টাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ডের বাজিমাত, ভালো খেলেও বিদায় কলম্বিয়ার
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / ৭৩ বার পড়া হয়েছে
মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করেও শেষরক্ষা হলো না কলম্বিয়ার। টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় বাজিমাত করল সুইজারল্যান্ড। শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে সুইসরা। যেখানে শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে উঠার সেই লড়াই রোববার সকাল সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম—অর্থাৎ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠল ইউরোপের দেশটি। যদিও ২০০৬ থেকে প্রতিটি আসরেই তাদের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু প্রতিবার দৌড় থেমে যাচ্ছিল প্রথম বা দ্বিতীয় রাউন্ডে। অবশেষে বারবার আটকে যাওয়া সেই ভাগ্যের গেরো খুলেছে সুইজারল্যান্ড। ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইসরা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করতে মরিয়া হয়ে লড়েছে দুই দলই। বিশেষ করে কলম্বিয়া বেশ কিছু দারুণ আক্রমণ শানালেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের খোঁজে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল কলম্বিয়ার। প্রথমার্ধে তারা বলের দখল, শট, কর্নার এবং প্রতিপক্ষের বক্সে প্রবেশ—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল। সুইজারল্যান্ডকে প্রথম ৪৫ মিনিটেই ১৭ বার বল ক্লিয়ার করতে হয়, যেখানে কলম্বিয়াকে একই কাজ করতে হয়েছে মাত্র পাঁচবার।
বিরতির পরও একই চিত্র দেখা যায়। কলম্বিয়া একের পর এক আক্রমণ গড়লেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও তাদেরও ফরোয়ার্ডরা ছিলেন নিষ্প্রভ।
ভাগ্য হাসল সুইসদের পক্ষে
পেনাল্টি শুটআউট মানেই স্নায়ুর চাপ আর ভাগ্যের খেলা। টাইব্রেকারে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যেই চরম উত্তেজনা দেখা যায়। কয়েকটি হতাশাজনক শটের পাশাপাশি দেখা মিলেছে দুর্দান্ত কিছু পেনাল্টির। তবে শেষমুহূর্তে সুইজারল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টিটি নেন রুবেন ভার্গাস। চরম ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে সুইজারল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সুইস শিবির।
টাইব্রেকারে প্রথম শটে গোল করে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। জবাবে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় শটে কলম্বিয়ার খেলোয়াড় ব্যর্থ হলে সুবিধা নেয় সুইসরা এবং নিজেদের দ্বিতীয় কিকে গোল করে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তৃতীয় শটে কলম্বিয়া গোল করলেও সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় শট প্রতিহত হওয়ায় আবার সমতা ফিরে আসে। চতুর্থ শটে কলম্বিয়ার আরেকটি মিস তাদের বড় চাপে ফেলে দেয়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সুইজারল্যান্ড গোল করে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পঞ্চম শটে কলম্বিয়া গোল করে লড়াই টিকিয়ে রাখে। এরপর সুইজারল্যান্ডের শেষ শটও জালে জড়িয়ে গেলে ৪–৩ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় তাদের নাটকীয় জয়।
পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোল করতে না পারার খেসারত দিল কলম্বিয়া। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড ধৈর্য, শৃঙ্খলিত রক্ষণ এবং টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্ত সাফল্য তুলে নেয়।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়ার সুযোগ পেল সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কলম্বিয়াকে।



















