ভাড়ার সাথে জীবন যাত্রার মান জড়িয়ে,জনগনকে এই কষ্ট মেনে নিতে হবে : ডা.জাহিদুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির সাথে সাথেই বাস মালিক সমিতি বাসভাড়া কয়েকগুন বাড়ানোর দাবি তুলেছে। বাস মালিকদের এমন আচরনে হতবিহবল সাধারণ মানুষ। যদি তাই হয় তাতে জীবন যাত্রার মান কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও প্রত্যাশার জায়গা হচ্ছে সরকার থেকে এখনো বাস মালিক সমিতিদের অযৌক্তিক দাবি এখনো মানা হয়নি। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যৌক্তিকভাবে পরিবহন ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। জনগণকে কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এদিন সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ডা.জাহেদুর রহমান বলেন, যানবাহনের ভাড়া নিয়ে একটা সংকট হচ্ছে। যেহেতু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, তাই এখন জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি এটা যৌক্তিকভাবে হবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে সরকারের সঙ্গে। জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে এসি বাসের ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে এবং আসন্ন ঈদে সেটা কার্যকর করা হবে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর পরিবেশ মানোন্নয়নে বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাড়া শুধু বাস না, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। সরকারের কাজ কিন্তু শুধু জনগণ বলতে যাদের বুঝি ভোক্তার স্বার্থরক্ষা নয়, একটা কথা মনে রাখতে হবে। একটা সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার। যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তারও সরকার। সুতরাং তার ওপরও এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে তার ব্যবসা না হতে পারে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, সরকার কিন্তু কারও পক্ষ নয়, সরকার সবার। সরকার চেষ্টা করবে এমন একটা পয়েন্টে আসা যেখানে সবার কম ক্ষতি হয়। আমরা খেয়াল করি, আমি আগে একদিন বলেছিলাম—এ সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে, এটা মেনে নিতে হবে। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখনই তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য ওই অজুহাতে যতটুকু বাড়ার কথা তার চাইতে অনেক বেশি বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করবো আসলে এই জিনিসটা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। জনগণকে আবারও বলছি কিছুটা কষ্ট করতে হবে, প্রত্যেকটা মানুষ কষ্ট করছে।
তিনি বলেন, আমাদের তো অলরেডি ফ্যামিলি কার্ডের একটা স্টেপ হয়েছে যেটা পাইলট। এই বাজেটে আমরা ৪০ লাখ মানুষকে নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেব, যাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা কেউ কেউ পত্রিকায় হয়তো দেখেছেন, এই বরাদ্দ রাখার জন্য আইএমএফের সঙ্গে সম্ভবত আমাদের নেগোসিয়েশনে কিছু ইস্যু তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকার জনগণের, সবচেয়ে ভালনারেবল, সবচেয়ে দরিদ্র জনগণের পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত কিন্তু অটল থাকবে। শুধু সেটা নয়, প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আরও অনেক বেশি মানুষকে তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। সুতরাং সরকার জনগণের পাশে নিশ্চয়ই থাকবে।
ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় আটটি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত—মানে আমরা যখন ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করি, ফুটপাত আসলে হকারদের জন্য নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, এটা হাঁটার জন্য; নামই ফুটপাত। কিন্তু আমাদের এই সংকট যেহেতু আছে, তাদের কীভাবে আমরা কোনোভাবে প্রোভাইড করতে পারি সেই চেষ্টাটা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটানোর জন্য মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য ঢাকা ছাড়া আরও অনেকগুলো জেলায় এটা করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন হলেও সবগুলো জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি জ্বালানি গ্রহণ করা যাবে না। রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকলে ঢাকার যেসব উন্মুক্ত পাম্প আছে সেগুলোতে গ্রহণ করতে পারবে। এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ১ লাখ ৭০ হাজার প্লাস।



















