ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নতুন বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি আদায়ে থাকছে কঠিন চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • নতুন অর্থ বছরের বাজেট ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা
  • চলতি অর্থ বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বড়
  • ৮০ শতাংশ আদায়ের দায়িত্ব এনবিআরের কাঁধে
  • প্রতি বছরই এনবিআরের ঘাটতির ব্যবধান কমার চেয়ে উল্টো বেড়েই চলেছে

আগামী ৭ জুন ‍বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। নতুন সরকারের জন্য নতুন বাজেট। কেমন হবে আগামী অর্থ বছরের বাজেট? তার চিত্রটাও বা কেমন। এ নিয়ে সর্বত্রে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। যদিও বাজেটের খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে পৌছে যায় নানা উপায়ে। এমন কি বাজেট নিয়ে নানা প্রতিবেদনও প্রকাশি হতে দেখা যায়।

তথ্যানুযায়ী ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের সম্ভাব্য বাজেটের পরিমান হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের এই বাজেটের প্রস্তাবকে উচ্চভিলাষী বাজেটের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যে বাজেটে থাকছে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি। যা কিনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে আসন্ন অর্থবছরেও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নতুন বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। আর এই বিশাল বাজেটের বাড়তি ব্যয় মেটাতে বড় ভরসা রাখা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩.২২ শতাংশ বেশি। এই বিশাল রাজস্বের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আদায়ের মূল দায়িত্ব থাকবে এনবিআরের কাঁধে। নতুন বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট করতে যাচ্ছে সরকার। এর ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্বের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের চেয়ে ২৩.২২% বেশি। এই লক্ষ্য পূরণে এনবিআর-কে এককভাবে ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা আয় করতে হবে, যা বর্তমান মন্দা বাজারে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এদিকে লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত অর্জনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই এনবিআরের ঘাটতির ব্যবধান কমার চেয়ে উল্টো বেড়েই চলেছে।

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময়ে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০.৬০ শতাংশ। অথচ অর্থবছর শেষ হতে বাকি থাকা সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে— যা প্রায় অসম্ভব।

এর আগে প্রথম ৯ মাসেও ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা (প্রবৃদ্ধি ১১.১৫ শতাংশ)। অর্থাৎ, সময়ের সাথে সাথে ঘাটতির পাল্লা ভারী হচ্ছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সেবার ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এনবিআর ৩৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়েছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ১.০৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে আগামীতে প্রায় ৪২% প্রবৃদ্ধি দরকার, অথচ বিগত ২৫ বছরে এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধি ১৫-১৬% এর বেশি বাড়েনি। ফলে অর্থবছর শেষে সার্বিক ঘাটতি ১.৩০ থেকে ১.৪০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে এনবিআরের গড় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কখনই ১৫-১৬ শতাংশের বেশি অতিক্রম করতে পারেনি। সেখানে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ রূপকথা তুল্য। বিগত ২৫ বছরের (২০০১-২০২৫) ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এনবিআর কেবল একবারই ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছিল।

২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট
বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র) থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত, বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বাড়তি চাপ, বিপুল ভর্তুকি ব্যয় এবং সম্ভাব্য নতুন সরকারি বেতন কাঠামো— সবমিলিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি এক চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

একদিকে লক্ষ্যমাত্রার পাহাড়, অন্যদিকে রাজস্ব চুরির মহোৎসব। সম্প্রতি ক্রিশ্চিয়ান এইড ইন বাংলাদেশ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে ভয়ংকর এক তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানেও এই পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। শুধু কর ফাঁকিই নয়, করজালের বাইরে রয়ে গেছে দেশের বহু লাভজনক খাত ও প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ ফাঁকি ও কর ফাঁকির চোরাপথগুলো যদি বন্ধ করা যায়, তবেই কেবল রাজস্বে বড় উল্লম্ফন আনা সম্ভব।

