ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আহবান’-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হলে সবার আগে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।
 রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মাদক কেবল একটি জীবন বা পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটায় এবং জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এক অনন্য ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা পার করছে, যেখানে যুব সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কারিগর এই তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু মাদক যুব সমাজের এই বিপুল সম্ভাবনাকে গ্রাস করছে। তিনি বলেন, তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও শক্তিকে দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আর সেজন্যই তরুণদের নিজেদের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অপসংস্কৃতির ভিড়ে তরুণরা যেন পথ না হারায়, সেজন্য আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সুস্থ সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। তরুণদের নিয়মিত সাহিত্য চর্চা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, একটি সৃজনশীল ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় সংগঠন ‘আহবান’-এর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘সায়েন্স ফেস্ট’, ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’, দরিদ্রদের মাঝে ‘শীতবস্ত্র বিতরণ’ এবং করোনাকালীন মানবিক সহায়তার মতন কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করবে। তিনি সংগঠনটিকে তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের কৃষি, স্থানীয় অর্থনীতি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ সমাজ যদি আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান ব্যবহার করে কৃষি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তবে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
তরুণদের অঙ্গীকার ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
সাক্ষাৎকারকালে ‘আহবান’-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা রাষ্ট্রপতিকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা সর্বদা অগ্রভাগে থাকবেন। একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্ম তাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা বিলিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বঙ্গভবন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আহবান’-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের মেধা ও শক্তিকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হলে সবার আগে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।
 রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মাদক কেবল একটি জীবন বা পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটায় এবং জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এক অনন্য ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা পার করছে, যেখানে যুব সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কারিগর এই তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু মাদক যুব সমাজের এই বিপুল সম্ভাবনাকে গ্রাস করছে। তিনি বলেন, তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও শক্তিকে দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আর সেজন্যই তরুণদের নিজেদের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অপসংস্কৃতির ভিড়ে তরুণরা যেন পথ না হারায়, সেজন্য আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা, সুস্থ সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। তরুণদের নিয়মিত সাহিত্য চর্চা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, একটি সৃজনশীল ও মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় সংগঠন ‘আহবান’-এর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘সায়েন্স ফেস্ট’, ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’, দরিদ্রদের মাঝে ‘শীতবস্ত্র বিতরণ’ এবং করোনাকালীন মানবিক সহায়তার মতন কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করবে। তিনি সংগঠনটিকে তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজের আহ্বান
রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের কৃষি, স্থানীয় অর্থনীতি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ সমাজ যদি আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান ব্যবহার করে কৃষি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তবে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
তরুণদের অঙ্গীকার ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
সাক্ষাৎকারকালে ‘আহবান’-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা রাষ্ট্রপতিকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা সর্বদা অগ্রভাগে থাকবেন। একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্ম তাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা বিলিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বঙ্গভবন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।