আসন্ন বাজেটে শিক্ষায় থাকছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব,তবুও কম
- আপডেট সময় : ০৭:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে
- সম্ভাব্য বাজেট ১লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা
- বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা
দেশের শিক্ষাখাতের বাজেট নিয়ে বিগত সময় হায়হুতাশ শুনতে দেখা যায়। বাজেটের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ক্রমাগত গবেষণাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া তৃণ পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাদি নামে মাত্র থাকায় প্রত্যাশানুযায়ী শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসছে না। সকল দিক বিবেচনায় রেখে আসছে বাজেটে এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার।
এবারের শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেটের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হবে- যা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এবারের বাজেটে জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ বরাদ্দ চেয়েছিল মন্ত্রণালয়৷ সেই চাওয়া অনুযায়ী ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার খোঁজ-খবর নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরের টাকা দেয়া বন্ধ রয়েছে৷ এখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তসরুফ (আত্মসাৎ) করা হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে ‘থোক বরাদ্দ’ থেকে আবারও শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরকালীন ভাতা চালুর কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী৷
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন অর্থবছরের বাজেট ১০ শতাংশের কম শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে শিক্ষাখাতে সাড়ে ১০ শতাংশের ওপরে বরাদ্দ রাখা হয়। এ হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ প্রায় এক শতাংশের মতো কমছে। যদিও টাকার অঙ্কে শিক্ষায় বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশের মতো বরাদ্দ থাকা উচিত। সেখানে আমাদের বরাদ্দ আছে ২ শতাংশের কম। সুতরাং প্রতি বছর শিক্ষাখাতে ১ শতাংশ করে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। সেখানে যদি বরাদ্দের হার কমানো হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে।
এর কারণ, দেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে বিদ্যমান মান বজায় রাখতেই শিক্ষাখাতে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হলে অতিরিক্ত অর্থায়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই ধাপে ধাপে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি ব্যবস্থাও সমানতালে শক্তিশালী করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের বাজেটে যে ১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সব থেকে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের জন্য। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশের সমান।
এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত বাজেটের ১০ দশমিক ৫০ শতাংশের সমান। অর্থাৎ চলতি বছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে টাকার অঙ্কে বরাদ্দ ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বাড়লেও, বরাদ্দের হার বিবেচনায় দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।
অপরদিকে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হতে পারে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ফলে জিডিপির তুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয় ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে জিডিপির ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ আছে। অর্থাৎ জিডিপি’র ভিত্তিতে আগামী বছর বরাদ্দ কমছে।

















