আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস দর্শক টানতে পারেনি মাঠে, হতাশ আয়োজকরাও
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭৪ বার পড়া হয়েছে
জাপানের আইচি-নাগোয়া সিটিতে চলছে ষোলদিন ব্যাপী এশিয়ান গেমস। আজ অস্টম দিন। পদক লড়াইয়ে বরাবরই চীন সবার উপরে। অনেকটা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। ১৭৩টি পদক ঘরে তুলেছে দেশটি। যার মধ্যে ১০৫টি হচ্ছে স্বর্ণ পদক।
গেমস শেষ হতে আরো সাতদিন বাকি। কিন্তু এখন থেকেই যেন গেমসের বিদায়ের সুরে বেজে উঠছে। সেই সাথে হতাশা বিরাজ করছে আয়োজকদের কাছেও। তবে গেমসের বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠার সময় বলে কথা নয়, তাদের হতাশা এবারের এশিয়ান গেমসে দর্শক অনুপস্থিতি নিয়ে। পর্যটকই শুধু নয়, স্থানীয়দের মধ্যেও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি এবারের এশিয়ান গেমস।
জাপানের প্রধান স্টেডিয়াম ও অন্যান্য ভেন্যুতে গ্যালারির বড় একটি অংশ খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। টিকিট বিক্রি নিয়ে যে আয়োজকরা সন্তুষ্ট নয়, সেটা এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা শনিবার স্বীকারও করেছেন।
যেকোনো গেমসের অন্যতম আকর্ষণ হলো ১০০ মিটার স্প্রিন্ট বা দৌড় প্রতিযোগিতা; অথচ শুক্রবার রাতে এই প্রধান ইভেন্টগুলোর সময় ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসন পূর্ণ ছিল।
সপ্তাহান্তের শুরুতে মিসাকি মোরোতার পোল ভল্টে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনাও স্থানীয় দর্শকদের বড় সংখ্যায় স্টেডিয়ামমুখী করতে পারেনি। আইচি-নাগোয়া গেমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটবলসহ আটটি খেলার জন্য ৬০ শতাংশেরও কম টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং সমপরিমাণ টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্যও।
এবারের এশিয়ান গেমসের দ্রুততম মানব হচ্ছে থাইল্যান্ডের পরিমল বনসন। তিনি সময় নিয়েছেন ৯.৯০ সেকেন্ড সময়। একশ মিটার দৌড়ে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমাানুর রহমান ১০.৪৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সপ্তম হয়েছেন। অন্যদিকে দ্রুত মানবী হয়েছেন চীনের চেন ইউজি। তিনি সময় নিয়েছেন ১১.০৬ সেকেন্ড। দু’টোতেই গেমস রেকর্ড হয়েছে। অথচ এই ইভেন্টেই ছিল দর্শক শুন্য।
গেমস আয়োজক কমিটির মহাসচিব সাতোশি মুরাতে বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট নই।” তিনি আরও বলেন, “স্টেডিয়াম পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাব, টিকিট বিক্রি অব্যাহত রাখব এবং যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা যেন সত্যিই মাঠে আসেন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”
তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ৯০ শতাংশেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল; তবে প্যারেডরত ক্রীড়াবিদ ও গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলনের সময় গ্যালারির বড় অংশ খালি পড়ে থাকার জন্য তিনি দর্শকদের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয় টিকিট বিক্রি ভালোই হয়েছে।” “তবে এটাও চোখে পড়েছে যে কিছু প্রতিযোগিতার সময় গ্যালারিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি ছিল।এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, কিছু সেশনে একদিনে একাধিক ম্যাচ থাকে। তখন সবাই মূল বা আকর্ষণীয় ম্যাচটির দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পনসরদের মতো গেমসের অংশীজনদের যেসব টিকিট দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সবসময় ব্যবহার করা হয়নি।“আসন বরাদ্দ করা হলেও অনেকে হয়তো আসতে পারেননি।” “এর ফলে কিছু প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি থেকে গেছে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।” থাকার ব্যবস্থা ও যাতায়াত সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার জন্যও মুরাতে ক্ষমা চেয়েছেন।
বেশ কয়েকটি দল আয়োজকদের তীব্র সমালোচনা করেছে। থাইল্যান্ড এই পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলার সাথে তুলনা করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে যে আয়োজকরা ‘ফেল করার মতো বা অকৃতকার্য হওয়ার মতো’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো ১৭,০০০ অংশগ্রহণকারীর জন্য পর্যাপ্ত কক্ষের অভাব; বিমানবন্দরগুলোতে বিলম্ব এবং ভাসমান হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত ক্রুজ শিপে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বিষয়টি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
খরচ কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে কোনো প্রথাগত ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ বা ক্রীড়াবিদদের আবাসন এলাকা তৈরি করা হয়নি। এর পরিবর্তে বিভিন্ন দলের সদস্যরা কন্টেইনার-ধাঁচের অস্থায়ী ঘর, হোটেল এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজ শিপে অবস্থান করছেন।
পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত বাসগুলো অনেক সময় দেরিতে এসেছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদৌ আসেনি।
এছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কাবাডি খেলার সময় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানোটা ছিলো আয়োজকদের মারাত্মক অপরিপক্কতার পরিচয়।
মুরাত স্বীকার করেছেন, “বিভিন্ন কারণে আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে।” “কারণ যা-ই হোক না কেন, এই সেবা প্রদানের দায়িত্ব আয়োজক কমিটি ‘আইনাগক’ (AINAGOC)-এর এবং এসব ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। প্রতিটি ভুলের কারণ চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে এগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।”




















