জ্ঞান ও গবেষণার আলোচনাকে কোন দলীয় গন্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়,দেশপ্রেম, স্বাধীন এবং জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন।
আজ ১৭ আগস্ট সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর বাং লাদেশ স্ট্যাডিজ (সিবিএস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
গবেষক ও সংগঠক রুহুল আমিন রচিত এই গ্রন্থের সারসংক্ষেপ বক্তব্য দেন বইটির প্রকাশক দূর্বার পাবলিকেশন্স এর চেয়ারম্যান ও কানাডা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী।এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমস্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাসসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি জাতির আত্ম পরিচয়কে বুজতে হলে তার ইতিহাস, সংগ্রাম,সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতাকে বুঝতে হয়। এখানে লেখক ও গবেষক রুহুল আমিনের এই গ্রন্থ সেই আলোচনাকে সমৃদ্ধ করার একটি দারুণ ও সমায়োচিত প্রয়াস।
তিনি বলেন, জ্ঞান ও গবেষণার আলোচনাকে কোন দলীয় গন্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। একটি রাজনৈতিক দর্শণ সম্পর্কে মতপ্রার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেই দর্শন নিয়ে গবেষণা, বিশ্লেষণ ও মুক্ত আলোচনা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নিয়ে যে বিতর্ক,তার ঐতিহাসিক পটভ’মি ও সমকালীণ প্রাসঙ্গিকতা নতুন প্রজন্মের সামনে তথ্য ও মুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় প্রয়োজন,যেখানে ধর্ম,বর্ণ, ভাষা,অঞ্চল ও মতের বৈচিত্র্যের মধ্যেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের অভিন্ন পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বালাদেশী জাতীয়তাবাদের আলোচনা ও সেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শন দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার,গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদকে ধারণ করতে হলে মানুষের অধিকার,গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রুহুল আমিনের বইটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং সমকালীণ রাজনীতিতে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে পাঠকদের চিন্তার খোরক জোগাবে।

বইটির প্রকাশক এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, ৩২ বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার ও হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। তারা শহীদ জিয়া রক্তেভেজা দল বিএনপিটকে নি:শেষ করে দেবার ষয়যন্ত্রে লিপ্ত হন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির শত্রু, ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী শক্তি, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বিরোধী শক্তি, ভারত ও তাদের দালালরা গোয়েবলষীয় কায়দায় তারেক রহমানেরা বিরুদ্ধে অসহনীয় অপপ্রচার শুরু করেন। ষঢ়যন্ত্রকারীরা মনে করেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে হলে ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ রুখতে হলে সবার আগে জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে হবে! আর জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে হলে তারেক জিয়াকে শেষ করতে হবে! জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যুগযুগ ধরে চলা অপপ্রচারের বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব দিতে হবে এবং ভারত-হাসিনার ষড়যন্ত্র ও দেশ বিরোধী কার্যকলাপ নতুন প্রজন্মও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নজরুল হক নানু বলেন, “জাতীয় পরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে একটি সুস্থ, যুক্তিনির্ভর ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনা সময়ের দাবি। সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা অব্যাহত রাখবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদার, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মোহনা টিভির নির্বাহী পরিচালক এম এ মালেক।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দুর্বার পাবলিকেশন্স। ১৪৪ পৃষ্ঠার বইটিতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রাসঙ্গিকতা আলেচনায় উঠে আসে।




















