ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মালয়শিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে কঠিন বাস্তবতা দেখলেন টমাস ডুলির শীর্ষরা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আশিয়ান কাপে বড় পরাজয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। শক্তিশালী মালয়শিয়ার সামনে ছিল ছন্নছড়া বাংলাদেশ। কিক অফের ‍শুরু থেকে শেষঅব্দি র‌্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়শিয়ার আধিপত্য ছিলো আয়নার মতো স্বচ্ছ। হামজা চৌধুরী, সমিত সোম ও ফারহান আলি ওয়াহিদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী একাদশ গড়েও মালয়শিয়ার সামনে দাড়াতেই পারলো না বাংলাদেশ। তাদের গতি,স্কীল, নিখুত পাস হামজাদের বোকা বানিয়ে বাংলাদেশের জালে তিনবার বল পাঠালো মালয়শিয়া। সান্ত্বনা হতে পারে একটাই, এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদশ ৪-১ গোলে হেরেছিল। আশিয়ান কাপের ‍শুরুতেই আজ হারলো ৩-০ গোলে।

May be an image of soccer, football and text

অথচ মাঠের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশকে ঘিরে বড় সড় স্বপ্ন দেখা  হয়েছিল। কিন্তু টমাস ডুলি মাঠের লড়াইয়ে দেখলেন  বাস্তবতা। দুই একজন তারকা ফুটবলারদের দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি দলের বিপক্ষে জয় থাক দূরের কথা, লড়াইয়ে টিকে থাকাটাও দু:স্বপ্নের। পুরো ম্যাচ একটি গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, হামজা চৌধুর মিস করেন। এছাড়া গোল করার মতো তেমন কোন নির্দশন তুলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

বাংলাদেশের জালে আরো গোল হতে পারতো। ভাগ্যিস রক্ষা পেয়ে যায়। দিনের শুরু থেকেই গোছানো ফূটবল খেলতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।  তাতে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বড় সুযোগ আসে মালয়েশিয়ার সামনে। কর্নার কিক থেকে গোলবার বরাবর নেয়া শট কোনোমতে টোকা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

তবে মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড আরিফ আইমান। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ৩৮তম মিনিটে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর বাড়ানো ভুল পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আরিফ আইমান (২-০)। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ডও দেখায় (ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন ও ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন)।

দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে খেয়ে বসে আরও এক গোল। এসময় মাঠে ডানপ্রান্ত থেকে আসা বল বাম পায়ে রিসিভ করে ডান পায়ে শট করেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। শটের গতি না থাকলেও তা রুখে দিতে পারেননি শ্রাবণ।

এদিকে ৭৬তম মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন হামজা। সামনে শুধু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শট রুখে দেন মালয়েশিয়ার গোলকিপার। দ্বিতীয়বার ফের শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে তা ঠেকান তিনি। শেষদিকে মালয়েশিয়ার শট গোলবারে না লাগলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

হতাশাজনক এই হারের পর আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন হামজা চৌধুরীরা। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মালয়শিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে কঠিন বাস্তবতা দেখলেন টমাস ডুলির শীর্ষরা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশিয়ান কাপে বড় পরাজয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। শক্তিশালী মালয়শিয়ার সামনে ছিল ছন্নছড়া বাংলাদেশ। কিক অফের ‍শুরু থেকে শেষঅব্দি র‌্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়শিয়ার আধিপত্য ছিলো আয়নার মতো স্বচ্ছ। হামজা চৌধুরী, সমিত সোম ও ফারহান আলি ওয়াহিদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী একাদশ গড়েও মালয়শিয়ার সামনে দাড়াতেই পারলো না বাংলাদেশ। তাদের গতি,স্কীল, নিখুত পাস হামজাদের বোকা বানিয়ে বাংলাদেশের জালে তিনবার বল পাঠালো মালয়শিয়া। সান্ত্বনা হতে পারে একটাই, এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদশ ৪-১ গোলে হেরেছিল। আশিয়ান কাপের ‍শুরুতেই আজ হারলো ৩-০ গোলে।

May be an image of soccer, football and text

অথচ মাঠের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশকে ঘিরে বড় সড় স্বপ্ন দেখা  হয়েছিল। কিন্তু টমাস ডুলি মাঠের লড়াইয়ে দেখলেন  বাস্তবতা। দুই একজন তারকা ফুটবলারদের দিয়ে সংঘবদ্ধ একটি দলের বিপক্ষে জয় থাক দূরের কথা, লড়াইয়ে টিকে থাকাটাও দু:স্বপ্নের। পুরো ম্যাচ একটি গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, হামজা চৌধুর মিস করেন। এছাড়া গোল করার মতো তেমন কোন নির্দশন তুলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

বাংলাদেশের জালে আরো গোল হতে পারতো। ভাগ্যিস রক্ষা পেয়ে যায়। দিনের শুরু থেকেই গোছানো ফূটবল খেলতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।  তাতে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বড় সুযোগ আসে মালয়েশিয়ার সামনে। কর্নার কিক থেকে গোলবার বরাবর নেয়া শট কোনোমতে টোকা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।

তবে মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড আরিফ আইমান। গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ৩৮তম মিনিটে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর বাড়ানো ভুল পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আরিফ আইমান (২-০)। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ডও দেখায় (ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন ও ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন)।

দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে খেয়ে বসে আরও এক গোল। এসময় মাঠে ডানপ্রান্ত থেকে আসা বল বাম পায়ে রিসিভ করে ডান পায়ে শট করেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। শটের গতি না থাকলেও তা রুখে দিতে পারেননি শ্রাবণ।

এদিকে ৭৬তম মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন হামজা। সামনে শুধু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শট রুখে দেন মালয়েশিয়ার গোলকিপার। দ্বিতীয়বার ফের শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে তা ঠেকান তিনি। শেষদিকে মালয়েশিয়ার শট গোলবারে না লাগলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

হতাশাজনক এই হারের পর আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন হামজা চৌধুরীরা। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে।