ঢাকা ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পরাজয়েও রেকর্ড গড়লেন শান্ত-মুমিনুলরা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডারউইনে যেই নতুন ধারার ক্রিকেট উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টে হাটলো তার বিপরীতে৷ তার ছিটে ফোটাও দেখাতে পারেনি। পুরনো সেই ব্যর্থতাই আরেকবার মঞ্চায়ন করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন দাসরা।

ব্যাটারদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ক্রিকেটে শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্জন ছাড়া দ্বিতীয় টেস্টে কিছুই অর্জন নেই বাংলাদেশের। বরং এক ম্যাচ পরই নিজেদের আসল চেহারায় ফিরে হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে৷

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে বাংলাদেশের দরকার ছিল অন্তত ১৪৭ রান। কিন্তু ৯৫ রানেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে গেছে৷ ফলে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই বলে ম্যাচের দ্বতীয় দিনেই খেলা খতম!
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বিচিত্র এক সফরের অভিজ্ঞতা পেলো বাংলাদেশ৷ ডারউইনে চার দিন গড়ানোর পর ম্যাকাই টেস্ট থামলো মাত্র দুদিনে৷ টেস্ট ক্রিকেট এও যেন নতুন এক অভিজ্ঞতাার রেকর্ড অর্জন করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল৷ এতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের অকল্পনীয় ব্যর্থতার পরে দলকে কিছুটা টেনে তুলেছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলাম। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব নিতে হতো ব্যাটারদের। কিন্তু এবার ব্যর্থতার ষোলাকলা পূর্ণ করলেন তারা। যেন প্রথম ইনিংসের হুবহু ফটোকপি৷ দুই সেশনও ব্যাটিং করতে পারল না বাংলাদেশ। চরম ভরাডুবি৷
অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানই দুই ইনিংস মিলে টপকাতে পারলো না বাংলাদেশ৷ উইকেট যতই বোলারদের অনুকুলে থাকুক না কেন,তাই বলে একশ রানও করা যাবে না?

স্বাগতিকরা যদি সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে হাল ধরতে পারে শান্তরা কেন নয়? তাদের তো হারানোর কিছুই ছিলো না৷ ডারউন জেতার পর মনোবল চাঙ্গা থাকার কথা৷ অথচ ব্যাকফুটে থেকে অস্ট্রেলিয়া কঠিন উইকেটেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷
আগের দিনের ৮ উইকেটে ১০১ রানের লিডকে তারা বাকি দুই উইকেটে টেনে নিয়ে যায় ১৪৬ রানে৷ দলীয় ইনিংস ১৬৫ থেকে রওনা তিয়ে থামে ২১০ রানে৷ প্রথম ইনিংসের এই ব্যবধানটাই বিপর্যকর এই উইকেটে গড়ে দেয় প্রার্থক্য৷

প্বাংরথম ইনিংসের ন্যায় লাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও হয় বিপর্যয় দিয়ে। ৫ রানের মধ্যেই সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে হারায় দলটি। পরে তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শান্ত ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হওয়ার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৭০ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাইজুল ইসলাম করেন ৭ রান, আর তাসকিন আহমেদের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক ছিলেন সবচেয়ে সফল। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। তবে ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং—প্রথম ইনিংসে তিনি শিকার করেন ৭ উইকেট।

এই হারে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পরাজয়েও রেকর্ড গড়লেন শান্ত-মুমিনুলরা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনে যেই নতুন ধারার ক্রিকেট উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাই টেস্টে হাটলো তার বিপরীতে৷ তার ছিটে ফোটাও দেখাতে পারেনি। পুরনো সেই ব্যর্থতাই আরেকবার মঞ্চায়ন করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন দাসরা।

ব্যাটারদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ক্রিকেটে শরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্জন ছাড়া দ্বিতীয় টেস্টে কিছুই অর্জন নেই বাংলাদেশের। বরং এক ম্যাচ পরই নিজেদের আসল চেহারায় ফিরে হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে৷

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে বাংলাদেশের দরকার ছিল অন্তত ১৪৭ রান। কিন্তু ৯৫ রানেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে গেছে৷ ফলে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই বলে ম্যাচের দ্বতীয় দিনেই খেলা খতম!
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বিচিত্র এক সফরের অভিজ্ঞতা পেলো বাংলাদেশ৷ ডারউইনে চার দিন গড়ানোর পর ম্যাকাই টেস্ট থামলো মাত্র দুদিনে৷ টেস্ট ক্রিকেট এও যেন নতুন এক অভিজ্ঞতাার রেকর্ড অর্জন করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল৷ এতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের অকল্পনীয় ব্যর্থতার পরে দলকে কিছুটা টেনে তুলেছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে শরিফুল ইসলাম। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব নিতে হতো ব্যাটারদের। কিন্তু এবার ব্যর্থতার ষোলাকলা পূর্ণ করলেন তারা। যেন প্রথম ইনিংসের হুবহু ফটোকপি৷ দুই সেশনও ব্যাটিং করতে পারল না বাংলাদেশ। চরম ভরাডুবি৷
অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানই দুই ইনিংস মিলে টপকাতে পারলো না বাংলাদেশ৷ উইকেট যতই বোলারদের অনুকুলে থাকুক না কেন,তাই বলে একশ রানও করা যাবে না?

স্বাগতিকরা যদি সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে হাল ধরতে পারে শান্তরা কেন নয়? তাদের তো হারানোর কিছুই ছিলো না৷ ডারউন জেতার পর মনোবল চাঙ্গা থাকার কথা৷ অথচ ব্যাকফুটে থেকে অস্ট্রেলিয়া কঠিন উইকেটেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷
আগের দিনের ৮ উইকেটে ১০১ রানের লিডকে তারা বাকি দুই উইকেটে টেনে নিয়ে যায় ১৪৬ রানে৷ দলীয় ইনিংস ১৬৫ থেকে রওনা তিয়ে থামে ২১০ রানে৷ প্রথম ইনিংসের এই ব্যবধানটাই বিপর্যকর এই উইকেটে গড়ে দেয় প্রার্থক্য৷

প্বাংরথম ইনিংসের ন্যায় লাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও হয় বিপর্যয় দিয়ে। ৫ রানের মধ্যেই সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে হারায় দলটি। পরে তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শান্ত ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হওয়ার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ৭০ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাইজুল ইসলাম করেন ৭ রান, আর তাসকিন আহমেদের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক ছিলেন সবচেয়ে সফল। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। তবে ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং—প্রথম ইনিংসে তিনি শিকার করেন ৭ উইকেট।

এই হারে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া