পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়র্টারে স্পেন, শেষ মুহূর্তে নায়ক মিকেল মেরিনো
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
- / ৫৯ বার পড়া হয়েছে
মনে হচ্ছিলো যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল কোন ম্যাচ। ফাইনালের আগের ফাইনাল বললেও যেন ভুল হবে না! কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পরস্পরের লড়াইটি বলে দিচ্ছিলো সে কথা। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে ম্যাচটিতে শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ছিলো প্রাণের সঞ্চলন। আইবেরিয়ান দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে কে যে হাসবে শেষ হাসি বলাই ছিলো মুশকিল।
শেষ টাইব্রেকার পর্যন্ত ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাবনাই দেখা দিয়েছিলো। ঘড়ির কাটা কেবল নব্বই মিনিটের ঘর অতিক্রম করেছে। যোগ করা হয়েছে আরো ছয় মিনিট। অতো দূর যেতে হয়নি। প্রথম মিনিটেই পর্তুগালের জালে গোলের পেরেকটি মেরে দিয়েছে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। ফেররান তোরেসের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানে শেষ হয় ম্যাচ। উল্লাসে ফেটে পড়েন স্প্যানিশরা।
পরাজয়ে কাঁদলেন রোনালদো। স্তব্ধ পর্তুগীজ সমর্থকরা। এই পরাজয় দিয়েই যে ব্রাজিলের নেইমারের মতো ক্রিস্টিয়ানোর রোনালদোরও ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো। চার বছর পর তাদের আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না। বয়স তাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে। রোনালদোর মতো বিশ্বকাপের অনেক সুপার স্টারদেরও ফিফা বিশ্বকাপে ইতি ঘটতে যাচ্ছে।


তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফুটবল অনেক খ্যাতি থাকলেও বিশ্বকাপ মঞ্চে তার একটা আক্ষেপ থেকেই গেলো। তার নেতৃত্বে ইউরো জিতেছে পর্তুগাল, ক্লাব ফুটবলে জিতেছে অনেক ট্রফি। কিন্তু বিশ্বকাপের ট্রফিটা তার ছোঁয়া হলো না।
ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই বেশ সতর্ক ফুটবল খেলে। বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল স্পেন, তবে পর্তুগালও পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দুই গোলরক্ষক উনাই সিমন ও দিয়োগো কস্তা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ, ম্যাচের উত্তেজনা ধরে রাখেন।

স্পেনের হয়ে লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনা কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে লিড পেয়েই যেত স্পেন। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন ওইয়ারজাবাল। তার সামনে ছিল কেবল পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। কিন্তু ওইয়ারজাবালের নেওয়া শটটি লক্ষ্যে ছিল না। সাইডবারের পাশ দিয়ে চলে যায় বলটি। সে যাত্রায় বেঁচে যায় পর্তুগাল।
আবার ক্ষণেই আক্রমণে উঠে পর্তুগাল। বুলেট গতির এক শট নেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বীরত্বের সঙ্গে শটটি কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তিন মিনিট পর ডাবল সেভ করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক।
যদিও এই ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কঠোর নজরদারিতে রাখে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স ও পেদ্রো নেতো চেষ্টা চালালেও স্পেনের সংগঠিত ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হন তারা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্রুত নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বল পৌঁছে যায় মিকেল মেরিনোর কাছে। সুযোগ বুঝে ডান পায়ের নিখুঁত শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার প্রবল চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও স্পেনের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন আর কোনো সুযোগ দেননি। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেনের খেলোয়াড়রা, আর হতাশায় মাঠ ছাড়েন রোনালদো ও তাঁর সতীর্থরা।
এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।



















