না খেলেও উশুতে পদক পেলো বাংলাদেশ, চতুর্থদিনেও সবার উপরে চীন
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬৮ বার পড়া হয়েছে
উশুতে বাংলাদেশের মেয়ে জান্নাত আক্তার ৫২ কেজি ওজন শ্রেণী উশুতে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছে। ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জেতার সংবাদটি আনন্দেরও বটে। তবুও কেন যেন উচ্ছসিত হওয়ার মতো না। একজন প্রতিযোগি যদি না খেলেই পদকের দাবিদার হয়ে যান তখন পদক জেতার সংবাদটিই যেন কল্পনাতীত হয়ে যায়। তবুও পদক জেতার স্বস্তি বলে কথা।
বলতে পারেন কপাল গুণে জান্নাত আক্তার পেয়ে যাচ্ছেন ব্রোঞ্জ পদক। না খেলেই তার ভাগ্যে জুটে যাচ্ছে পদক। এটি যখন বিশ্বাস হতে মনে ভিতর প্রশ্ন উকি ঝুকি মারছে,সত্যতা যাচাইয়ে তাই উশুর সাধারণ সম্পাদকের কাছে ছুটে যায় মিডিয়া কর্মীদের হাজারো ফোন। তিনি জানালেন ঘটনা সত্য। কোয়াটার ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী ফ্লোরেন্তিনা থারিসা ওভার ওয়েট হওয়ায় বাদ পড়ে যান। ব্যাস, সেমিফাইনালে পৌছে যান বাংলাদেশের প্রতিযোগি। আর এশিয়ান গেমসের নিয়মটাই নাকি এমন- টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডির মতো উশুতে সেমিফাইনালে পরাজিত অ্যাথলেটও ব্রোঞ্জ পদক পান।
এশিয়ান গেমসেও এই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানান বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগী ফ্লোরেন্তিনা থারিসা ওভার ওয়েট ছিলেন। এজন্য সে ডিসকোয়ালিফাইড হওয়ায় আমাদের জিন্নাত সেমিফাইনালে উঠার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ জিতেছে।’
উশুতে বাংলাদেশে এর আগেও এমনি একটি পদক জিতেছিল। ২০২৫ সালে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস উশুতে। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই ইভেন্টে প্রতিযোগির সংখ্যা কম থাকায় ব্রোঞ্জের জন্য আলাদা ম্যাচ খেলতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ উশুর সাধারণ সম্পাদক ও দলটির কোচ দিলুর ব্যাখ্যা, ‘ছয় জনের কম হলে ব্রোঞ্জের জন্য আলাদা ম্যাচ হয়। এই ইভেন্টে ১৫ জন প্রতিযোগী, তাই সেমিফাইনালে পরাজিত খেলোয়াড়রাও ব্রোঞ্জ পাবে।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘উশুর সাধারণ সম্পাদক পদকের বিষয়টি আমাদের রিকনফার্ম করেছে। এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনালিস্ট পদক পায়। জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে, সেই হিসেবে পদকও নিশ্চিত বলা যায়। আয়োজক কমিটির সাথে এখনও আলাপ হয়নি, তবে পদক নিশ্চিত।’
১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এটি ছিল এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদক। এরপর বাংলাদেশ কাবাডি ও ক্রিকেটে পদক পেলেও সেটা ছিল দলীয় ডিসিপ্লিন। চার দশক পর এশিয়াডে আরেকটি ব্যক্তিগত পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও কোনো ম্যাচে লড়াই না করেই!
তবে যেভাবেই হোক না কেন এশিয়ান গেমস বলে কথা। এমন একটি বৃহৎ আসরে পদক জেতাটাই যে অনেক বড় ব্যাপার। চারিদিকে যখন একের পর এক হতাশা ভর করছিল ঠিক তখনি জান্নাতের পদকটিতে দেখা মিললো যেন আলোর রেখা।
প্রত্যাশায় থাকা নারী ক্রিকেটের স্বপ্ন ধুলেবালি হওয়ার পর কাবাডিতেও ছিলো দু:সংবাদ, জাপানের কাছে হেরে। সামনে অপেক্ষায় আছে পুরুষ ক্রিকেট। যদি সেখান থেকে কোন পদক মিলে। তবেই বিশাল বহরের জাপান সফরের সার্থকতা কিছুটা হলেও মিলতে পারে।
তবে গেমসের এই দিনে বাংলাদেশ পদক নিশ্চিত করলেও তালিকায় উঠেনি নাম। হয়ত সেমিফাইনালে এবং ফাইনালের পরেই উশুর এই অর্জন যোগ হবে পদক তালিকায়।
তার আগে বরাবরের মতোই এশিয়ান গেমসে পদক যুদ্ধে সবার উপরে চীন। জাপান দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ কোরিয়া।
পদক তালিকা
দেশ স্বর্ণ রৌপ্য ব্রোঞ্জ সর্বমোট
চীন ৩২ ১৩ ০৮ ৩৫
জাপান ১১ ১৬ ১৯ ৪৬
দ.কোরিয়া ০৬ ০৪ ১৭ ২৭
কাজাস্তান ০৬ ০১ ০৫ ১২
থাইল্যান্ড ০৪ ০১ ০১ ০৬
হংকং চায়ান ০৩ ০৫ ০৪ ১২
তাজিকিস্তান ০২ ০১ ০১ ০৪
ভারত ০১ ০৪ ০২ ০৭





