২০২৩ সালেই দেশে প্রায় ২.৩০ লাখ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এই সংকট কাটাতে সিপিডি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা, করের আওতা বৃদ্ধি ও কর ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের তাগিদ দিয়েছে। রাজস্ব সংস্থান না হলে সরকারকে কর অব্যাহতি কমিয়ে এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচন করে বাজেটের আর্থিক চাপ সামলাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নতুন বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি আদায়ে থাকছে কঠিন চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:৫৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • নতুন অর্থ বছরের বাজেট ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা
  • চলতি অর্থ বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বড়
  • ৮০ শতাংশ আদায়ের দায়িত্ব এনবিআরের কাঁধে
  • প্রতি বছরই এনবিআরের ঘাটতির ব্যবধান কমার চেয়ে উল্টো বেড়েই চলেছে

আগামী ৭ জুন ‍বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। নতুন সরকারের জন্য নতুন বাজেট। কেমন হবে আগামী অর্থ বছরের বাজেট? তার চিত্রটাও বা কেমন। এ নিয়ে সর্বত্রে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। যদিও বাজেটের খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে পৌছে যায় নানা উপায়ে। এমন কি বাজেট নিয়ে নানা প্রতিবেদনও প্রকাশি হতে দেখা যায়।

তথ্যানুযায়ী ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের সম্ভাব্য বাজেটের পরিমান হচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের এই বাজেটের প্রস্তাবকে উচ্চভিলাষী বাজেটের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যে বাজেটে থাকছে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি। যা কিনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে আসন্ন অর্থবছরেও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নতুন বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। আর এই বিশাল বাজেটের বাড়তি ব্যয় মেটাতে বড় ভরসা রাখা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩.২২ শতাংশ বেশি। এই বিশাল রাজস্বের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আদায়ের মূল দায়িত্ব থাকবে এনবিআরের কাঁধে। নতুন বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট করতে যাচ্ছে সরকার। এর ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্বের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের চেয়ে ২৩.২২% বেশি। এই লক্ষ্য পূরণে এনবিআর-কে এককভাবে ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা আয় করতে হবে, যা বর্তমান মন্দা বাজারে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এদিকে লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত অর্জনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই এনবিআরের ঘাটতির ব্যবধান কমার চেয়ে উল্টো বেড়েই চলেছে।

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময়ে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০.৬০ শতাংশ। অথচ অর্থবছর শেষ হতে বাকি থাকা সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে— যা প্রায় অসম্ভব।

এর আগে প্রথম ৯ মাসেও ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা (প্রবৃদ্ধি ১১.১৫ শতাংশ)। অর্থাৎ, সময়ের সাথে সাথে ঘাটতির পাল্লা ভারী হচ্ছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সেবার ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এনবিআর ৩৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়েছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ১.০৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে আগামীতে প্রায় ৪২% প্রবৃদ্ধি দরকার, অথচ বিগত ২৫ বছরে এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধি ১৫-১৬% এর বেশি বাড়েনি। ফলে অর্থবছর শেষে সার্বিক ঘাটতি ১.৩০ থেকে ১.৪০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে এনবিআরের গড় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কখনই ১৫-১৬ শতাংশের বেশি অতিক্রম করতে পারেনি। সেখানে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ রূপকথা তুল্য। বিগত ২৫ বছরের (২০০১-২০২৫) ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এনবিআর কেবল একবারই ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছিল।

২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট
বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র) থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত, বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বাড়তি চাপ, বিপুল ভর্তুকি ব্যয় এবং সম্ভাব্য নতুন সরকারি বেতন কাঠামো— সবমিলিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি এক চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

একদিকে লক্ষ্যমাত্রার পাহাড়, অন্যদিকে রাজস্ব চুরির মহোৎসব। সম্প্রতি ক্রিশ্চিয়ান এইড ইন বাংলাদেশ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে ভয়ংকর এক তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানেও এই পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। শুধু কর ফাঁকিই নয়, করজালের বাইরে রয়ে গেছে দেশের বহু লাভজনক খাত ও প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ ফাঁকি ও কর ফাঁকির চোরাপথগুলো যদি বন্ধ করা যায়, তবেই কেবল রাজস্বে বড় উল্লম্ফন আনা সম্ভব।

২০২৩ সালেই দেশে প্রায় ২.৩০ লাখ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এই সংকট কাটাতে সিপিডি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা, করের আওতা বৃদ্ধি ও কর ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের তাগিদ দিয়েছে। রাজস্ব সংস্থান না হলে সরকারকে কর অব্যাহতি কমিয়ে এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচন করে বাজেটের আর্থিক চাপ সামলাতে হবে।