ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সুদিন ফেরাতে চান লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের শুরুতেই বাংলাদেশ পুরুষ দল সোনার পদক জিতেছিল। সেই ২০১০ সালের পর আর গেমসের প্রধান পদকটি আর জেতা হয়নি। কখনো রৌপ্য, কখনো ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এবার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে অংশ নেয়ার আগে সেই সুখ স্মৃতি সবার সামনে উঠে আসতেই বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস তুলে ধরেছেন প্রত্যাশা।  ফেরাতে চান তিনি সুদুর অতীতের সেই সুখ স্মৃতি।

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আর গেমস আলাদ‍া বিষয়। গেমস মানেই হচ্ছে একটি ক্রীড়া পরিবার। যেখানে থাকে বহুজাতিক খেলা। আর সবাইকে নিয়ে সেখানে তৈরি হয় একটি আনন্দঘন মূহুর্ত। সে আনন্দ যুদ্ধে একই ছাতার নীচে ক্রীড়াবিদরা মজে থাকেন কিছুটা দিন। এশিয়ার ৪৫টি দেশের প্রতিনিধিরা এই পরিবারের সদস্য।

গেমসের রোমাঞ্চে ডুবে থাকার সেই বার্তা দিয়ে জাপানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। যাবার আগে গেমসের রোমাঞ্চ, আবেদন, পছন্দের অ্যাথলেট, অলিম্পিকের গুরুত্ব, গেমসের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট লিটন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে ক্যাম্প করার পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলা দলটি এরপর আবার একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এই ক্যাম্পে। লিটনের মতে, এতে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ডিংও ভালো হয়েছে।

এবারের আসরে বাংলাদেশের লক্ষ্যও পরিষ্কার, ফাইনাল খেলা। লিটন বলেন, টুর্নামেন্ট খেলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য থাকে ফাইনালে ওঠা এবং সেখানে নিজেদের সেরাটা দেওয়া। এশিয়ান গেমসের মতো আসরে সুযোগটা বারবার আসে না বলেই প্রত্যাশাটাও বড়।

জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ খেললেও এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা লিটনের জন্য একেবারেই আলাদা। এবারই প্রথম তিনি এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি এমন একটি বহুজাতিক আসরে অংশ নেওয়াকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

বিশেষ করে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদকের মাহাত্ম্য আলাদা বলে মনে করেন লিটন। সাধারণ কোনো টুর্নামেন্টে ট্রফি জেতার পাশাপাশি এখানে থাকে দেশের জন্য একটি স্বর্ণপদক জয়ের সুযোগ। সেটিই খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি রোমাঞ্চের। তাই দলের সবাই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এশিয়ান গেমসের সর্বশেষ স্বর্ণপদক এসেছিল ক্রিকেট থেকেই। ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল স্বর্ণপদক জিতেছিল। এরপর আর কোনো ইভেন্টে স্বর্ণপদক আসেনি। ফলে এবারও ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশার চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে লিটন সেটিকে চাপ হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

তার ভাষায়, প্রত্যাশা থাকবেই। একজন খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়েই জাপানে যাচ্ছেন। বরং এই টুর্নামেন্টের বিরল উপস্থিতিই খেলোয়াড়দের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কিংবা জাতীয় দলের খেলা নিয়মিত এলেও এশিয়ান গেমসের মতো আসর প্রতিবার আসে না। তাই বড় স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাই দলের লক্ষ্য।

এশিয়ান গেমসের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে আরেকটি বড় স্বপ্নও রয়েছে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। ফলে এশিয়ান গেমসে ভালো করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় মঞ্চে যাওয়ার পথও তৈরি হতে পারে। তবে লিটন এখনই সেই সমীকরণে না গিয়ে বর্তমান টুর্নামেন্টেই মনোযোগ দিতে চান।

তার মতে, অলিম্পিকে কে না খেলতে চায়? কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হলো এশিয়ান গেমসে নিজেদের ভালোভাবে মেলে ধরা। আর সেই পথের মূলমন্ত্র ম্যাচ বাই ম্যাচ। ফাইনালে উঠতে হলে আগে প্রতিটি ম্যাচে ভালো করতে হবে। তাই দলের বড় লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা এবং সুযোগ তৈরি হলে স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করা।

ক্রিকেটের বাইরের খেলাগুলো নিয়েও আগ্রহ রয়েছে লিটনের। বিকেএসপির ছাত্র থাকাকালে ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমসে যদি সময় ও সুযোগ মেলে, অন্য খেলাগুলো সরাসরি দেখার ইচ্ছাও রয়েছে তার।

বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের কাছ থেকে শেখার সুযোগকেও বড় করে দেখছেন লিটন। তার মতে, এত দেশের খেলোয়াড় একই জায়গায় থাকবেন, এটি পুরোপুরি শিক্ষণীয় একটি অভিজ্ঞতা। অন্য খেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা, তাদের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা জানা কিংবা ভিন্ন ধরনের খেলা কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগাতে চান তিনি।

