ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

যন্তর মন্তর আন্দোলন আরো বেগবান হচ্ছে, রুপ নিচ্ছে এবার সরকার পতনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র ও যুব আন্দোলন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ২০২৬ সালের বিতর্কিত ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ বা জেন-জেড (Gen-Z) বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ধারনা ছোট এই আন্দোলনটি  এখন রুপ নিতে যাচ্ছে সরকার পতন আন্দোলনে

জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা (NEET-UG) ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে যে অভূতপূর্ব ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দিল্লির যন্তর মন্তর ছাড়িয়ে এখন এক পূর্ণাঙ্গ আন্দোলন ও জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও একাধিক ছাত্র সংগঠনের আহ্বানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী দিল্লিকে থমথমে পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর রোড এখন কার্যত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের এই আন্দোলন গত ২০ জুলাই পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে। সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। 

বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তর ও তার আশেপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঢাকা। বিক্ষোভের গতি স্তব্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যন্তর মন্তরের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে।

বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে দিল্লি পুলিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ‘ইক্ষণ’ নামক ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ও মোবাইল কমান্ড ভেহিকেল মোতায়েন করেছে। পুলিশের এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে অনেক শিক্ষার্থী মুখ ঢেকেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবী

আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবিগুলো হলো: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ।  প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার ও স্বচ্ছতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক আলোচনার প্রস্তাব পাঠালেও CJP ও আন্দোলনরত ছাত্র পর্ষদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যাবে না। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন ও বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করা হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও সহিংসতার উত্তাপ

 দাবি পূরণের লক্ষ্য আন্দোলনকারীরা গত ২০জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের গায়ে রাবার ‍বুলেটের অসংখ্য চিহ্ন দেখা যায় এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই সহিংসতার প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী পুলিশি ধস্তাধস্তিতে আহত হন এবং তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।

এছাড়াও ছাত্রদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির মিাঠের ও রুপালী পর্দার তারকারাও। তারা ছাত্রদের সতর্ক বার্তা প্রদানের পাশাপাশি সরকারকেও সমীহ প্রকাশের আহবান জানান।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (DU) এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) কর্তৃপক্ষ তাদের ছাত্র ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যন্তর মন্তর এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানে সরকার থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীরা সরকারের এই উদ্যোগে সায় দেয়নি। তাদের সবার এখন একটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।

সরকারের পক্ষ থেকে অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল (যার মধ্যে প্রখ্যাত আরটিআই কর্মী সৌরভ দাস ছিলেন)-এর সাথে বৈঠকে বসেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে সিজেপি (CJP) নেতা অভিজিৎ দিপকে এবং আশুতোষ রাঙ্কা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আপস হবে না। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে নেই, যার ফলে আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ ২৬ দিন অনশন করার পর আজ (২৪ জুলাই) অনশন ভেঙেছেন। অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের মাঠের লড়াই থেকে সরছেন না। আজ দেশজুড়ে বৃহত্তর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘প্রতীকী যন্তর মন্তর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
দিল্লির এই ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রবাসীদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হচ্ছে।

কোন পথে এগুচ্ছে যন্তর মন্তর আন্দোলন

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “ছাত্র আন্দোলনের শেষ কোথায়?”। আপাতদৃষ্টিতে সরকার একদিকে আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা (যেমন ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) দেখালেও, অন্যদিকে পুলিশি বাধানিষেধ জারি করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার কৌশল নিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর (INDIA জোট) ব্যাপক সমর্থন এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এই আন্দোলন অতি সহজে স্তমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

যন্তর মন্তরে চলা শিক্ষার্থীদের এই লড়াই এখন শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এমন কি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ছাত্র-জনতা। এখন এই আন্দোলনটি সরকার পতনের আন্দোলনের দিকেই মোড় নিচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যন্তর মন্তর আন্দোলন আরো বেগবান হচ্ছে, রুপ নিচ্ছে এবার সরকার পতনে

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র ও যুব আন্দোলন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ২০২৬ সালের বিতর্কিত ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ বা জেন-জেড (Gen-Z) বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ধারনা ছোট এই আন্দোলনটি  এখন রুপ নিতে যাচ্ছে সরকার পতন আন্দোলনে

জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা (NEET-UG) ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে যে অভূতপূর্ব ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দিল্লির যন্তর মন্তর ছাড়িয়ে এখন এক পূর্ণাঙ্গ আন্দোলন ও জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও একাধিক ছাত্র সংগঠনের আহ্বানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী দিল্লিকে থমথমে পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর রোড এখন কার্যত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের এই আন্দোলন গত ২০ জুলাই পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে। সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। 

বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তর ও তার আশেপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঢাকা। বিক্ষোভের গতি স্তব্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যন্তর মন্তরের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে।

বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে দিল্লি পুলিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ‘ইক্ষণ’ নামক ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ও মোবাইল কমান্ড ভেহিকেল মোতায়েন করেছে। পুলিশের এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে অনেক শিক্ষার্থী মুখ ঢেকেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবী

আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবিগুলো হলো: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ।  প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার ও স্বচ্ছতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক আলোচনার প্রস্তাব পাঠালেও CJP ও আন্দোলনরত ছাত্র পর্ষদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যাবে না। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন ও বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করা হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও সহিংসতার উত্তাপ

 দাবি পূরণের লক্ষ্য আন্দোলনকারীরা গত ২০জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের গায়ে রাবার ‍বুলেটের অসংখ্য চিহ্ন দেখা যায় এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই সহিংসতার প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী পুলিশি ধস্তাধস্তিতে আহত হন এবং তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।

এছাড়াও ছাত্রদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির মিাঠের ও রুপালী পর্দার তারকারাও। তারা ছাত্রদের সতর্ক বার্তা প্রদানের পাশাপাশি সরকারকেও সমীহ প্রকাশের আহবান জানান।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (DU) এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) কর্তৃপক্ষ তাদের ছাত্র ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যন্তর মন্তর এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানে সরকার থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীরা সরকারের এই উদ্যোগে সায় দেয়নি। তাদের সবার এখন একটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।

সরকারের পক্ষ থেকে অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দল (যার মধ্যে প্রখ্যাত আরটিআই কর্মী সৌরভ দাস ছিলেন)-এর সাথে বৈঠকে বসেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে সিজেপি (CJP) নেতা অভিজিৎ দিপকে এবং আশুতোষ রাঙ্কা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আপস হবে না। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে নেই, যার ফলে আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘ ২৬ দিন অনশন করার পর আজ (২৪ জুলাই) অনশন ভেঙেছেন। অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের মাঠের লড়াই থেকে সরছেন না। আজ দেশজুড়ে বৃহত্তর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘প্রতীকী যন্তর মন্তর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
দিল্লির এই ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রবাসীদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হচ্ছে।

কোন পথে এগুচ্ছে যন্তর মন্তর আন্দোলন

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “ছাত্র আন্দোলনের শেষ কোথায়?”। আপাতদৃষ্টিতে সরকার একদিকে আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা (যেমন ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) দেখালেও, অন্যদিকে পুলিশি বাধানিষেধ জারি করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার কৌশল নিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর (INDIA জোট) ব্যাপক সমর্থন এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এই আন্দোলন অতি সহজে স্তমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

যন্তর মন্তরে চলা শিক্ষার্থীদের এই লড়াই এখন শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এমন কি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ছাত্র-জনতা। এখন এই আন্দোলনটি সরকার পতনের আন্দোলনের দিকেই মোড় নিচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।