ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ইউরোপে বাংলাদেশের প্রথম জয়,তপুর ভিন্নমাত্রার উল্লাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনোতে থেকে বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। তবুও ভয়টা ছিলো দেশটি যে ইউরোপের। সেখানকার খেলার ধরনটাই ভিন্ন। গতিময় ফুটবল খেলায় অভ্যস্ত শীত প্রধান দেশ রাষ্ট্রগুলোর। সান মারিনোর ফুটবলারদের মধ্যেও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। তবে গতিময় ফুটবল খেলেও বাংলাদেশের সামনে টিকতে পারেনি। হামজা চৌধুরী,জামাল ভুইয়া আর তপু বর্মনদের নৈপুন্যের কাছে কাছে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরে গেছে সানমারিনো। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোন দেশের বিরুদ্ধে অভিষেকেই জয় পেলো। দুটি গোলই করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন।

তার করা গোল দুটি উপস্থিত প্রবাসী বাঙালীদের যেমন আনন্দে ভাসিয়েছিলো,ঠিক তেমনি তপুর আড়াই বছরের শিশু সন্তানটিও খুশিতে নাচলেন বাবার গোলে।  মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে ম্যাচের সকালে ছোট্ট ছেলেটি তাকে বলেছিলে, ‘বাব,একটা বা দুইটা গোল করবে।’ ম্যাচ শেষে সে সত্যটা প্রকাশ ‍পাওয়ায় তপুর আনন্দ অন্যান্যদের চেয়েছিল ভিন্নমাত্রার। তাই গোল দুটি তিনি সার্থপরের মতো শিশু সন্তানকেই উৎসর্গ করেন নি, দেশের ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদের প্রতিও উৎসর্গ করেছেন।

বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশের নৈপুন্য সবার নজর কেড়েছে। প্রো-বাছাই পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করেছে চোখে চোখ রেখে। যার সুবাদে ইউরোপের দেশ সান মারিনো থেকে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলার আহবান পায় হামজা-সোমিত সোমরা।

নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে ইউরোপে প্রথম খেলার অভিজ্ঞতা লাল সবুজ দলের। দুটিতেই দেখা মিললো সফলতা। যদিও শুক্রবার রাতের ম্যাচের শুরু থেকেই অগোছালো ফুলবল খেলতে দেখা গিয়েছিলো জামাল ভুইয়াদের।

তবে নতুন মাঠের খেই কাটিয়ে উঠতে খুব একটা বেশি সময় নেয়নি লাল-সবুজ দলের তুর্কীরা। মাত্র ১৯ মিনিটের মাথায় দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তপুর বর্মণ।যদিও পরের গোলটি পেতে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। সেই তপু বর্মনের হেডে গোল পায় বাংলাদেশ। তবে প্রথম গোল হজমের ১২ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে বাংলাদেশ।  স্বাগতিকদের  হয়ে এই একমাত্র গোলটি করেন জিওকোপেত্তি।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোলেরই আক্রমনের হোতা ছিলেন হামজা চৌধুরী। হামজা চৌধুরীর নেয়া ফ্রিকিক শটটি বক্সের সামনে প্রতিহত হলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।বক্সের মাথায় জটলার মধ্যে থেকে বলের দখল নিয়ে বাঁ পাশে ফাঁকায় থাকা শেখ মোরসালিনের কাছে পাস দেন এক বাংলাদেশি ফুটবলার। মোরসালিন বক্সে দারুণ একটি ক্রস তুলে দিলে সেই ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ।

এরপর ৮৬তম মিনিটে সেটপিস থেকে আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। হামজা চৌধুরীর নেয়া ফ্রি-কিক বক্সে পৌঁছায়। প্রথমে তপু বর্মণ পিছলে পড়ে গেলেও বল চলে যায় বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে। তিনি জোরালো শট নিলে সেই শটে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে দ্বিতীয়বারের মতো জালে পাঠান তপু বর্মণ। তাতেই পূর্ণ হয় তার জোড়া গোল।

এই ম্যাচে স্কোর লাইন আরো বড় হতে পারতো বাংলাদেশ দলের। কিন্তু একজন নাম্বার নাইনের অভাবে গোল হওয়ার মতো সুযোগগুলো মিস হয়ে যায়। কখনো বারের লেগে,কখনো ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। পক্ষান্তরে গোল কিপার মিতুল মার্মা ভালো খেললেও তার কিছু ত্রুটি ছিলো দৃষ্টি কটু। তার হাত ফসকে বল ছুটে যাওয়াটা দলকে ভোগাতে পারে। এই ম্যাচেও তেমিন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।রেফরির দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ায় আরেকটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় লাল সবুজ পতাকা বহনকারীরা। তবে তার বেশ কয়েকটি আক্রমন প্রতিহত করা ছিলো নজর কাড়ার মতোই।

বাংলাদেশ ম্যাচের ৩৬ মিনিটেে একবার, ৫২ মিনিটে আরেকবার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলো। প্রথমবার সাদ উদ্দিন পরেরবার আহমেদ ফাহিম মিস করেন। মূলত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমন বেড়ে যায়। এ সময় সোমিত সোম, জায়হান ও বিশ্বনাথদের বদলি হিসেবে নামানো হয়।

এই ম্যাচের ফলাফল হতে না হতেই আরেকটি ইউরোপের দেশ ফিলিপাইন থেকে প্রীতি ম্যাচের আমন্ত্রন পায় বাংলাদেশ। যদিও এই খেলার সময় সূচি এখনো জানানো হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইউরোপে বাংলাদেশের প্রথম জয়,তপুর ভিন্নমাত্রার উল্লাস

