না ফেরার দেশে চলে গেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর
- আপডেট সময় : ০৩:২৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে অসুস্থ বোধ করার কথা এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন নানা পাটেকর। পরে ভোরের দিকে তাঁকে বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর তাঁর ছেলে মালহার পাটেকরও নিশ্চিত করেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকর অভিনয়জীবন শুরু করেন মঞ্চে। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং তীব্র পর্দা-উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে তিনি সমান্তরাল ধারার চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা—দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘প্রহার’, ‘খামোশি’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। মীরা নায়ারের ‘সালাম বোম্বে!’-তেও অভিনয় করেন তিনি। চরিত্রের বৈচিত্র্য ও সংলাপ উপস্থাপনের নিজস্ব ধরন তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পাটেকর পেয়েছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত করে। মারাঠি ও হিন্দি—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই তাঁর অবদান তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের দীর্ঘস্থায়ী পরিচিত মুখে পরিণত করে।
মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল এই অভিনেতাকে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারাল এমন এক শিল্পীকে, যাঁর অভিনয়ের তীব্রতা, কণ্ঠস্বর ও চরিত্র নির্মাণের স্বাতন্ত্র্য দর্শকের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





















