ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফ্যাসিবাদ মুক্ত দিবস ৫ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকাল সকাল ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া একমাত্র ছেলেটি গোসল করে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছে। মায়ের অবুজ মন নাড়া দিয়ে উঠলো, ছেলেটি আজ এতো সকাল গোসল সেরে ড্রেসআপ করছে কেন? তার মা ছুটে এলো ছেলেকে গতিরোধ করতে।  কোথায় যাচ্ছো বাবা? উত্তরে জানালো, বড় ভাইদের ছাড়িয়ে আনতে। বড় ভাই কারা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বড় ভাইদের আটকিয়ে বেধম মারধর করা হচ্ছে। তুমি জানলে কি করে সেই খবর। সারা দেশে তো ইন্টারনট বন্ধ? টেলিগ্রামে, ম্যাসেজে, ম্যাসেজে। একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে আমাকেও যে সর্বদা সে খবরা খবর রাখতে হয় বলেই অবাক হইনি। কিন্তু তাকে বুজতে দেই নি। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ১৪৪ ধারা আইন জারি করেছে। কারপিউ কার্ড ছাড়া বের হওয়া যায় না। কিছুক্ষণ পর পর পুলিশের ভ্যান ছুটে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি। হ্যান্ড মাইক দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে যেন কেউ ঘর থেকে বের না হয়।

উপায়ন্তর না দেখে বাবার সমান লম্বা হয়ে যাওয়া ছেলেকে বললাম, তোমার সঙ্গে আমিও যাবো। ঘন্টাখানেক সময় নিয়ে গলায় কারপিউ কার্ড ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তায় পিনপতন শব্দ নেই। চারিদিকে মানবশুন্য। আন্দোলনকারিরা বিভিন্ন অলিগলিতে লুকিয়ে থেকে ক্ষণে ক্ষণে মিছিল নিয়ে বের হচ্ছে।  সাড়ে দশটার দিকে শুনি এক সংবাদ কর্মীর ভাগিনা মালিবাগে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গত প্রায় ‍দু’সপ্তাহ ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গোটা রাজধানী প্রায় অচল। সে উত্তাপ ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে।  সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।  আইন-শৃ্খলা বাহিনীদের হুমুক করা হয় আন্দোলকারীদের ওপর গুলি চালানোর। নানা দিক থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ‍মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দুদিন আগেই বন্ধ ঘোষনা করে হল ত্যাগের নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু ছাত্ররা হল না ছাড়ায় তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যমে সে সংবাদ পৌছে যায় স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কাছেও।

মুখে আল্লাহ’র নাম নিয়ে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে বাপ-বেটা বের হলাম। মৃত্যু হলে তো দু’জনেরই এক সাথে হবে। কিন্তু ছেলেকে একা ছাড়িনি। হাটতে হাটতে ফকিরেপুল পর্যন্ত যেতেই শহরের রুপ যেন বদলে যেতে শুরু করলো। আইন-শৃঙ্খলার সকল বাধা অতিক্রম করে মানুষের ঢল রাজপথে। তখনি যেন বুজতে অসুবিধা হয়নি আজই দেশ থেকে ফ্যাসিজমের বিদায় ঘটবে।  রাজপথে মানুষের এমন জোয়ারে নিমিষেই পুলিশশুন্য হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট।

সবাই ছুটছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের দিকে। যেখানে দাড়িয়ে আছে ভাষার আন্দোলনের প্রতীক । ক্ষোভের সকল বহিপ্রকাশ যেন ওখান থেকেই শুরু হয়। এদিকে ইথারে ভেসে আসছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের সংবাদ। পদত্যাগ করেই তিনি ভারতে পালিয়ে যান। সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন আবাল-বৃদ্ধ বনিতা।  গত প্রায় পনের বছরের দু:শাসনের পতনে জাতির জীবনে নেমে আসে নতুন এক স্বাধীনতার স্বাদ।

এমন একটি দিনের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ দীর্ঘ প্রায় পনের বছর শেখ হাসিনার দু:শাসনের বিপক্ষে আন্দোলন করেছিল। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জেল-জুলুমই শুধু নয়, নিজের দীর্ঘদিনের ক্যান্টনমেন্টস্থ বাড়িটিও হারাতে হয়েছে। জেলে থেকে মৃত্যু পথ যাত্রী হয়ে পড়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্য। আপোসহীন এই নেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর চক্রান্তও হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যু ঝুকি নিয়েও দেশ ছেড়ে বিদেশে যাননি তিনি। অবশেষে মৃত্যুর আগে দেখে গেলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন।

