মিরপুরের উইকেটে ব্যাটারদের দাপট,চলছে রানের প্রতিযোগিতা
- আপডেট সময় : ০৭:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনেই ব্যাটারদের আধিপত্য। তৃতীয়দিন উইকেটের আচরণ বদলাবে না তো! টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট কখন যে বদলে যায় বলা মুশকিল। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরের উইকেট এখনো ব্যাটারদের দখলেই বলা যায়। দু’দিনে দুৃ’দলের ব্যাটারদের ব্যাটিং প্রদর্শনেই মিলছে এমন বার্তা । তবে দিনশেষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ২৩৪ রানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ থেকে যেন ক্রমাগত দূরেই সরে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। ৪১৩ রানে প্রথম ইনিংস গুড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশ আজ ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিলো। জবাবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সূচনাটাও চমৎকার, দিনটাও শেষ হয় ১ উইকেটে ১৭৯ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে দারুণ শুরু করেন আজান এওয়াইস ও ইমাম-উল-হক। বিশেষ করে আজান দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। এই তরুণ ব্যাটার নিজের অভিষেক ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। এগোচ্ছেন সেঞ্চুরির পথে দিনশেষে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার আবদুল্লাহ ফজলও দিনশেষে অপরাজিত থেকেছেন ৩৭ রানে।
পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২২ ওভার। দিনের একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এই ডানহাতি স্পিনার লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন ইমামকে। ৪৫ রান করে এই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।
এর আগে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে মুশফিক সিঙ্গেল নিয়ে হাফসেঞ্চুরি করেছেন। ভালো শুরু পেয়েছেন অপর সঙ্গী লিটন দাসও। টানা তিনটি চার হাঁকান আফ্রিদির এক ওভারে। যদিও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। স্লিপে একবার জীবন পেলেও মুহাম্মদ আব্বাসের বলে বিলাসী শট খেলার চেষ্টায় ৬৭ বলে ৩৩ রানে তালুবন্দী হয়েছেন লিটন। এরপর একটি করে চার-ছক্কায় ১০ রান করে ইমাম-উল-হককে ক্যাচ শিখিয়ে ফিরেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনিও আব্বাসের শিকার।
পাকিস্তানি এই পেসারের বলে পুল করতে গিয়ে তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রানে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। অল্প সময়ের ব্যবধানে মুশফিক-এবাদত ফিরে যাওয়ায় বাংলাদেশের ইনিংস আরও লম্বা না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে মুশফিকের সেঞ্চুরির আশা জাগলেও, ফেরার পর তৃতীয় বলেই শাহিন আফ্রিদির দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান। কিছুটা ভেতরের দিকে ঢুকে ভেঙে দেয় মিস্টার ডিফেন্ডেবলের স্টাম্প। এর আগে ফিফটি করেই বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২টি পঞ্চাশোর্ধ টেস্ট ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েন মুশফিক।
পরের ওভারেই এবাদত ১০ বলে রানের খাতা না খুলতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। শেষদিকে ৩৯ বলে ২৯ রানের জুটি গড়েন তাসকিন-নাহিদ রানা। এর মধ্যে রানার ৪ রান বাদে বাকিটা হয়েছে তাসকিনের মারমুখো ব্যাটে। ইনিংসে পাকিস্তানের সেরা বোলার আব্বাসকে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি দলীয় রান চারশ পার করেন। শাহিনের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ২৮ রান।
দ্বিতীয় দিনের দেড় সেশনে বাংলাদেশ ১১২ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে। ৩৯তম জন্মদিনে মুশফিকের ২৯তম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউই বলার মতো রান পাননি। মুশফিক ১৭৯ বলে ৮টি চারের বাউন্ডারিতে ৭১ রানে আউট হওয়ার আগে লিটন দাস ৩৩ রান করেন। এরপর তাসকিনের ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসেই বলতে গেলে চারশর বৈতরণী পার হয়েছে বাংলাদেশ।



















