ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশুন্য ড্র দিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করলেন ঋতুপর্ণারা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা আজ হারেনি। মিয়ানমারকে রুখে দিয়ে আদায় করে নিয়েছে একটি পয়েন্ট। এশিয়ান গেমসে এটাই হতে পারে ঋতুপর্ণাদের প্রত্যাশার বড় প্রাপ্তি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করেছে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেলে তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ আশা থাকত, তবে এই ড্রয়ে আসর থেকেই বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

আইচি-নাগোয়ায় গেমস শুরুর অনেক আগেই নারী ফুটবলারদের মিশন শুরু হয়ে যায়। ওসাকাতে নিজেদের শক্তিশালী গ্রুপের বাধা টপকানো ছিল অলিক স্বপ্ন দেখার মতো। বিশ্বকাপ খেলুড়ে দল দুই কোরিয়া। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও তাদের দোদন্ড দাপট। সেই উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলাটাই এক বিশাল অভিজ্ঞতা। নারী ফুটবলের শক্তিশালী এই দল দুটির বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের প্যারামিটার মাপাটাই ছিল আসল লক্ষ্য। কতো গোল কম খাওয়া যায় সেদিকেই প্রধান কোচ বাটলারের দৃষ্টি।

কোচের সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে কিনা সেটা পরের ব্যাপার। তবে এশিয়ান গেমস ফুটবল খেলতে গিয়ে দুই দলের শক্তির স্পষ্ট দৃরত্বের বাস্তবতা ফুটে ‍উঠলো। বাংলাদেশ দলও জানত তাদের অবস্থান। তবে এবার পরিস্কার হওয়া গেলো বড় দলগুলোর সাথে তাদের কোথায় কোথায় ঘাটতিটা রয়েছে। স্ট্যামিনা, দম, পাসিং এই তিনটি বিষয় আধুনিক ফুটবলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেগুলোতে দুই কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের মেয়েদের দূরত্ব পরিস্কার ভেসে উঠেছে।

উত্তর কোরিয়ার সাথে দশ গোল হজম, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সে ব্যবধান কিছুটা কমে আসে, ছয় গোল হজম করেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। তবে দম থাকা অবস্থায় অর্থাৎ প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা দারুণ নৈপুন্য দেখিয়েছিলেন। এই সময়টায় নারী দল ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গোলের মতো সুযোগও তৈরি করেছিলো।

শক্তিশালী এই গ্রুপে বাংলাদেশের লক্ষ্যটাই ছিলো মিয়ানমারের বিপক্ষে কিছু একটা করা। যদিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ,তবে গোল ‍শুন্য ড্র করে মন ভরে দিয়েছেন দর্শকদের।

দুই কোরিয়ার কাছে ব্যর ব্যবধানে হারলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিছুটা আশাবাদী ছিল বাংলাদেশ শিবির। অধিনায়ক মারিয়া মান্দার দলের সেই আশার প্রতিফলন ম্যাচে দেখা গেলেও জালের দেখা মেলেনি কোনো পক্ষেরই।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৮% বল দখলে রাখতে সক্ষম হলেও আক্রমণে ধার কম ছিল। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুনরা ৩টি শট নিলেও একটিবারের জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে মিয়ানমার ৮টি শট নেয়, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে)। মিয়ানমারের দুটি লক্ষ্যভিত্তিক শটই দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার রুপনা চাকমা।

উল্লেখ্য, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিল বাংলাদেশ নারী দল। ২০২৩ সালের গত আসরেও তিন ম্যাচে দুটি হার ও একটি ড্র অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সে বার মোট গোল হজম ছিল ১৫টি, এবারের চেয়ে একটি বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশুন্য ড্র দিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করলেন ঋতুপর্ণারা

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা আজ হারেনি। মিয়ানমারকে রুখে দিয়ে আদায় করে নিয়েছে একটি পয়েন্ট। এশিয়ান গেমসে এটাই হতে পারে ঋতুপর্ণাদের প্রত্যাশার বড় প্রাপ্তি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে আয়োজিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করেছে কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পেলে তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ আশা থাকত, তবে এই ড্রয়ে আসর থেকেই বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

আইচি-নাগোয়ায় গেমস শুরুর অনেক আগেই নারী ফুটবলারদের মিশন শুরু হয়ে যায়। ওসাকাতে নিজেদের শক্তিশালী গ্রুপের বাধা টপকানো ছিল অলিক স্বপ্ন দেখার মতো। বিশ্বকাপ খেলুড়ে দল দুই কোরিয়া। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও তাদের দোদন্ড দাপট। সেই উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলাটাই এক বিশাল অভিজ্ঞতা। নারী ফুটবলের শক্তিশালী এই দল দুটির বিপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের প্যারামিটার মাপাটাই ছিল আসল লক্ষ্য। কতো গোল কম খাওয়া যায় সেদিকেই প্রধান কোচ বাটলারের দৃষ্টি।

কোচের সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে কিনা সেটা পরের ব্যাপার। তবে এশিয়ান গেমস ফুটবল খেলতে গিয়ে দুই দলের শক্তির স্পষ্ট দৃরত্বের বাস্তবতা ফুটে ‍উঠলো। বাংলাদেশ দলও জানত তাদের অবস্থান। তবে এবার পরিস্কার হওয়া গেলো বড় দলগুলোর সাথে তাদের কোথায় কোথায় ঘাটতিটা রয়েছে। স্ট্যামিনা, দম, পাসিং এই তিনটি বিষয় আধুনিক ফুটবলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেগুলোতে দুই কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের মেয়েদের দূরত্ব পরিস্কার ভেসে উঠেছে।

উত্তর কোরিয়ার সাথে দশ গোল হজম, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সে ব্যবধান কিছুটা কমে আসে, ছয় গোল হজম করেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। তবে দম থাকা অবস্থায় অর্থাৎ প্রথমার্ধে বাংলাদেশের মেয়েরা দারুণ নৈপুন্য দেখিয়েছিলেন। এই সময়টায় নারী দল ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গোলের মতো সুযোগও তৈরি করেছিলো।

শক্তিশালী এই গ্রুপে বাংলাদেশের লক্ষ্যটাই ছিলো মিয়ানমারের বিপক্ষে কিছু একটা করা। যদিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ,তবে গোল ‍শুন্য ড্র করে মন ভরে দিয়েছেন দর্শকদের।

দুই কোরিয়ার কাছে ব্যর ব্যবধানে হারলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিছুটা আশাবাদী ছিল বাংলাদেশ শিবির। অধিনায়ক মারিয়া মান্দার দলের সেই আশার প্রতিফলন ম্যাচে দেখা গেলেও জালের দেখা মেলেনি কোনো পক্ষেরই।

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৮% বল দখলে রাখতে সক্ষম হলেও আক্রমণে ধার কম ছিল। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুনরা ৩টি শট নিলেও একটিবারের জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে মিয়ানমার ৮টি শট নেয়, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে)। মিয়ানমারের দুটি লক্ষ্যভিত্তিক শটই দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার রুপনা চাকমা।

উল্লেখ্য, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিল বাংলাদেশ নারী দল। ২০২৩ সালের গত আসরেও তিন ম্যাচে দুটি হার ও একটি ড্র অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। সে বার মোট গোল হজম ছিল ১৫টি, এবারের চেয়ে একটি বেশি।