ক্ষমতা আকড়ে রাখতে পতিত শেখ হাসিনা তার বিরোধীতাদের দমনে কোন প্রক্রিয়াই বাদ রাখে নি। গুম,খুন, হত্যা,জেল জুলুম ফ্যাসিজমের সর্বশেষ সীমানায় পৌছে যায়। বিএনপি’র সাবেক সাংসদ ইলিয়াছ আলী ও কমিশনার চৌধুর আলমকে গুম করে খুন করা হয়। এভাবে বহু বিরোধীমতবাদকে গুম খুন করা হয়। রাখা হয় ভয়াবহ আয়না ঘরে।

ভোটের অধিকার এবং এ সব গুম খুনের প্রতিবাদে বিএনপি’ ২৮ ফেব্রুয়ারীর বিশাল জনসভা আয়োজন করে। যেখান থেকে সরকার পতনের আহবানকরা হয়। বিএনপির এই সভা বানচাল করতে গিয়ে শেখ হাসিনার হেলমেট বাহিনী, পেটুয়া বাহিনী রনক্ষেত্র তৈরি করেছিলো বিএনপি’র পলন্টস্থ্য অফিসসহ আশপাশের এলাকা। কঠিন সেই আন্দোলন কিছুদিনের রোহিত করলেও নতুন রুপে শুরু হয় ছাত্রদের কোটা আন্দোলন। আর এই আন্দোলনেই সরকারের চুড়ান্ত পতন নেমে আসে।

৩রা আগস্ট থেকে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদেরকেও এ্যরেস্ট করা ‍শুরু হয়ে যায়। ৪ঠা আগস্ট দেখেছি কয়েকজন স্কুল আর কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মা-বাবার কান্নার রোল। থানা আর ডিবি অফিসে দৌড়াদৗড়ি শেষে সংবাদ কর্মীদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধ্যানে। সরকার যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনেছিল, ঠিক তখনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আন্দোলনে নেমে পড়ে। যাদের উপর চালানো হয়েছিল স্নাইপার,হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষনও করা হয়। ঢাকা রুপ নিয়েছিল রণক্ষেত্রে। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। ঢাকার আশ-পাশের শহর উপশহরগুলোতেও শিক্ষার্থীরা নেমে পড়ে আন্দোলনে। মুল সড়ক অবরোধ গড়ে তোলে।

যেভাবে ভারতে পালালেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা

৩৬ দিনের কঠিন আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেদিন সংক্ষিপ্ত নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে প্রবেশের অনুমোদন চেয়ে অনুরোধ করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের হেলিকপ্টারে করে তিনি যদি ভারতের আগরতলায় পৌঁছাতে পারেন, তাহলে সেখান থেকে তাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে করে শেখ হাসিনাকে ৫ আগস্ট দিল্লি হিন্ডন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন ও জনরোষের মুখে ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে বিমানবন্দরে, সেখান থেকে বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজে করে আগরতলা হয়ে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে নামেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

শেখ হাসিনা যেভাবে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন

২০২৪-এর ৪ আগস্ট সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হয়। বেশ কিছু পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। সেদিন বিকেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও উপদেষ্টা শেখ হাসিনাকে জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতারা পিছু হটেছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা পরিস্থিতি মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে শক্তি প্রয়োগ করে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ধারণা দিয়েছেন যে এটি আর সামাল দেওয়া যাবে না। তারপরেই তিনি পদত্যাগ করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নেন।

৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একসঙ্গে বৈঠক করেন গণভবনে। নিরাপত্তা বাহিনী কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না, সেটার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা আইজিপিকে দেখিয়ে বলেন, তারা (পুলিশ) তো ভালো করছে। তখন আইজিপি জানান, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এ রকম কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সেদিন সকালে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি করানোর জন্য তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে আলোচনা করেন। তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আরেক কক্ষে আলোচনা করেন। তাকে পরিস্থিতি জানিয়ে শেখ হাসিনাকে বোঝাতে অনুরোধ করেন।

