গেমসের মাঝপথেও থেমে থাকেনি আবাসন সমালোচনা , আইচি শহরের স্থানীয়দেরও অসন্তোষ প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮২ বার পড়া হয়েছে
দেখতে দেখতে আইচি-নাগোয়া কুড়িতম এশিয়ান গেমস বিদায় নেয়ার পথে। আগামী ৪ অক্টোবর পর্দা নামবে ষোলদিন ব্যাপী এই প্রতিযোগিতার। আজ গেমসের সপ্তম দিন। বাংলাদেশের যে ক’টা স্বপ্ন ছিলো তার প্রায় সবটাই ভেসে গেছে নাগোয়া বিচে। অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কেবল পুরুষ ক্রিকেট দলের দিকে তাকিয়ে। ২৯ সেপ্টেম্বর টয়োটা শহরের করোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে নামবে। সে লক্ষ্যে পুরোপুরি শক্তি নিয়েই বাংলাদেশ যে শেষ লড়াইটা করতে যাচ্ছে তা পেসার শরিফুলসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের সর্বশেষ অন্তর্ভূক্তিতেই পরিস্কার। গেমসের এই ইভেন্টটি বেশ জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনার পূর্বাভাস মিলছে।
ক্রিকেট শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর। পরের দিন বিদায়ের সুর বেজে উঠবে, অ্যাথলেটদের একই ছাতার নীচে থেকে পদক পদক যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। যে যুদ্ধে ছিলো না কোন হিংসা,প্রতিহিংসা। ছিলো কেবলই সৌহাদ্য। যেখানে তৈরি হয় অন্য রকম এক আবেগের জায়গা।
আয়োজক আইচি-নাগোয়ার আবাসন অব্যবস্থানা ভুলে গিয়ে ক্রীড়াবিদরা মেতে ছিলেন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়। তবুও চলে আসে সেই আবাসন অব্যবস্থানার গল্প। আয়োজকরা তাদের আয়োজনে নানা যৌক্তিকতা দেখালেও আইচি-নাগোয়ার স্থানীয় বাসিন্দারাও আয়োজকদের এমন আয়োজনে তুষ্ট হতে পারেন নি। গেমসের মাঝপথে তাই স্থানীয়দের অনেকেই এমনি আয়োজনের বিরুপ সমালোচনা করেছেন।
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের স্থানীয় আয়োজকরা বৃহস্পতিবার আবারও ক্রীড়াবিদদের আবাসন ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন; কারণ শিপিং-কন্টেইনারের আদলে তৈরি এই অস্থায়ী বাসস্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
খরচ কমানোর লক্ষ্যে আয়োজকরা ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ বা ক্রীড়াবিদ গ্রাম তৈরির মূল পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন। এর পরিবর্তে, ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাকে হোটেল, কন্টেইনার-ধাঁচের মডুলার ইউনিট এবং একটি ভাড়া করা প্রমোদতরীতে (ক্রুজ শিপ) থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অনেক ক্রীড়াবিদই তাদের থাকার ঘর ও বিছানার আয়তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শহরের কেন্দ্রস্থলে নাগোয়া টিভি টাওয়ারের কাছে স্থাপিত একটি নমুনা ইউনিট পরিদর্শন করার পর স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যেও এই সমালোচনার প্রতি সমর্থন দেখা গেছে।
রয়টার্সের সাথে আলাপকালে ৪৯ বছর বয়সী নার্স ওয়াদা (যিনি কেবল তাঁর পারিবারিক নামই প্রকাশ করেছেন) বলেন, “ভেতরে ঢুকে দেখলাম জায়গাটা বেশ লম্বা কিন্তু সরু।”
তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি দুটি বিছানা পাতা হলে জায়গাটা বেশ ঘিঞ্জি বা আঁটসাঁট মনে হতে পারে।”
আইচি অঞ্চলের আরেক বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী আতসুকো সাসার মতে, আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমস আয়োজক কমিটি (AINAGOC) চাইলে আরও ভালো পরিকল্পনা করতে পারত।
তিনি বলেন, “আমি বুঝি যে পরিস্থিতিটা বেশ কঠিন, তবে ক্রীড়াবিদদের পরিবেশের বিষয়টি যখন আসে, তখন আমার মনে হয় আমাদের আরেকটু ভালো প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল।”
তবে AINAGOC-এর কর্মকর্তা ইউতা মাতসুও দাবি করেন যে, শুরু থেকেই ক্রীড়াবিদদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের আবাসন বিভাগের উপ-পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জানতাম যে এ ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জানতাম যে বিভিন্ন শারীরিক গড়ন ও বড় আকারের শরীরের ক্রীড়াবিদরাও থাকবেন। তাই প্রতিটি বিছানার সাথে আমরা একটি ‘অটোম্যান’ (ছোট টুল বা ফুটরেস্ট) রেখেছি, যা বিছানার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেয়।”
মাতসুও উল্লেখ করেন যে, এর চেয়ে বড় কোনো কাঠামো পরিবহন করা লজিস্টিক বা ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সম্ভব ছিল না। “আমরা যে ইউনিটগুলো ব্যবহার করছি, সেগুলো ট্রাকে করে পরিবহনযোগ্য সর্বোচ্চ আকারের। এর চেয়ে বড় কিছু হলে তা অনেকটা নির্মাণকাজের পর্যায়ে চলে যায়; তখন আর কারখানায় তৈরি করে তা স্থানান্তর করা সম্ভব হয় না।
“তাই আমরা সর্বোচ্চ আকারটিই বেছে নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় জায়গা বা পরিসর তৈরির জন্য একাধিক ইউনিটকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করেছি।”




















