ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

গ্রাহকরা চাচ্ছেন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ,আইন মেনেই নেয়া হবে ইসলামী ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামীব্যাঙ্কের নতুন চেয়ারম্যান মো.খুরশিদ আলমের বহিস্কারের দ‍াবিতে গ্রাহকদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে মাঠে নেমেছে। আজ সোমবার ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রথম অফিস দিবসেই এই আন্দোলন করেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। তাদের একটাই দাবি- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ চাই। এর আগে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে ইসলামী ব্যাঙ্কের সামনে গ্রাহকদের এই আন্দোলন কতোটা যুক্তিযুক্ত। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদ কি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নির্ধারণ করবে, নাকি গ্রাহক সমন্বয় গোষ্ঠী। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে রাস্তার কোন আন্দোলনে ব্যাঙ্কের কোন সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে না। ব্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন গ্রাহকরা আন্দোলন করতে পারে কেবল ব্যাঙ্কে জমা রাখা টাকার নিরাপত্ত‍া নিয়ে। যদি তারা এই ব্যাঙ্কে টাকা রাখা নিরাপদ মনে না করেন তাহলে অন্য যে কোন ব্যাঙ্কেই টাকা রাখার সুযোগ আছে। তবে ব্যাঙ্কের ভালোমন্দ বিবেচনার বিষয়টি দেখবাল করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

গ্রাহকদের অন্যার্য আন্দোলনের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যে কোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তিনি বলেন, আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই সিদ্ধান্ত হবে। সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এই মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম (জুমে) আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গ্রাহকরা চাচ্ছেন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ,আইন মেনেই নেয়া হবে ইসলামী ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক

আপডেট সময় : ০৮:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ইসলামীব্যাঙ্কের নতুন চেয়ারম্যান মো.খুরশিদ আলমের বহিস্কারের দ‍াবিতে গ্রাহকদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে মাঠে নেমেছে। আজ সোমবার ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রথম অফিস দিবসেই এই আন্দোলন করেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। তাদের একটাই দাবি- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ চাই। এর আগে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে ইসলামী ব্যাঙ্কের সামনে গ্রাহকদের এই আন্দোলন কতোটা যুক্তিযুক্ত। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদ কি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নির্ধারণ করবে, নাকি গ্রাহক সমন্বয় গোষ্ঠী। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে রাস্তার কোন আন্দোলনে ব্যাঙ্কের কোন সিদ্ধান্ত নির্ধারণ হবে না। ব্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন গ্রাহকরা আন্দোলন করতে পারে কেবল ব্যাঙ্কে জমা রাখা টাকার নিরাপত্ত‍া নিয়ে। যদি তারা এই ব্যাঙ্কে টাকা রাখা নিরাপদ মনে না করেন তাহলে অন্য যে কোন ব্যাঙ্কেই টাকা রাখার সুযোগ আছে। তবে ব্যাঙ্কের ভালোমন্দ বিবেচনার বিষয়টি দেখবাল করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

গ্রাহকদের অন্যার্য আন্দোলনের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যে কোনো ইস্যুতে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তিনি বলেন, আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই সিদ্ধান্ত হবে। সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এই মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম (জুমে) আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।