শেখ রেহানা এরপর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে বিদেশে থাকা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর জয় তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন।

সেদিন সকাল থেকে কঠোর কারফিউর মধ্যেও ঢাকার পথে পথে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও যোগ দিতে দেখা যায়। সেদিন সকাল থেকেই রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান ছিল। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়।

সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তার কিছুক্ষণ পর অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালনরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, “শিগগিরই তাদের জন্য ‘সুখবর’ আসছে।”

তখনই দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন ছড়ায় সামরিক শাসন কিংবা জরুরি অবস্থার মতো বিষয়গুলো। এর মধ্যেই খবর আসে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীতে সেনা দপ্তর থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় গণরোষের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেছেন শেখ হাসিনা। সামরিক একটি হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে কীভাবে ভারতে গেছেন, সে বিষয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষকে অবহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন ৬ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ভারতে যাওয়ার নাটকীয় সময়ের বর্ণনা দেন জয়শঙ্কর।

লোকসভাকে তিনি বলেছিলেন, সংক্ষিপ্ত নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে প্রবেশের অনুমোদন চেয়ে অনুরোধ করেন। ৫ আগস্ট বিকেলে চলে আসেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছালে ‘হিন্ডন ঘাঁটিতে’ তার সঙ্গে দেখা করেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ৫ আগস্ট লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। পরে জয়শঙ্কর ও অজিত দোভালের উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি।

জয়শঙ্কর লোকসভাকে বলেছিলেন, কারফিউ সত্ত্বেও ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ঢাকা দখলে নেয়। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, ওই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ওই মুহূর্তে তিনি সংক্ষিপ্ত নোটিশে ভারতে আসার অনুমোদন পাওয়ার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের জন্য বারবার অনুরোধ আসছিল। ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি দিল্লিতে এসে পৌঁছান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফ্যাসিবাদ মুক্ত দিবস ৫ আগস্ট

আপডেট সময় : ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সকাল সকাল ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া একমাত্র ছেলেটি গোসল করে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছে। মায়ের অবুজ মন নাড়া দিয়ে উঠলো, ছেলেটি আজ এতো সকাল গোসল সেরে ড্রেসআপ করছে কেন? তার মা ছুটে এলো ছেলেকে গতিরোধ করতে।  কোথায় যাচ্ছো বাবা? উত্তরে জানালো, বড় ভাইদের ছাড়িয়ে আনতে। বড় ভাই কারা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বড় ভাইদের আটকিয়ে বেধম মারধর করা হচ্ছে। তুমি জানলে কি করে সেই খবর। সারা দেশে তো ইন্টারনট বন্ধ? টেলিগ্রামে, ম্যাসেজে, ম্যাসেজে। একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে আমাকেও যে সর্বদা সে খবরা খবর রাখতে হয় বলেই অবাক হইনি। কিন্তু তাকে বুজতে দেই নি। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ১৪৪ ধারা আইন জারি করেছে। কারপিউ কার্ড ছাড়া বের হওয়া যায় না। কিছুক্ষণ পর পর পুলিশের ভ্যান ছুটে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি। হ্যান্ড মাইক দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে যেন কেউ ঘর থেকে বের না হয়।

উপায়ন্তর না দেখে বাবার সমান লম্বা হয়ে যাওয়া ছেলেকে বললাম, তোমার সঙ্গে আমিও যাবো। ঘন্টাখানেক সময় নিয়ে গলায় কারপিউ কার্ড ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তায় পিনপতন শব্দ নেই। চারিদিকে মানবশুন্য। আন্দোলনকারিরা বিভিন্ন অলিগলিতে লুকিয়ে থেকে ক্ষণে ক্ষণে মিছিল নিয়ে বের হচ্ছে।  সাড়ে দশটার দিকে শুনি এক সংবাদ কর্মীর ভাগিনা মালিবাগে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গত প্রায় ‍দু’সপ্তাহ ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গোটা রাজধানী প্রায় অচল। সে উত্তাপ ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে।  সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।  আইন-শৃ্খলা বাহিনীদের হুমুক করা হয় আন্দোলকারীদের ওপর গুলি চালানোর। নানা দিক থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ‍মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দুদিন আগেই বন্ধ ঘোষনা করে হল ত্যাগের নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু ছাত্ররা হল না ছাড়ায় তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যমে সে সংবাদ পৌছে যায় স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদের কাছেও।

