ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে উত্তাল নয়াদিল্লি,প্রিয়াঙ্কাসহ আটক ২৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ আইনপ্রণেতাসহ ২৫০-এরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলোর বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ৯ ঘণ্টাব্যাপী এক নজিরবিহীন অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে এই আটকের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতা এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কাছাকাছি পৌঁছালে আকাশবাণী ভবন কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রোধ করে। এই সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি হয়।

পুলিশি বাধায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ নেতারা রাস্তার ওপর বসে পড়েন এবং টানা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। আটকের আগে আকাশবাণী ভবনের গেটের পেছন থেকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি এখানে ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দেশের সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা স্পষ্টতই রাষ্ট্রদ্রোহ এবং এর থেকে কেউ রেহাই পাবে না।” তিনি নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ভোট চুরি’ বলে আখ্যা দেন।

সারা দিন ধরে চলা এই অবস্থান কর্মসূচি রাতের দিকে আরও নাটকীয় রূপ নেয়। রাত প্রায় ৮টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশ জোরপূর্বক লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে টেনে-হিঁচড়ে বাসের ভেতর তোলার চেষ্টা করলে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্যান্য নেতাদেরও পুলিশি প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এবং অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত লোক সমাগম করার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল, তবে আটক করার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ:
কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের মূল অভিযোগ, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় এমন কিছু নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের দল বিজেপিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই আন্দোলনকে ভারতের মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে না আসা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই আন্দোলনকে ‘পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে৷

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে উত্তাল নয়াদিল্লি,প্রিয়াঙ্কাসহ আটক ২৫০

আপডেট সময় : ০৮:১৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শীর্ষ আইনপ্রণেতাসহ ২৫০-এরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলোর বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ৯ ঘণ্টাব্যাপী এক নজিরবিহীন অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে এই আটকের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতা এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কাছাকাছি পৌঁছালে আকাশবাণী ভবন কমপ্লেক্সের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রোধ করে। এই সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি হয়।

পুলিশি বাধায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ নেতারা রাস্তার ওপর বসে পড়েন এবং টানা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। আটকের আগে আকাশবাণী ভবনের গেটের পেছন থেকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি এখানে ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দেশের সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা স্পষ্টতই রাষ্ট্রদ্রোহ এবং এর থেকে কেউ রেহাই পাবে না।” তিনি নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ভোট চুরি’ বলে আখ্যা দেন।

সারা দিন ধরে চলা এই অবস্থান কর্মসূচি রাতের দিকে আরও নাটকীয় রূপ নেয়। রাত প্রায় ৮টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশ জোরপূর্বক লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে টেনে-হিঁচড়ে বাসের ভেতর তোলার চেষ্টা করলে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ অন্যান্য নেতাদেরও পুলিশি প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এবং অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত লোক সমাগম করার কারণে তাদের আটক করা হয়েছিল, তবে আটক করার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ:
কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের মূল অভিযোগ, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় এমন কিছু নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের দল বিজেপিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই আন্দোলনকে ভারতের মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে না আসা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই আন্দোলনকে ‘পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির হতাশার বহিঃপ্রকাশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে৷