সচিব শুন্যতায় ফাইলবন্দি তিন মন্ত্রণালয় ও ৬ দপ্তরের কাজ
- আপডেট সময় : ০৫:১৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
- / ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও ছয়টি দপ্তর সচিব শুন্যতায় চলছে। চালাচ্ছেন অতিরিক্ত সচিবরাই। কিন্তু সব কাজ অতিরিক্ত সচিবদের দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। যে কারণে এসব মন্ত্রণালয়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।বাংলাদেশ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তিনটি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এই তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ছয় মাস ধরে সচিবের পদ শুন্য হয়ে আছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে গত তিনমাস ধরে সচিবের পদ শুন্য হয়ে পড়ে আছে। টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে গত দুই মাস ধরে সচিবের পদ শুন্য রয়েছে।
গত বছরের ৬ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহবুব বেলাল হায়দারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদকে সেখানে বদলি করা হয়। কিন্তু বদলির মাসখানিক পরেই ২৯ ডিসেম্বর তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে (ছয় মাস) এই মন্ত্রণালয়ে সচিব নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২৫ মার্চ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিভাগেও পূর্ণ সচিব নিয়োগ করা হয়নি। অতিরিক্ত সচিব মো. ইসমাইল হোসেন রুটিন দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই তিনটি মন্ত্রণালয় ছাড়াও সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)।
৩০ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান অবসর গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম।
এই তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছাড়াও সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)।
এরই মধ্যে গত ১৯ জুন একসঙ্গে চার সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তারা হলেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী এনামুল হাসান, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব) সুকেশ কুমার সরকার, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মুহম্মদ ইবরাহিম ও জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মো. সহিদ উল্যাহ।
এছাড়া ২৪ জুন দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়।
সচিব শুন্যতায় মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর কাজ এগুচ্ছে না। যার ফলে কাজের ফাইলগুলো বন্দি হয়ে আছে। অগ্রগতি হচ্ছে না কোন কাজের।
ডাক ও টেলযোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম ঠিক রাখতে সচিবের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। সচিব না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরী বলে তিনি মনে করছেন।




















