ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

৪ দিনের রিমান্ডে সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতের ইসলামের বহিস্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃুত্যর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকেও আটক করে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে একই দিন তাদের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশের করা আবেদনে বলা হয়, ভিকটিম মরিয়ম খাতুনের (১৯) ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিলেন। এ কারণে ভিকটিমের আত্মহত্যার পেছনে তাদের কোনো প্রভাব ছিল কিনা, তা উদঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মরিয়মের আত্মহত্যায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্যও আসামিদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর ন্যাম ভবনের (সংসদ সদস্যদের বাসভবন) ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ থাকা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ওই ফ্ল্যাট থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাতেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ‍্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সবশেষ সোমবার তাদের আদালতে তোলা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৪ দিনের রিমান্ডে সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতের ইসলামের বহিস্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃুত্যর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকেও আটক করে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে একই দিন তাদের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশের করা আবেদনে বলা হয়, ভিকটিম মরিয়ম খাতুনের (১৯) ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিলেন। এ কারণে ভিকটিমের আত্মহত্যার পেছনে তাদের কোনো প্রভাব ছিল কিনা, তা উদঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মরিয়মের আত্মহত্যায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্যও আসামিদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর ন্যাম ভবনের (সংসদ সদস্যদের বাসভবন) ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ থাকা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ওই ফ্ল্যাট থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাতেই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ‍্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সবশেষ সোমবার তাদের আদালতে তোলা হয়।