ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বেতন সংক্রান্ত ঝামেলায় বাংলাদেশ যুব দলের কোচ জোন্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলের কোচ হচ্ছেন জেরার্ড জোন্স। ইংলিশ এই কোচ বেতন জটিলতায় পড়েছেন। যা তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জীবনের নিরাপত্তারও আশঙ্কা করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। জেরার্ড জোন্সের দাবি মাস গেলেও তিনি বেতন পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বেতন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে না। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই কোচের অ্যাকাউন্টে বেতন পাঠানো হয়েছে। তবে জোন্সের দাবি, টাকা পাওয়ার পরও ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই পোস্ট করেন। এরপর দেওয়া আরেক পোস্টে অবশ্য জোন্স জানান, টাকা তিনি পেয়েছেন। তবে সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোন্স বলেন, ‘এখন আমি ব্যাংকিং-সংক্রান্ত একটি সমস্যার মধ্যে আছি। আমি অর্থ পেয়েছি ঠিকই, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। এমন কিছু নতুন সমস্যাও সামনে এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি।’

ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ইংলিশ এই কোচ। তাঁর দাবি, ঢাকায় ও যশোরে এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাঁকে অস্বস্তিকর ও অসহায় করে তুলেছে। এমনকি গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জোন্স, ‘এখানে আমি নিজেকে খুব একা এবং বিপন্ন মনে করছি। আমি ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত বোধ করছি। আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত, অসহায় এবং একা।’

তবে বাফুফের বক্তব্য, চুক্তিতে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়ের মধ্যেই টাকা পাঠানো হয়েছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা। সে ভাবেই আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর কী হলো সেটা বলতে পারব না।’

বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের আবাসিক ক্যাম্প চলছে। সেখানেই দলের সঙ্গে ছিলেন জোন্স। বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতন নিজ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজ দুপুরে যশোর থেকে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মানসিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন জোন্স, ‘আমি ভেতরে-ভেতরে একদম শেষ হয়ে গেছি। আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার মনে হচ্ছে আমি আমার পরিবারকে হতাশ করেছি, আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রচণ্ড হতাশ করেছি। আমি খুবই ভেঙে পড়েছি, সত্যিই খুব কষ্ট পাচ্ছি।’

গত জুনে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই ইংলিশ কোচ। দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বেতন, ব্যাংকিং জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ এখন বাফুফের জন্যও নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বেতন সংক্রান্ত ঝামেলায় বাংলাদেশ যুব দলের কোচ জোন্স

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলের কোচ হচ্ছেন জেরার্ড জোন্স। ইংলিশ এই কোচ বেতন জটিলতায় পড়েছেন। যা তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জীবনের নিরাপত্তারও আশঙ্কা করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। জেরার্ড জোন্সের দাবি মাস গেলেও তিনি বেতন পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বেতন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে না। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই কোচের অ্যাকাউন্টে বেতন পাঠানো হয়েছে। তবে জোন্সের দাবি, টাকা পাওয়ার পরও ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই পোস্ট করেন। এরপর দেওয়া আরেক পোস্টে অবশ্য জোন্স জানান, টাকা তিনি পেয়েছেন। তবে সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোন্স বলেন, ‘এখন আমি ব্যাংকিং-সংক্রান্ত একটি সমস্যার মধ্যে আছি। আমি অর্থ পেয়েছি ঠিকই, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। এমন কিছু নতুন সমস্যাও সামনে এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি।’

ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ইংলিশ এই কোচ। তাঁর দাবি, ঢাকায় ও যশোরে এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাঁকে অস্বস্তিকর ও অসহায় করে তুলেছে। এমনকি গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জোন্স, ‘এখানে আমি নিজেকে খুব একা এবং বিপন্ন মনে করছি। আমি ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত বোধ করছি। আমি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত, অসহায় এবং একা।’

তবে বাফুফের বক্তব্য, চুক্তিতে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়ের মধ্যেই টাকা পাঠানো হয়েছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা। সে ভাবেই আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর কী হলো সেটা বলতে পারব না।’

বর্তমানে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-২০ দলের আবাসিক ক্যাম্প চলছে। সেখানেই দলের সঙ্গে ছিলেন জোন্স। বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতন নিজ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজ দুপুরে যশোর থেকে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মানসিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন জোন্স, ‘আমি ভেতরে-ভেতরে একদম শেষ হয়ে গেছি। আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার মনে হচ্ছে আমি আমার পরিবারকে হতাশ করেছি, আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রচণ্ড হতাশ করেছি। আমি খুবই ভেঙে পড়েছি, সত্যিই খুব কষ্ট পাচ্ছি।’

গত জুনে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই ইংলিশ কোচ। দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বেতন, ব্যাংকিং জটিলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ এখন বাফুফের জন্যও নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।