লুটেরাদের জন্য ব্যাংক খাতে ফেরা পথ বন্ধ, জানালেন গভর্নর
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যাংক খাতে লুটেরাদের জন্য ব্যাংক খাতে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর কখনও ব্যাংক খাতে ফিরে আসতে পারবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের পক্ষে ভবিষ্যতে ব্যাংক পরিচালনা বা মালিকানায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
গভর্নর আরও জানান, ব্যাংক একীভূতকরণের (মার্জার) মাধ্যমে যেসব ব্যাংককে একত্র করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় আলাদা বা ভেঙে দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেয়া একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই অবস্থানকে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, আমরা গভর্নরকে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। যারা ব্যাংকিং খাতের টাকা লুট করেছে, তারা যদি এই ধারার সুবিধা নিয়ে ফিরে আসে, তবে পুরো খাতটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তবে গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আইনে এমন কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে, যা পূরণ করে অনিয়মকারীদের ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যাংক খাতকে আবারও ঝুঁকিতে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে না।
বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা মার্জার নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইতোমধ্যে যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই বলে গভর্নর জানিয়েছেন।
তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংক একীভূত করার আগে যেন পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়-এমন পরামর্শ দিয়েছে বিএবি। গভর্নরও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা সচল করতে বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আব্দুল হাই সরকার বলেন, ব্যাংকগুলো চলতি মূলধন সহায়তা দিতে পারে। তবে কেন কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা সচল করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ সুবিধা সবাই পাবে না। শুধুমাত্র আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ক্রয়াদেশ রয়েছে, তারাই এই তহবিলের আওতায় আসতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তাদেরই এ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান আবারও সচল করা যায়।





















