আইচি-নাগোয়া শহরে বাজছে এশিয়ান গেমসের দামাম
- আপডেট সময় : ১১:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬৪ বার পড়া হয়েছে
জপানের আইচি ও নাগোয়া (Aichi-Nagoya) শহরে এখন এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর দামামা বাজছে। এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১১,০০০-এর বেশি অ্যাথলেটের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক নগরী। বইছে সেখানে উৎসবের আমেজ। আর মাত্র তিনদিন পরেই ষোলদিন ব্যাপী এশিয়ান গেমসের পর্দা ওঠবে।
টোকিও হিরো শিমা অতপর আইচি-নাগোয়া। জাপানের মধ্যবর্তী স্থান, তৃতীয় বৃহত ইন্ড্রাট্রিয়াল শহর । জায়গা সঙ্কুলান, ভেন্যু সমস্যা, নানাবিধ জটিলতা কাটিয়ে এশিয়ার বিশতম এই বৃহত গেমসটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায়। তিনদিন পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পালামো মিজুহো স্টেডিয়ামে রঙিন আলোয় মেতে উঠার দিনগুনছেন ক্রীড়ামোদীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বলতেই থাকে ভিন্ন এক আমেজ, আকর্ষন। গেমসের মাধ্যমে একটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐতিহ্য, শিল্প গোটা এশিয়া তথা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার অনন্য এক সুযোগ তৈরি করে।
এশিয়ান গেমস পথচলা শুরু করে ১৯৫১ সালে, ভারতের নয়াদিল্লিতে। ১৯৫৪ সালে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আয়োজিত গেমসের পর থেকে এটি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এশিয়ার অগ্রগতির সাথে সাথে এই গেমসের পরিসরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫১ সালের নয়াদিল্লি গেমসে ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ছিল ৪৮৯ জন। ১৯৫৮ সালের টোকিও গেমসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮২০-এ এবং ১৯৯০ সালের বেইজিং গেমসের সময় ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ছিল ৬,১২২ জন। ২০২৬ সালে নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য গেমসে ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ১১,০০০ ছাড়িয়ে।
তবে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা যাই থাকুক না কেন, পদক যুদ্ধটা কিন্তু মাত্র ৫টি দেশের মধ্যেই হয়ে থাকে। গত তিনটি আসরের দিকে চোখ রাখতেই সেটা অনেকটা পরিস্কার হয়ে যাবে।
গত তিনটি এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের সংখ্যার ভিত্তিতে চীন পদক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানের দেশগুলো একেক আসরে একেক রকম হয়েছে—ভারত, ইন্দোনেশিয়া, উজবেকিস্তান ও অন্যান্য দেশ এই শীর্ষ পাঁচের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
এশিয়ান গেমসের শুরুর দিকে—অর্থাৎ ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে—জাপানের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তবে ১৯৭৪ সালের তেহরান গেমসের সময় থেকে চীনের উত্থান দ্রুত হতে শুরু করে। এরপর ১৯৮২ সালের নয়াদিল্লি গেমসে প্রথমবারের মতো জাপানকে পেছনে ফেলে চীন সর্বোচ্চ পদকজয়ী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে।
গেমস আয়োজনে জাপান
জাপানে অনুষ্ঠিত প্রথম এশিয়ান গেমস ছিল ১৯৫৮ সালের টোকিও গেমস, যা ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকের ছয় বছর আগে আয়োজিত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা গেমসে জাপান দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজক দেশের ভূমিকা পালন করে। এর ফলে, ২০২৬ সালের আইচি-নাগোয়া গেমস জাপানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গ্রীষ্মকালীন এশিয়ান গেমস হিসেবে গণ্য হবে।
জাপান চারবার শীতকালীন এশিয়ান গেমস আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে সাপ্পোরো, ২০০৩ সালে আওমোরি এবং ২০১৭ সালে পুনরায় সাপ্পোরো আয়োজক শহর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
প্রথম প্রতিযোগিতা আয়োজনের পর থেকে গত ৭৫ বছরে এশিয়ান গেমস একটি বিশাল ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হয়েছে, যা সমগ্র এশিয়া থেকে সেরা ক্রীড়াবিদদের একত্রিত করে। আইচি-নাগোয়া গেমস এই ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
গত তিনটি আসরে এশিয়ান গেমসের সেরা পাঁচটি দলের অবস্থান
হ্যাংঝু, চীন (২০২২)
র্যাঙ্কিং: দেশ স্বর্ণ রৌপ্য ব্রোঞ্জ
১: চীন ২০১ ১১১ ৭১
২:জাপান ৫২ ৬৭ ৬৯
৩: দক্ষিণ কোরিয়া ৪২ ৫৯ ৮৯
৪: ভারত ২৮ ৩৮ ৪১
৫: উজবেকিস্তান ২২ ১৮ ৩১
জাকার্তা-পালেমবাং, ইন্দোনেশিয়া (২০১৮)
র্যাঙ্কিং:দেশ স্বর্ণ রৌপ্য ব্রোঞ্জ
১: চীন ১৩২ ৯২ ৬৫
২: জাপান ৭৫ ৫৬ ৭৪
৩: দক্ষিণ কোরিয়া ৪৯ ৫৮ ৭০
৪: ইন্দোনেশিয়া ৩১ ২৪ ৪৩
৫: উজবেকিস্তান ২১ ২৪ ২৫
ইনচন, দক্ষিণ কোরিয়া (২০১৪)
র্যাঙ্কিং: দেশ স্বর্ণ রৌপ্য ব্রোঞ্জ
১: চীন ১৫১ ১০৯ ৮৫
২: দক্ষিণ কোরিয়া ৭৯ ৭০ ৭৯
৩: জাপান ৪৭ ৭৭ ৭৬
৪: কাজাখস্তান ২৮ ২৩ ৩৩
৫: ইরান ২১ ১৮ ১৮






















