ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে এবার ‘নারী সংক্রান্ত অভিযোগ

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের পরেই বেশ সমালোচিত হয়ে উঠেন বিশ্বকাপের স্পন্সরশীপ নিয়ে। বিশ্বের জনপ্রিয় এই  ক্রীড়া ইভেন্টের মালিকানা বেসরকারিকরণের চেষ্টায় ফিফা সভাপতি পদ হারাতে বসেছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এখনও ঘাড়ের উপর থেকে সেই বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।  ইউরোপের দেশগুলো ফিফা ইভেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়, যা এখনো প্রত্যাহার করেনি। স্পষ্ট দু’ভাগ হয়ে গেছে ফুটবলবিশ্ব। এরই মাঝে ‘বিয়ে বহির্ভূত প্রেমে  জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফায় (UEFA) কর্মরত থাকাকালীন তাঁর এক জুনিয়র নারী সহকর্মীর সাথে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে, তবে আইনি জটিলতার কারণে ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সাধারণ সম্পাদক (মেয়াদকাল ২০০৯ থেকে ২০১৬) থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল উয়েফা। ওই নারী উয়েফার দায়িত্বে থাকা তার জুনিয়র সহকর্মী বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া তাকে আকর্ষণীয় পদোন্নতিরও অভিযোগ আছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। যদিও তিনি বিবাহিত এবং তাদের চার সন্তান আছে।

এ বিষয়ে ইনফান্তিনোর এক মুখপাত্র পত্রিকাটিকে বলেন, ‘ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন এবং এগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। অনুপযুক্ত আচরণ, কোনো বিধি কিংবা নিয়ম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেওয়া মানহানিকর। উয়েফা ও ফিফার কোনও কর্মী কখনোই ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি, কারণ তার এমন কিছুতে জড়িত থাকার মতো ঘটনাই কখনও ঘটেনি।’

এদিকে, উয়েফা নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট নারীকে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল এবং স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করার ফি মেটাতেও ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ওই সময়কার নিয়ম অনুযায়ী সব অর্থ প্রদানই বৈধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে এবং এখনকার বিধিমালা ‘একটি আধুনিক ও উচ্চ প্রোফাইলের প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।

বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি ওঠার মধ্যে নতুন এই অভিযোগ তার ওপর আরও চাপ বাড়িয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো বিতর্কিত ওই প্রস্তাবগুলোতে নিজের করা ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ার পর আর পদত্যাগ করেননি তিনি।

ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেলেও ইউরোপের কয়েকটি দল ফিফার বিভিন্ন আয়োজনে বয়কটের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এখনও পূরণ হয়নি।

তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কাফ) ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো এবং টুর্নামেন্টের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিবৃতি দিয়েছে তার সমর্থনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে এবার ‘নারী সংক্রান্ত অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের পরেই বেশ সমালোচিত হয়ে উঠেন বিশ্বকাপের স্পন্সরশীপ নিয়ে। বিশ্বের জনপ্রিয় এই  ক্রীড়া ইভেন্টের মালিকানা বেসরকারিকরণের চেষ্টায় ফিফা সভাপতি পদ হারাতে বসেছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এখনও ঘাড়ের উপর থেকে সেই বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।  ইউরোপের দেশগুলো ফিফা ইভেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়, যা এখনো প্রত্যাহার করেনি। স্পষ্ট দু’ভাগ হয়ে গেছে ফুটবলবিশ্ব। এরই মাঝে ‘বিয়ে বহির্ভূত প্রেমে  জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফায় (UEFA) কর্মরত থাকাকালীন তাঁর এক জুনিয়র নারী সহকর্মীর সাথে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে, তবে আইনি জটিলতার কারণে ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সাধারণ সম্পাদক (মেয়াদকাল ২০০৯ থেকে ২০১৬) থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল উয়েফা। ওই নারী উয়েফার দায়িত্বে থাকা তার জুনিয়র সহকর্মী বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া তাকে আকর্ষণীয় পদোন্নতিরও অভিযোগ আছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। যদিও তিনি বিবাহিত এবং তাদের চার সন্তান আছে।

এ বিষয়ে ইনফান্তিনোর এক মুখপাত্র পত্রিকাটিকে বলেন, ‘ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন এবং এগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। অনুপযুক্ত আচরণ, কোনো বিধি কিংবা নিয়ম লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেওয়া মানহানিকর। উয়েফা ও ফিফার কোনও কর্মী কখনোই ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি, কারণ তার এমন কিছুতে জড়িত থাকার মতো ঘটনাই কখনও ঘটেনি।’

এদিকে, উয়েফা নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট নারীকে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল এবং স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্স সম্পন্ন করার ফি মেটাতেও ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ওই সময়কার নিয়ম অনুযায়ী সব অর্থ প্রদানই বৈধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে এবং এখনকার বিধিমালা ‘একটি আধুনিক ও উচ্চ প্রোফাইলের প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’।

বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি ওঠার মধ্যে নতুন এই অভিযোগ তার ওপর আরও চাপ বাড়িয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো বিতর্কিত ওই প্রস্তাবগুলোতে নিজের করা ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে বুধবার মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমর্থন পাওয়ার পর আর পদত্যাগ করেননি তিনি।

ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেলেও ইউরোপের কয়েকটি দল ফিফার বিভিন্ন আয়োজনে বয়কটের হুমকি অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এখনও পূরণ হয়নি।

তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কাফ) ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো এবং টুর্নামেন্টের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিবৃতি দিয়েছে তার সমর্থনে।