যন্তর মন্তর আন্দোলন আরো বেগবান হচ্ছে, রুপ নিচ্ছে এবার সরকার পতনে
- আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র ও যুব আন্দোলন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ২০২৬ সালের বিতর্কিত ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ বা জেন-জেড (Gen-Z) বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ধারনা ছোট এই আন্দোলনটি এখন রুপ নিতে যাচ্ছে সরকার পতন আন্দোলনে
বর্তমানে দিল্লির যন্তর মন্তর ও তার আশেপাশের এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঢাকা। বিক্ষোভের গতি স্তব্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যন্তর মন্তরের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে।
বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারীদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে দিল্লি পুলিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ‘ইক্ষণ’ নামক ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ও মোবাইল কমান্ড ভেহিকেল মোতায়েন করেছে। পুলিশের এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে অনেক শিক্ষার্থী মুখ ঢেকেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবী
আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবিগুলো হলো: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরীক্ষা পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ। প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার ও স্বচ্ছতা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক আলোচনার প্রস্তাব পাঠালেও CJP ও আন্দোলনরত ছাত্র পর্ষদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যাবে না। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন ও বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করা হবে।
দাবি পূরণের লক্ষ্য আন্দোলনকারীরা গত ২০জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের গায়ে রাবার বুলেটের অসংখ্য চিহ্ন দেখা যায় এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই সহিংসতার প্রতিবাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী পুলিশি ধস্তাধস্তিতে আহত হন এবং তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
এছাড়াও ছাত্রদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির মিাঠের ও রুপালী পর্দার তারকারাও। তারা ছাত্রদের সতর্ক বার্তা প্রদানের পাশাপাশি সরকারকেও সমীহ প্রকাশের আহবান জানান।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (DU) এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) কর্তৃপক্ষ তাদের ছাত্র ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যন্তর মন্তর এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এই সমস্যা সমাধানে সরকার থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীরা সরকারের এই উদ্যোগে সায় দেয়নি। তাদের সবার এখন একটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ।
কোন পথে এগুচ্ছে যন্তর মন্তর আন্দোলন
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “ছাত্র আন্দোলনের শেষ কোথায়?”। আপাতদৃষ্টিতে সরকার একদিকে আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা (যেমন ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) দেখালেও, অন্যদিকে পুলিশি বাধানিষেধ জারি করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার কৌশল নিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর (INDIA জোট) ব্যাপক সমর্থন এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এই আন্দোলন অতি সহজে স্তমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
যন্তর মন্তরে চলা শিক্ষার্থীদের এই লড়াই এখন শুধু একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এমন কি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ছাত্র-জনতা। এখন এই আন্দোলনটি সরকার পতনের আন্দোলনের দিকেই মোড় নিচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।






