তবে ক্রিকেট দলের মূল মনোযোগ থাকবে মাঠের লড়াইয়ে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপের মতো এশিয়ান গেমসের সবকিছু আগে থেকেই পরিচিত কাঠামোর মধ্যে থাকে না। এখানে কিছু বিষয় নতুন হতে পারে, ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু এসবের বাইরে লিটনের কাছে মূল বিষয় একটাই, ম্যাচ খেলা এবং ভালো ক্রিকেট খেলা।

ক্রিকেটের সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য খেলাগুলোর উন্নয়নের সম্ভাবনাও দেখছেন লিটন। দেশের জন্য খেলাধুলার মাধ্যমে কিছু করতে পারাটাই বড় ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। ক্রিকেট দল যদি ভালো করে, স্বর্ণপদক জেতে এবং ভবিষ্যতে অলিম্পিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তাতে বাংলাদেশের অন্য খেলাগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এশিয়ান গেমসের মতো আসরে নিজের প্রথম অভিজ্ঞতা নিতে যাওয়ার সময় লিটনের মনে পড়ছে অন্য এক ক্রীড়া তারকার কথা। অলিম্পিক কিংবা এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটদের মধ্যে নির্দিষ্ট কারও ভক্ত ছিলেন না তিনি। তবে অ্যাথলেটিকসের কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের দৌড় তাকে বরাবরই টানত।

ক্রিকেটের দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের বিপরীতে অ্যাথলেটিকসের স্বল্প সময়ের ইভেন্টে দ্রুত ফল পাওয়ার বিষয়টি লিটনের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে উসাইন বোল্টের মতো বড় তারকার পারফরম্যান্স দেখতেই বেশি ভালো লাগত তার। এবার নিজেই যখন এশিয়ান গেমসের অংশ হতে যাচ্ছেন, তখন সেই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরের রোমাঞ্চটা আরও কাছ থেকে অনুভব করার অপেক্ষায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

তবে সব রোমাঞ্চের কেন্দ্রে আপাতত ক্রিকেট। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা, আর সেখানে সুযোগ এলে ২০১০ সালের সেই সোনালি স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। জাপানের মাটিতে লিটনদের সামনে তাই স্বর্ণপদকের স্বপ্ন, সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন কিছু করার প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সুদিন ফেরাতে চান লিটন

আপডেট সময় : ০৫:০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের শুরুতেই বাংলাদেশ পুরুষ দল সোনার পদক জিতেছিল। সেই ২০১০ সালের পর আর গেমসের প্রধান পদকটি আর জেতা হয়নি। কখনো রৌপ্য, কখনো ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এবার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে অংশ নেয়ার আগে সেই সুখ স্মৃতি সবার সামনে উঠে আসতেই বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস তুলে ধরেছেন প্রত্যাশা।  ফেরাতে চান তিনি সুদুর অতীতের সেই সুখ স্মৃতি।

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আর গেমস আলাদ‍া বিষয়। গেমস মানেই হচ্ছে একটি ক্রীড়া পরিবার। যেখানে থাকে বহুজাতিক খেলা। আর সবাইকে নিয়ে সেখানে তৈরি হয় একটি আনন্দঘন মূহুর্ত। সে আনন্দ যুদ্ধে একই ছাতার নীচে ক্রীড়াবিদরা মজে থাকেন কিছুটা দিন। এশিয়ার ৪৫টি দেশের প্রতিনিধিরা এই পরিবারের সদস্য।

গেমসের রোমাঞ্চে ডুবে থাকার সেই বার্তা দিয়ে জাপানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। যাবার আগে গেমসের রোমাঞ্চ, আবেদন, পছন্দের অ্যাথলেট, অলিম্পিকের গুরুত্ব, গেমসের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।

এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট লিটন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে ক্যাম্প করার পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলা দলটি এরপর আবার একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এই ক্যাম্পে। লিটনের মতে, এতে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ডিংও ভালো হয়েছে।

এবারের আসরে বাংলাদেশের লক্ষ্যও পরিষ্কার, ফাইনাল খেলা। লিটন বলেন, টুর্নামেন্ট খেলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য থাকে ফাইনালে ওঠা এবং সেখানে নিজেদের সেরাটা দেওয়া। এশিয়ান গেমসের মতো আসরে সুযোগটা বারবার আসে না বলেই প্রত্যাশাটাও বড়।

জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ খেললেও এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা লিটনের জন্য একেবারেই আলাদা। এবারই প্রথম তিনি এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি এমন একটি বহুজাতিক আসরে অংশ নেওয়াকে বড় ব্যাপার হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

