ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঢাকায় ৩দিনের সফরে এলেন সার্জিও গোর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে পা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তাঁর এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার তাঁর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।

তবে সবার আলোচনায়, এই মার্কিন দূত ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে কি বার্তা নিয়ে এসেছেন?  তারেক রহমানের চীন সফরের পরেই এই মার্কিন দূতের আগমন ঘটায় কুটনীতি পাড়ায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উকি দেওয়াই স্বাভাবিক।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত ছাড়াও ভারতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন সার্জিও গর। তিনি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক বিশষে করে-নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অগ্রগতি জানতে চাইতে পারেন। হয়তো তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত সরকারকে কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া, মস্কো এবং আঙ্কাকার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে দেশটি।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

সম্প্রতি ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের। সেই সাক্ষাতে সার্জিও গর উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, সার্জিও গর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত হওয়ার আগে গর হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢাকায় ৩দিনের সফরে এলেন সার্জিও গোর

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে পা রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তাঁর এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার তাঁর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।

তবে সবার আলোচনায়, এই মার্কিন দূত ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে কি বার্তা নিয়ে এসেছেন?  তারেক রহমানের চীন সফরের পরেই এই মার্কিন দূতের আগমন ঘটায় কুটনীতি পাড়ায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উকি দেওয়াই স্বাভাবিক।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত ছাড়াও ভারতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন সার্জিও গর। তিনি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক বিশষে করে-নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অগ্রগতি জানতে চাইতে পারেন। হয়তো তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত সরকারকে কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া, মস্কো এবং আঙ্কাকার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে দেশটি।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

সম্প্রতি ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের। সেই সাক্ষাতে সার্জিও গর উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

উল্লেখ্য, সার্জিও গর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত হওয়ার আগে গর হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক ছিলেন।