মুখে আল্লাহ’র নাম নিয়ে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে বাপ-বেটা বের হলাম। মৃত্যু হলে তো দু’জনেরই এক সাথে হবে। কিন্তু ছেলেকে একা ছাড়িনি। হাটতে হাটতে ফকিরেপুল পর্যন্ত যেতেই শহরের রুপ যেন বদলে যেতে শুরু করলো। আইন-শৃঙ্খলার সকল বাধা অতিক্রম করে মানুষের ঢল রাজপথে। তখনি যেন বুজতে অসুবিধা হয়নি আজই দেশ থেকে ফ্যাসিজমের বিদায় ঘটবে।  রাজপথে মানুষের এমন জোয়ারে নিমিষেই পুলিশশুন্য হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট।

সবাই ছুটছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের দিকে। যেখানে দাড়িয়ে আছে ভাষার আন্দোলনের প্রতীক । ক্ষোভের সকল বহিপ্রকাশ যেন ওখান থেকেই শুরু হয়। এদিকে ইথারে ভেসে আসছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের সংবাদ। পদত্যাগ করেই তিনি ভারতে পালিয়ে যান। সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন আবাল-বৃদ্ধ বনিতা।  গত প্রায় পনের বছরের দু:শাসনের পতনে জাতির জীবনে নেমে আসে নতুন এক স্বাধীনতার স্বাদ।

এমন একটি দিনের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ দীর্ঘ প্রায় পনের বছর শেখ হাসিনার দু:শাসনের বিপক্ষে আন্দোলন করেছিল। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জেল-জুলুমই শুধু নয়, নিজের দীর্ঘদিনের ক্যান্টনমেন্টস্থ বাড়িটিও হারাতে হয়েছে। জেলে থেকে মৃত্যু পথ যাত্রী হয়ে পড়ে বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্য। আপোসহীন এই নেত্রীকে বিদেশে পাঠানোর চক্রান্তও হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যু ঝুকি নিয়েও দেশ ছেড়ে বিদেশে যাননি তিনি। অবশেষে মৃত্যুর আগে দেখে গেলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন।

ক্ষমতা আকড়ে রাখতে পতিত শেখ হাসিনা তার বিরোধীতাদের দমনে কোন প্রক্রিয়াই বাদ রাখে নি। গুম,খুন, হত্যা,জেল জুলুম ফ্যাসিজমের সর্বশেষ সীমানায় পৌছে যায়। বিএনপি’র সাবেক সাংসদ ইলিয়াছ আলী ও কমিশনার চৌধুর আলমকে গুম করে খুন করা হয়। এভাবে বহু বিরোধীমতবাদকে গুম খুন করা হয়। রাখা হয় ভয়াবহ আয়না ঘরে।

ভোটের অধিকার এবং এ সব গুম খুনের প্রতিবাদে বিএনপি’ ২৮ ফেব্রুয়ারীর বিশাল জনসভা আয়োজন করে। যেখান থেকে সরকার পতনের আহবানকরা হয়। বিএনপির এই সভা বানচাল করতে গিয়ে শেখ হাসিনার হেলমেট বাহিনী, পেটুয়া বাহিনী রনক্ষেত্র তৈরি করেছিলো বিএনপি’র পলন্টস্থ্য অফিসসহ আশপাশের এলাকা। কঠিন সেই আন্দোলন কিছুদিনের রোহিত করলেও নতুন রুপে শুরু হয় ছাত্রদের কোটা আন্দোলন। আর এই আন্দোলনেই সরকারের চুড়ান্ত পতন নেমে আসে।