বিশেষ করে এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদকের মাহাত্ম্য আলাদা বলে মনে করেন লিটন। সাধারণ কোনো টুর্নামেন্টে ট্রফি জেতার পাশাপাশি এখানে থাকে দেশের জন্য একটি স্বর্ণপদক জয়ের সুযোগ। সেটিই খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি রোমাঞ্চের। তাই দলের সবাই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এশিয়ান গেমসের সর্বশেষ স্বর্ণপদক এসেছিল ক্রিকেট থেকেই। ২০১০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল স্বর্ণপদক জিতেছিল। এরপর আর কোনো ইভেন্টে স্বর্ণপদক আসেনি। ফলে এবারও ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশার চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে লিটন সেটিকে চাপ হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

তার ভাষায়, প্রত্যাশা থাকবেই। একজন খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি ভালো কিছু করার প্রত্যাশা নিয়েই জাপানে যাচ্ছেন। বরং এই টুর্নামেন্টের বিরল উপস্থিতিই খেলোয়াড়দের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কিংবা জাতীয় দলের খেলা নিয়মিত এলেও এশিয়ান গেমসের মতো আসর প্রতিবার আসে না। তাই বড় স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাই দলের লক্ষ্য।

এশিয়ান গেমসের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে আরেকটি বড় স্বপ্নও রয়েছে। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। ফলে এশিয়ান গেমসে ভালো করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের বড় মঞ্চে যাওয়ার পথও তৈরি হতে পারে। তবে লিটন এখনই সেই সমীকরণে না গিয়ে বর্তমান টুর্নামেন্টেই মনোযোগ দিতে চান।

তার মতে, অলিম্পিকে কে না খেলতে চায়? কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হলো এশিয়ান গেমসে নিজেদের ভালোভাবে মেলে ধরা। আর সেই পথের মূলমন্ত্র ম্যাচ বাই ম্যাচ। ফাইনালে উঠতে হলে আগে প্রতিটি ম্যাচে ভালো করতে হবে। তাই দলের বড় লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা এবং সুযোগ তৈরি হলে স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করা।

ক্রিকেটের বাইরের খেলাগুলো নিয়েও আগ্রহ রয়েছে লিটনের। বিকেএসপির ছাত্র থাকাকালে ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমসে যদি সময় ও সুযোগ মেলে, অন্য খেলাগুলো সরাসরি দেখার ইচ্ছাও রয়েছে তার।

বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের কাছ থেকে শেখার সুযোগকেও বড় করে দেখছেন লিটন। তার মতে, এত দেশের খেলোয়াড় একই জায়গায় থাকবেন, এটি পুরোপুরি শিক্ষণীয় একটি অভিজ্ঞতা। অন্য খেলার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা, তাদের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা জানা কিংবা ভিন্ন ধরনের খেলা কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগাতে চান তিনি।

তবে ক্রিকেট দলের মূল মনোযোগ থাকবে মাঠের লড়াইয়ে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপের মতো এশিয়ান গেমসের সবকিছু আগে থেকেই পরিচিত কাঠামোর মধ্যে থাকে না। এখানে কিছু বিষয় নতুন হতে পারে, ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু এসবের বাইরে লিটনের কাছে মূল বিষয় একটাই, ম্যাচ খেলা এবং ভালো ক্রিকেট খেলা।

ক্রিকেটের সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্য খেলাগুলোর উন্নয়নের সম্ভাবনাও দেখছেন লিটন। দেশের জন্য খেলাধুলার মাধ্যমে কিছু করতে পারাটাই বড় ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। ক্রিকেট দল যদি ভালো করে, স্বর্ণপদক জেতে এবং ভবিষ্যতে অলিম্পিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তাতে বাংলাদেশের অন্য খেলাগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এশিয়ান গেমসের মতো আসরে নিজের প্রথম অভিজ্ঞতা নিতে যাওয়ার সময় লিটনের মনে পড়ছে অন্য এক ক্রীড়া তারকার কথা। অলিম্পিক কিংবা এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটদের মধ্যে নির্দিষ্ট কারও ভক্ত ছিলেন না তিনি। তবে অ্যাথলেটিকসের কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের দৌড় তাকে বরাবরই টানত।

ক্রিকেটের দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের বিপরীতে অ্যাথলেটিকসের স্বল্প সময়ের ইভেন্টে দ্রুত ফল পাওয়ার বিষয়টি লিটনের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে উসাইন বোল্টের মতো বড় তারকার পারফরম্যান্স দেখতেই বেশি ভালো লাগত তার। এবার নিজেই যখন এশিয়ান গেমসের অংশ হতে যাচ্ছেন, তখন সেই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরের রোমাঞ্চটা আরও কাছ থেকে অনুভব করার অপেক্ষায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

তবে সব রোমাঞ্চের কেন্দ্রে আপাতত ক্রিকেট। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা, আর সেখানে সুযোগ এলে ২০১০ সালের সেই সোনালি স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। জাপানের মাটিতে লিটনদের সামনে তাই স্বর্ণপদকের স্বপ্ন, সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন কিছু করার প্রত্যাশা।