্রমন
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ৩ মিনিট, তখনই ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে লিড নেয় থমাস টুলির শিষ্যরা। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডিফেন্ডার এজরি কোন্সা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে শুরু হয় ‘বুকায়ো সাকা শো’। ফ্রান্সের রক্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের প্রথম ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এই গানার তারকা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) সাকা আবারও জালের দেখা পেলে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতির পর মাঠে নেমেই ফ্রান্স টপাটপ দুই গোল পরিশোধ করে। কিলিয়ান এমবাপ্পে নাম লিখান গোল রেকর্ডের খাতায়। পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলেও জোর দাবিদার হয়ে গেলেন।
প্রথমার্ধে চার গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ফ্রান্স দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয়। আক্রমণের নেতৃত্ব নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি। ঠিক ৬ মিনিট পর (৫৪ মিনিটে) তরুণ তুর্কি ব্রাদলে বারকোলার চমৎকার গোল ফ্রান্সের শিবিরে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন এমবাপ্পে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন (৪-৩)। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ। ফলে আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির ২১ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ যখন ফ্রান্সের দিকে হেলে পড়ার উপক্রম, ঠিক তখনই ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন সাকা (৫-৩)।
তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯০+৬ মিনিট) উসমান দেম্বেলে গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-৪। সমতায় ফেরার জন্য ফ্রান্স যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে যায়, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন জুড বেলিংহাম। ৯০+৮ মিনিটে তাঁর করা দর্শনীয় গোলে ৬-৪ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।





