৩রা আগস্ট থেকে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রদেরকেও এ্যরেস্ট করা ‍শুরু হয়ে যায়। ৪ঠা আগস্ট দেখেছি কয়েকজন স্কুল আর কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মা-বাবার কান্নার রোল। থানা আর ডিবি অফিসে দৌড়াদৗড়ি শেষে সংবাদ কর্মীদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধ্যানে। সরকার যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনেছিল, ঠিক তখনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আন্দোলনে নেমে পড়ে। যাদের উপর চালানো হয়েছিল স্নাইপার,হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষনও করা হয়। ঢাকা রুপ নিয়েছিল রণক্ষেত্রে। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। ঢাকার আশ-পাশের শহর উপশহরগুলোতেও শিক্ষার্থীরা নেমে পড়ে আন্দোলনে। মুল সড়ক অবরোধ গড়ে তোলে।

যেভাবে ভারতে পালালেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা

৩৬ দিনের কঠিন আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেদিন সংক্ষিপ্ত নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে প্রবেশের অনুমোদন চেয়ে অনুরোধ করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের হেলিকপ্টারে করে তিনি যদি ভারতের আগরতলায় পৌঁছাতে পারেন, তাহলে সেখান থেকে তাকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে করে শেখ হাসিনাকে ৫ আগস্ট দিল্লি হিন্ডন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন ও জনরোষের মুখে ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে বিমানবন্দরে, সেখান থেকে বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজে করে আগরতলা হয়ে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে নামেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

শেখ হাসিনা যেভাবে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন

২০২৪-এর ৪ আগস্ট সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হয়। বেশ কিছু পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। সেদিন বিকেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও উপদেষ্টা শেখ হাসিনাকে জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতারা পিছু হটেছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা পরিস্থিতি মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে শক্তি প্রয়োগ করে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ধারণা দিয়েছেন যে এটি আর সামাল দেওয়া যাবে না। তারপরেই তিনি পদত্যাগ করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নেন।

৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একসঙ্গে বৈঠক করেন গণভবনে। নিরাপত্তা বাহিনী কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না, সেটার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা আইজিপিকে দেখিয়ে বলেন, তারা (পুলিশ) তো ভালো করছে। তখন আইজিপি জানান, পরিস্থিতি যে পর্যায়ে গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এ রকম কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সেদিন সকালে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি করানোর জন্য তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে আলোচনা করেন। তখন কর্মকর্তারা শেখ রেহানার সঙ্গে আরেক কক্ষে আলোচনা করেন। তাকে পরিস্থিতি জানিয়ে শেখ হাসিনাকে বোঝাতে অনুরোধ করেন।

শেখ রেহানা এরপর বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে বিদেশে থাকা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। এরপর জয় তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর শেখ হাসিনা পদত্যাগে রাজি হন।

সেদিন সকাল থেকে কঠোর কারফিউর মধ্যেও ঢাকার পথে পথে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও যোগ দিতে দেখা যায়। সেদিন সকাল থেকেই রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান ছিল। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়।

সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তার কিছুক্ষণ পর অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালনরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, “শিগগিরই তাদের জন্য ‘সুখবর’ আসছে।”

তখনই দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন ছড়ায় সামরিক শাসন কিংবা জরুরি অবস্থার মতো বিষয়গুলো। এর মধ্যেই খবর আসে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীতে সেনা দপ্তর থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় গণরোষের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে গেছেন শেখ হাসিনা। সামরিক একটি হেলিকপ্টারে করে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে কীভাবে ভারতে গেছেন, সে বিষয়ে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষকে অবহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন ৬ আগস্ট ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ভারতে যাওয়ার নাটকীয় সময়ের বর্ণনা দেন জয়শঙ্কর।

লোকসভাকে তিনি বলেছিলেন, সংক্ষিপ্ত নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে প্রবেশের অনুমোদন চেয়ে অনুরোধ করেন। ৫ আগস্ট বিকেলে চলে আসেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছালে ‘হিন্ডন ঘাঁটিতে’ তার সঙ্গে দেখা করেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ৫ আগস্ট লোকসভায় বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। পরে জয়শঙ্কর ও অজিত দোভালের উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি।

জয়শঙ্কর লোকসভাকে বলেছিলেন, কারফিউ সত্ত্বেও ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ঢাকা দখলে নেয়। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, ওই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ওই মুহূর্তে তিনি সংক্ষিপ্ত নোটিশে ভারতে আসার অনুমোদন পাওয়ার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের জন্য বারবার অনুরোধ আসছিল। ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি দিল্লিতে এসে পৌঁছান।