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনোতে থেকে বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। তবুও ভয়টা ছিলো দেশটি যে ইউরোপের। সেখানকার খেলার ধরনটাই ভিন্ন। গতিময় ফুটবল খেলায় অভ্যস্ত শীত প্রধান দেশ রাষ্ট্রগুলোর। সান মারিনোর ফুটবলারদের মধ্যেও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। তবে গতিময় ফুটবল খেলেও বাংলাদেশের সামনে টিকতে পারেনি। হামজা চৌধুরী,জামাল ভুইয়া আর তপু বর্মনদের নৈপুন্যের কাছে কাছে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরে গেছে সানমারিনো। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোন দেশের বিরুদ্ধে অভিষেকেই জয় পেলো। দুটি গোলই করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন।

তার করা গোল দুটি উপস্থিত প্রবাসী বাঙালীদের যেমন আনন্দে ভাসিয়েছিলো,ঠিক তেমনি তপুর আড়াই বছরের শিশু সন্তানটিও খুশিতে নাচলেন বাবার গোলে।  মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে ম্যাচের সকালে ছোট্ট ছেলেটি তাকে বলেছিলে, ‘বাব,একটা বা দুইটা গোল করবে।’ ম্যাচ শেষে সে সত্যটা প্রকাশ ‍পাওয়ায় তপুর আনন্দ অন্যান্যদের চেয়েছিল ভিন্নমাত্রার। তাই গোল দুটি তিনি সার্থপরের মতো শিশু সন্তানকেই উৎসর্গ করেন নি, দেশের ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদের প্রতিও উৎসর্গ করেছেন।

বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশের নৈপুন্য সবার নজর কেড়েছে। প্রো-বাছাই পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করেছে চোখে চোখ রেখে। যার সুবাদে ইউরোপের দেশ সান মারিনো থেকে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলার আহবান পায় হামজা-সোমিত সোমরা।

নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে ইউরোপে প্রথম খেলার অভিজ্ঞতা লাল সবুজ দলের। দুটিতেই দেখা মিললো সফলতা। যদিও শুক্রবার রাতের ম্যাচের শুরু থেকেই অগোছালো ফুলবল খেলতে দেখা গিয়েছিলো জামাল ভুইয়াদের।

তবে নতুন মাঠের খেই কাটিয়ে উঠতে খুব একটা বেশি সময় নেয়নি লাল-সবুজ দলের তুর্কীরা। মাত্র ১৯ মিনিটের মাথায় দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তপুর বর্মণ।যদিও পরের গোলটি পেতে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল। সেই তপু বর্মনের হেডে গোল পায় বাংলাদেশ। তবে প্রথম গোল হজমের ১২ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে বাংলাদেশ।  স্বাগতিকদের  হয়ে এই একমাত্র গোলটি করেন জিওকোপেত্তি।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোলেরই আক্রমনের হোতা ছিলেন হামজা চৌধুরী। হামজা চৌধুরীর নেয়া ফ্রিকিক শটটি বক্সের সামনে প্রতিহত হলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।বক্সের মাথায় জটলার মধ্যে থেকে বলের দখল নিয়ে বাঁ পাশে ফাঁকায় থাকা শেখ মোরসালিনের কাছে পাস দেন এক বাংলাদেশি ফুটবলার। মোরসালিন বক্সে দারুণ একটি ক্রস তুলে দিলে সেই ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ।

এরপর ৮৬তম মিনিটে সেটপিস থেকে আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। হামজা চৌধুরীর নেয়া ফ্রি-কিক বক্সে পৌঁছায়। প্রথমে তপু বর্মণ পিছলে পড়ে গেলেও বল চলে যায় বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে। তিনি জোরালো শট নিলে সেই শটে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে দ্বিতীয়বারের মতো জালে পাঠান তপু বর্মণ। তাতেই পূর্ণ হয় তার জোড়া গোল।

এই ম্যাচে স্কোর লাইন আরো বড় হতে পারতো বাংলাদেশ দলের। কিন্তু একজন নাম্বার নাইনের অভাবে গোল হওয়ার মতো সুযোগগুলো মিস হয়ে যায়। কখনো বারের লেগে,কখনো ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। পক্ষান্তরে গোল কিপার মিতুল মার্মা ভালো খেললেও তার কিছু ত্রুটি ছিলো দৃষ্টি কটু। তার হাত ফসকে বল ছুটে যাওয়াটা দলকে ভোগাতে পারে। এই ম্যাচেও তেমিন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।রেফরির দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ায় আরেকটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় লাল সবুজ পতাকা বহনকারীরা। তবে তার বেশ কয়েকটি আক্রমন প্রতিহত করা ছিলো নজর কাড়ার মতোই।

বাংলাদেশ ম্যাচের ৩৬ মিনিটেে একবার, ৫২ মিনিটে আরেকবার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলো। প্রথমবার সাদ উদ্দিন পরেরবার আহমেদ ফাহিম মিস করেন। মূলত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমন বেড়ে যায়। এ সময় সোমিত সোম, জায়হান ও বিশ্বনাথদের বদলি হিসেবে নামানো হয়।

এই ম্যাচের ফলাফল হতে না হতেই আরেকটি ইউরোপের দেশ ফিলিপাইন থেকে প্রীতি ম্যাচের আমন্ত্রন পায় বাংলাদেশ। যদিও এই খেলার সময় সূচি এখনো জানানো হয়নি।