ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয় : হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক না হওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া কিংবা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানানো প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।

রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তি যাতে জাতীয় সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল অথবা সরকার অনুমোদিত স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে করা ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার বিধান করারও দাবি জানানো হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, বর্তমানে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরি, বিশেষ করে পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের বিধান রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন—তাই নির্বাচনে প্রার্থীদের মাদকমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কার্যকর পরীক্ষাব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে রিটে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, শুধু ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করাই নয়, পরীক্ষায় মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে কিংবা কোনো প্রার্থী পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতা নির্ধারণের জন্যও আইনি কাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ধূমপান ও মাদকবিরোধী ফাউন্ডেশন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছিল।

তবে হাইকোর্টের জারি করা রুলের ফলে এখনই নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাচ্ছে না। রুলের মাধ্যমে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বিবাদীদের জবাব এবং পরবর্তী শুনানির পর আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।

ফলে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাদক পরীক্ষা যুক্ত করার বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় এসেছে। রুলের জবাব এবং পরবর্তী শুনানিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয় : হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক না হওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া কিংবা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানানো প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।

রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তি যাতে জাতীয় সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন করে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল অথবা সরকার অনুমোদিত স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে করা ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার বিধান করারও দাবি জানানো হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, বর্তমানে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরি, বিশেষ করে পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের বিধান রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন—তাই নির্বাচনে প্রার্থীদের মাদকমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কার্যকর পরীক্ষাব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে রিটে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, শুধু ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করাই নয়, পরীক্ষায় মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে কিংবা কোনো প্রার্থী পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতা নির্ধারণের জন্যও আইনি কাঠামো প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ধূমপান ও মাদকবিরোধী ফাউন্ডেশন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছিল।

তবে হাইকোর্টের জারি করা রুলের ফলে এখনই নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হয়ে যাচ্ছে না। রুলের মাধ্যমে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। বিবাদীদের জবাব এবং পরবর্তী শুনানির পর আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।

ফলে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাদক পরীক্ষা যুক্ত করার বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় এসেছে। রুলের জবাব এবং পরবর্তী শুনানিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।