আশিয়ান কাপে হারের বৃত্তেই থেকে গেলেন হামজরা
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০৩ বার পড়া হয়েছে
ফিফা-আসিয়ান কাপের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠল হতাশার। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারতে হলো।তবে সান্ত্বনার জায়গাটা হচ্ছে গোলের ব্যাবধানটা বড় নয়, ১-০ গোলের লড়াকু হার। প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করেও জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩৫তম মিনিটে রায়ান স্টুয়ার্টের করা একমাত্র গোলে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে রক্ষণ একটু সতর্ক হলে হয়ত এই গোলটি খেতে হতো না।
তবে টানা দুই পরাজয়ে বিদায় টুর্নামেন্ট নিশ্চিত হয়ে গেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। দুই ম্যাচে একটি গোলও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে আসর থেকে পয়েন্ট পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো লাল-সবুজের দলের।
যদিও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটায় বাংলাদেশ বেশ আশাব্যঞ্জক ফুটবল খেলেছিল। কিক অফের প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল হামজা- জামাল ভূঁইয়ারা। দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। জামালের নেওয়া কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বক্সে থাকা বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় বলের নাগাল পাননি। ১৫তম মিনিটে রাকিব হোসেন বল পায়ে সিঙ্গাপুরের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়লেও তাঁকে অনুসরণ করে বক্সে ঢোকার মতো সতীর্থ না থাকায় আক্রমণটি আর পূর্ণতা পায়নি।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় সিঙ্গাপুর। ১৬তম মিনিটে ইলহান ফান্দির শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন গোলকিপার মেহেদী হাসান। ওই আক্রমণ থেকেই পরপর দুটি কর্নার পায় সিঙ্গাপুর।
৩৩তম মিনিটে আবারও বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেন মেহেদী। বক্সের ঠিক বাইরে ডান দিকে ফ্রি-কিক পায় সিঙ্গাপুর। বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।
তবে দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। ৩৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান রায়ান স্টুয়ার্ট। তাঁর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর।
গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ডান দিক থেকে নেওয়া একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় সিঙ্গাপুর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধার ধরে রাখে সিঙ্গাপুর। ৪৭তম মিনিটে নেওয়া একটি শট লাফিয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠান মেহেদী। ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় এরপর একের পর এক পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ।
৫৭তম মিনিটে শেখ মোরছালিনের বদলে মাঠে নামেন মিনহাজুল করিম। জাতীয় দলের হয়ে ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটি ছিল অভিষেক। ৭১তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে বাংলাদেশ। শমিত সোমের বদলে সোহেল রানা এবং শুকি ইতোফুসার বদলে মাঠে নামেন ফাহামিদুল ইসলাম।
বদলি হিসেবে নেমে বাঁ প্রান্তে গতি বাড়ান ফাহামিদুল। তাঁর গতি ও আক্রমণাত্মক দৌড়ে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও গোলের মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
৭৯তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে উঠে ফাহামিদুলের করা ক্রস থেকে ভালো সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। রাকিব হোসেনের হেড অবশ্য সিঙ্গাপুরের গোলকিপার ঠেকিয়ে দেন। শেষ দিকে এটিই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি।
গোলের আশায় শেষ দিকে রক্ষণ ছেড়ে ওপরে উঠে খেলেন হামজা চৌধুরীও। কিন্তু সিঙ্গাপুরের জমাট রক্ষণ ভাঙার পথ খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর আরও ছয় মিনিট যোগ হলেও সমতাসূচক গোলের দেখা মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। আর টানা দুই ম্যাচে হেরে ফিফা-আসিয়ান কাপের শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ল বাংলাদেশ।























