ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ান গেমসের আগেই বিপর্যস্ত নাগোয়া, রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভেন্যু, অ্যাথলেটদের চরম ভোগান্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে জাপানের আইচি – নাগোয়া শহর।  এই শহরেই আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই শহরেই ২০তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গেমস শুরুর ঠিক ১০ দিন আগে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় গেমসের প্রস্তুতি এবং ভেন্যুগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 
প্রবল বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে আসা শত শত অ্যাথলেটকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে কয়েকটি প্রতিযোগিতার ভেন্যুতেও।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (JMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে নাগোয়ায় মাত্র এক ঘণ্টায় ১০৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৮৯০ সালের পর গত ১৩৬ বছরে শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো শহরে মোট ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ‘লিনিয়ার প্রিসিপিটেশন ব্যান্ড’ (Linear Precipitation Band) বা মেঘের ঘন স্তরের কারণে এই নজিরবিহীন বৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার মাত্র এক ঘণ্টায় নাগোয়ায় প্রায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের কিছু এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। এর আওতায় পড়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে আসা বেশ কয়েকজন অ্যাথলেটও।
গেমস তথ্য মতে, এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০০ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা নাগোয়ায় এসে পৌঁছেছেন। নাগোয়া পোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শহরের গার্ডেন পিয়ার এলাকায় অবস্থান করা অ্যাথলেটদের নিরাপদ জায়গায় সরে নেয়া হয়। ওই এলাকায় অ্যাথলেটদের থাকার জন্য অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হলে অ্যাথলেটরা আবার নিজেদের আবাসনে ফিরে যান। এবারের এশিয়ান গেমসে আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ রাখা হয়নি। আয়োজকেরা অ্যাথলেটদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন একটি ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার ও বিভিন্ন হোটেলে।

এদিকে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে কয়েকটি প্রতিযোগিতা ভেন্যুতেও। তবে নাগোয়ার মেয়র ইচিরো হিরোসাওয়া জানিয়েছেন, এতে ভেন্যুগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা চলবে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার মতো সামান্য প্রভাব পড়েছে। তবে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয় যে ১৯ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে এখনই শঙ্কা তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি মনে করি, এশিয়ান গেমস আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।’

 বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় শোনাই নদীর (Shonai River) পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এর ফলে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঐ এলাকায় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৫’ (Level 5) ইমার্জেন্সি ফ্লাড ওয়ার্নিং বা বন্যা সতর্কতা জারি করে।

তথ্যমতে, ভূমিধসের কারণে অন্তত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মোট ৪১ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জাপানি সংবাদমাধ্যম Kyodo News সূত্রে জানা গেছে।

আকস্মিক বন্যার কারণে ডজনখানেক রাস্তা, আন্ডারপাস এবং পাতাল রেলের শপিং মল পানিতে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলে, যেখানে প্রায় ২,৭০০ থেকে ৩,৫০০ মানুষ আশ্রয় নেন।

ভারী বৃষ্টির সময় নাগোয়া শহরের বাস, সাবওয়ে এবং বিখ্যাত তোকাইদো শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) পরিষেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকে পড়েন। তবে জাপানের উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে এবং অধিকাংশ গণপরিবহন ও ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

আবহাওয়ার এমন চরম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র করে তুলছে। এবারের এশিয়ান গেমসে ১৭ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যার দিক থেকে এটি অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান গেমসের আগেই বিপর্যস্ত নাগোয়া, রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ভেন্যু, অ্যাথলেটদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০১:৫৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে জাপানের আইচি – নাগোয়া শহর।  এই শহরেই আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই শহরেই ২০তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গেমস শুরুর ঠিক ১০ দিন আগে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় গেমসের প্রস্তুতি এবং ভেন্যুগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 
প্রবল বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে আসা শত শত অ্যাথলেটকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে কয়েকটি প্রতিযোগিতার ভেন্যুতেও।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (JMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে নাগোয়ায় মাত্র এক ঘণ্টায় ১০৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৮৯০ সালের পর গত ১৩৬ বছরে শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পুরো শহরে মোট ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ‘লিনিয়ার প্রিসিপিটেশন ব্যান্ড’ (Linear Precipitation Band) বা মেঘের ঘন স্তরের কারণে এই নজিরবিহীন বৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার মাত্র এক ঘণ্টায় নাগোয়ায় প্রায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের কিছু এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। এর আওতায় পড়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে আসা বেশ কয়েকজন অ্যাথলেটও।
গেমস তথ্য মতে, এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০০ জন অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা নাগোয়ায় এসে পৌঁছেছেন। নাগোয়া পোর্ট অথরিটির এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শহরের গার্ডেন পিয়ার এলাকায় অবস্থান করা অ্যাথলেটদের নিরাপদ জায়গায় সরে নেয়া হয়। ওই এলাকায় অ্যাথলেটদের থাকার জন্য অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হলে অ্যাথলেটরা আবার নিজেদের আবাসনে ফিরে যান। এবারের এশিয়ান গেমসে আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ রাখা হয়নি। আয়োজকেরা অ্যাথলেটদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন একটি ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার ও বিভিন্ন হোটেলে।

এদিকে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে কয়েকটি প্রতিযোগিতা ভেন্যুতেও। তবে নাগোয়ার মেয়র ইচিরো হিরোসাওয়া জানিয়েছেন, এতে ভেন্যুগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা চলবে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার মতো সামান্য প্রভাব পড়েছে। তবে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয় যে ১৯ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে এখনই শঙ্কা তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি মনে করি, এশিয়ান গেমস আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।’

 বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় শোনাই নদীর (Shonai River) পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এর ফলে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঐ এলাকায় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৫’ (Level 5) ইমার্জেন্সি ফ্লাড ওয়ার্নিং বা বন্যা সতর্কতা জারি করে।

তথ্যমতে, ভূমিধসের কারণে অন্তত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মোট ৪১ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জাপানি সংবাদমাধ্যম Kyodo News সূত্রে জানা গেছে।

আকস্মিক বন্যার কারণে ডজনখানেক রাস্তা, আন্ডারপাস এবং পাতাল রেলের শপিং মল পানিতে তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলে, যেখানে প্রায় ২,৭০০ থেকে ৩,৫০০ মানুষ আশ্রয় নেন।

ভারী বৃষ্টির সময় নাগোয়া শহরের বাস, সাবওয়ে এবং বিখ্যাত তোকাইদো শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) পরিষেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকে পড়েন। তবে জাপানের উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে এবং অধিকাংশ গণপরিবহন ও ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

আবহাওয়ার এমন চরম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র করে তুলছে। এবারের এশিয়ান গেমসে ১৭ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যার দিক থেকে এটি অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে।