চিনির রাজধানী ম্যাকাইতে হতে যাচ্ছে ৮০ বছরের অবসান
- আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
১৯৪৮ সালে ‘রে মিচেল ওভাল’ নামে যার যাত্রা শুরু। এরপর দীর্ঘ আশি বছর কেটে গেলো। অস্ট্রেলিয়ার এই মাঠে এখনো হয়নি কোন টেস্ট ম্যাচ। কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেন থেকে ৮০০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বাঞ্চলে, গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনা। অত্যান্ত নিরিবিলি একটি শহর। বিস্তৃর্ণ রাস্তা বযে গেছে। চিনির রাজধানী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার এক তৃতীয়াংশ চিনি এই অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়। এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
সেই চিনির রাজ্যে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবেন টাইগাররা। যে মাঠ তৈরির আশি বছর পর টেস্ট টেস্ট হতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ১২তম এই ভেন্যু সম্পর্কে তাই বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া, দু’দলের জন্য অপরিচিত। আগামী ২২ আগস্ট দুটি দলকেই বরণ করবে ম্যাকাই। দর্শকদের জন্য ১৬,২৭২টি আসন রয়েছে। পাঁচদিনের ম্যাচে প্রথম দুইদিনের প্রায় সবক’টি টিকিটই নাকি বিক্রি হয়ে গেছে। ভেন্যুটি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নতুন হলেও এখানে দুটি ওয়ান ডে সিরিজ খেলা হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ পাওয়া ম্যাথু রেনশ এই মাঠে দূর্দান্ত রান তোলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মেকাইয়ের ছোট্ট ইতিহাসে রেনশ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছে। এই মাঠে এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার হচ্ছেন ম্যাথু রেনশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দলে ফিরে আসা এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন ১৩৫ রান। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে করেছিলেন দুর্দান্ত ১৭০ রান।
এটি যে ব্যাটারদের জন্য স্বর্গীয় উইকেট তা পরিস্কার। প্রচুর রান উঠে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ান ডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩১ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই পেসারদের কিছুটা অনুকুলে থাকে। অতিরিক্ত বাউন্স হয়। তৃতীয় ও চতুর্থদিনে স্পিনারদের কিছুটা অনুকুলে আসে। তবে ডারউইন টেস্ট জেতা বাংলাদেশ দল মাঠে নামার আগে এরই মধ্যে ম্যাকাইয়ে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে নিশ্চয়।
প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো এক মাঠের টেস্ট অভিষেক, নতুন ভেন্যুতে দুই দলেরই প্রথম অভিজ্ঞতা, ডারউইনের গরম পেরিয়ে মেকাইয়ের শীতল আবহাওয়ায় মানিয়ে নেয়ার পরীক্ষা, নতুন পিচে গতি ও বাউন্সের অজানা রহস্য; সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে আলাদা এক চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দলে এই মাঠের অভিজ্ঞ ব্যাটার ম্যাট রেনশের প্রত্যাবর্তনও যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় হাতছানি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়া। তবে ইতিহাস কখনো কখনো নিজেই মঞ্চ তৈরি করে রাখে। ম্যাকাইয়ে এবার সেই মঞ্চ প্রস্তুত; এখন দেখার অপেক্ষে, মেকাইয়ে বাংলাদেশের গল্পটা কত দূর গড়ায়।
এখানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে কন্ডিশন। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ছিল গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া। ম্যাকাইয়ে এসে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ডারউইনে আগস্টের দিনে তাপমাত্রা যেখানে প্রায় ৩২–৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে, মেকাইয়ে তা নেমে এসেছে প্রায় ২০–২২ ডিগ্রিতে। কুইন্সল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ম্যাকাইয়ে শীতকালে তাপমাত্রা কখনো কখনো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে আসে। ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে মাঠের ঘাসেও। তাপমাত্রা কমে গেলে ঘাসের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় পিচ তৈরির নতুন চ্যালেঞ্জ। ডারউইনের উষ্ণতা পেরিয়ে ম্যাকাইয়ের শীতল বাতাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের তাই শরীর ও মন; দুটোকেই মানিয়ে নিতে হবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে।
তবে এই ম্যাচটিকে ঘিরে দু’টি দলের মধ্যেই রয়েছে ভিন্ন এক উত্তেজনা। বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য স্বাগতিকরা মরিয়া হয়ে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। উইকেটের আচরণের কথা ভেবে বাংলাদেশ দলেও পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যাটিং স্বর্গীয় উইকেট হিসেবে সৌম্য সরকার জায়গা পেতে পারেন, মুশফিকের জায়গায়। পেসার এবাদতের বদলে জায়গা পেতে পারেন মো.শরিফুল ইসলাম।
এই ম্যাচকে যেন ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয় সে পরামর্শই দিয়েছেন টাইগারদের সাবেক কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। তার মতে, বাংলাদেশ তো এগিয়ে আছে,তাই ডারউইনের মতোই খেলা চালিয়ে যাওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজে। তাতে ড্র হলে তো সিরিজ জেতা হয়ে গেলো। কিন্তু ড্রয়ের ভাবনা নামলে ম্যাচ হারানোর সম্ভাবনা্ই বেশি দেখছেন তিনি।























