ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিশাল ‘হোয়াইট হাউস বলরুম প্রকল্প’ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। আদালতের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই সিদ্ধান্তকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার সীমানা নির্ধারণী আইনি লড়াইয়ে এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার ৭ আগস্ট সার্কিট আদালতের বিচারক প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের নকশা বা কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন করতে পারেন না। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠের মন্তব্যে বলা হয়,

“প্রতিটি প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের স্থায়ী মালিক নন, বরং একজন সাময়িক ভাড়াটে মাত্র। এটি আমেরিকার জনগণের সম্পদ। কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা পছন্দ অনুযায়ী হোয়াইট হাউসকে নাটকীয়ভাবে নতুন করে রূপদান, পুনর্নির্মাণ বা নকশা বদলানোর কোনো অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগকে দেয়নি।”

আদালতের রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যেখানে কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া এবং ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহার করে জনগণের অর্থে তৈরি ঐতিহাসিক হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে  ১৯০২ সালের নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্ট উইং’ (East Wing) সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় ২০ ২৫ সালের অক্টোবর মাসে। প্রকল্পটি প্রায় ৯০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মূল বলরুমটির আয়তন ধরা হয়েছে প্রায় ২২,০০০ বর্গফুট। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে মাত্র ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও, প্রস্তাবিত এই নতুন বলরুমে ৬৫০ থেকে ১,০০০ অতিথি ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে যখন প্রথম এই বলরুমের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়, তখন এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি ডলার। পরবর্তীতে তা বেড়ে ২৫ কোটি এবং সর্বশেষ ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে যে, এই প্রকল্পের জন্য সরকারি তহবিল নয়, বরং প্রেসিডেন্ট নিজে এবং তাঁর ব্যক্তিগত দাতাদের তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই বলরুম প্রকল্পের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলাম্বিয়া জেলা সার্কিটের আপিল আদালতে পিটিশন দেয় ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশন নামের একটি সংস্থা। সেই পিটিশনের রায় শুক্রবার ঘোষণা করলেন আদালত। আপিল আদালতের ৩ জন বিচারপতির ২ জন রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগ আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, তবে সেই আবেদনের জন্য তার হাতে সময় আছে মাত্র ১৪ দিন। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যদি ট্রাম্পের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে ব্যর্থ হন— তাহলে এ ব্যাপারে আপিল আদালতের রায়কেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।

পিটিশনের বাদিপক্ষ ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশনের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আপিল আদালতের রায়ে স্বাভাবিক কারণেই খুশি হয়েছেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের লেগস বলেছেন, “হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের যত ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে, সেসবের ব্যাপারে মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেন। আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি মহান দিন।”

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় আপিল আদালতের রায়কে ‘অন্যায্য’, ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “প্রস্তাবিত বলরুম আসলে একটি নিরাপত্তা স্থাপনা। এটি আসলে একটি বড়, দামি এবং কমপ্লেক্স ইউনিট যেখানে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল সুবিধা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে শিল্ড থাকবে। আপিল আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটি ভয়ঙ্কার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং এই রায় আমার এবং হোয়াইট হাউসের অন্যান্য স্টাফ ও দর্শনার্থীদের হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।”

“আমরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করব। আশা করছি, আপিল আদালতের এই অন্যায্য রায়কে সুপ্রিম কোর্ট পুরোপুরি বাতিল করবেন”, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেছেন ট্রাম্প।
সূত্র : রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন মার্কিন আদালত

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিশাল ‘হোয়াইট হাউস বলরুম প্রকল্প’ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। আদালতের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই সিদ্ধান্তকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার সীমানা নির্ধারণী আইনি লড়াইয়ে এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার ৭ আগস্ট সার্কিট আদালতের বিচারক প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের নকশা বা কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন করতে পারেন না। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠের মন্তব্যে বলা হয়,

“প্রতিটি প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের স্থায়ী মালিক নন, বরং একজন সাময়িক ভাড়াটে মাত্র। এটি আমেরিকার জনগণের সম্পদ। কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা পছন্দ অনুযায়ী হোয়াইট হাউসকে নাটকীয়ভাবে নতুন করে রূপদান, পুনর্নির্মাণ বা নকশা বদলানোর কোনো অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগকে দেয়নি।”

আদালতের রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যেখানে কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া এবং ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহার করে জনগণের অর্থে তৈরি ঐতিহাসিক হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে  ১৯০২ সালের নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্ট উইং’ (East Wing) সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয় ২০ ২৫ সালের অক্টোবর মাসে। প্রকল্পটি প্রায় ৯০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মূল বলরুমটির আয়তন ধরা হয়েছে প্রায় ২২,০০০ বর্গফুট। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে মাত্র ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও, প্রস্তাবিত এই নতুন বলরুমে ৬৫০ থেকে ১,০০০ অতিথি ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে যখন প্রথম এই বলরুমের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়, তখন এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি ডলার। পরবর্তীতে তা বেড়ে ২৫ কোটি এবং সর্বশেষ ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে যে, এই প্রকল্পের জন্য সরকারি তহবিল নয়, বরং প্রেসিডেন্ট নিজে এবং তাঁর ব্যক্তিগত দাতাদের তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই বলরুম প্রকল্পের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলাম্বিয়া জেলা সার্কিটের আপিল আদালতে পিটিশন দেয় ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশন নামের একটি সংস্থা। সেই পিটিশনের রায় শুক্রবার ঘোষণা করলেন আদালত। আপিল আদালতের ৩ জন বিচারপতির ২ জন রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগ আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, তবে সেই আবেদনের জন্য তার হাতে সময় আছে মাত্র ১৪ দিন। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যদি ট্রাম্পের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে ব্যর্থ হন— তাহলে এ ব্যাপারে আপিল আদালতের রায়কেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।

পিটিশনের বাদিপক্ষ ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশনের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আপিল আদালতের রায়ে স্বাভাবিক কারণেই খুশি হয়েছেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের লেগস বলেছেন, “হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের যত ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে, সেসবের ব্যাপারে মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেন। আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি মহান দিন।”

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় আপিল আদালতের রায়কে ‘অন্যায্য’, ‘ভয়ঙ্কর’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “প্রস্তাবিত বলরুম আসলে একটি নিরাপত্তা স্থাপনা। এটি আসলে একটি বড়, দামি এবং কমপ্লেক্স ইউনিট যেখানে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল সুবিধা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে শিল্ড থাকবে। আপিল আদালত যে রায় দিয়েছেন সেটি ভয়ঙ্কার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং এই রায় আমার এবং হোয়াইট হাউসের অন্যান্য স্টাফ ও দর্শনার্থীদের হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে।”

“আমরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করব। আশা করছি, আপিল আদালতের এই অন্যায্য রায়কে সুপ্রিম কোর্ট পুরোপুরি বাতিল করবেন”, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেছেন ট্রাম্প।
সূত্র : রয়টার্স