গঙ্গা চুক্তি ও পদ্মা ব্যারেজে সময়সীমা জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করা। একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে যাওয়ার আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে আগামী বছরই প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য গঙ্গা চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে আলোচনায় কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনরায় যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
১৯৭৭ সালের চুক্তিতে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম পরিমাণ পানি দেওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে শুধু পানির হিস্যা নির্ধারণ নয়, নদীর প্রবাহ, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানির নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তিনি আশা করছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও আশার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান হবে।
দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের ওপর প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ব্যারেজ নির্মাণ হলে পদ্মার পানি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তৃত অঞ্চলে কৃষি, নৌপথ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার পর আগামী বছর মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদীভাঙন, বন্যা এবং কৃষিনির্ভর মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বহুমুখী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা বাড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার।
সেমিনারে পানির ভবিষ্যৎ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা নদী ও পানি ব্যবস্থাপনাকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তা প্রকল্প এবং পদ্মা ব্যারেজ—তিনটি উদ্যোগই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অগ্রগতি এবং আগামী বছর পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্পে দৃশ্যমান কাজ শুরু হলে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।




















