কমনওয়েথ গেমসে পদক শুন্যতা ঘুচানোর আক্ষেপে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১১:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫০ বার পড়া হয়েছে
গ্লামগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ শেষ হয়েছে ২ আগস্ট । চার বছর পর শতবর্ষী কমওয়েলথ গেমস ২০৩০ বসবে ভারতের হায়দ্রাবাদে।তার আগে ১১দিন ব্যাপী কমনওয়েথ গেমস থেকে শুন্য হাতে বাংলাদেশ ১৫ সদস্যের দল এখন দেশের ফেরার অপেক্ষায়। শতবর্ষী কমনওয়েলথ গেমসে পা রাখার আগেই বাংলাদেশ দলের পদক শুন্যতা ঘুচানোর আক্ষেপ আর সাফল্যের গল্প ডেইলি ঢাকা মেট্রোর পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো…
আট বছর পর গ্লাসগোতে ফের কমনওয়েলথ গেমস সম্পন্ন হলো। সেবার বাংলাদেশ অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টে পদক জিতেছিলো, শ্যূটিংয়ে আব্দুল্লাহিল বাকির রোপ্য পদক। দশ মিটার এয়ার রাইফেলসে তিনি ২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পদক জিতে দেশের মান রক্ষা করেন। এবার গেমসে অংশ নেয়া ১৫ সদস্যের ক্রীড়াবিদদের কেউ পারেনি দেশের মান রক্ষা করতে। সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং ও জিমন্যাস্টিক্স চার ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে হতাশ করেছেন সবাই। ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েথ গেমসের ন্যায় এবারও বাংলাদেশের থলিতে থাকলো পদক শুন্য।
৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যান বক্সার রাকিব। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পারলে ব্রোঞ্জ পদক আসত। রাকিবের পারফরম্যান্সই বাংলাদেশের এই গেমসে প্রাপ্তি। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জিনাত ফেরদৌস ও রুহিন রেজা নিজ নিজ ইভেন্টের প্রথম ম্যাচেই হেরেছেন।
দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান স্কটল্যান্ডের চেনা পরিবেশে ১০০ মিটারে বছরের সেরা টাইমিং করলেও হিটে বাদ পড়ে ৭৩ জনের মধ্যে ২৭তম হয়ে। দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যে টাইমিং করেছিলেন প্রতিযোগিতায় এবার তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে লুশাদ ইসলাম ৪৬ জনের মধ্যে ৩৬তম, ৪০০ মিটার হার্ডলসে নাজিমুল হোসেন ২২ জনের মধ্যে ১৮তম এবং লং জাম্পে স্বপ্না খাতুন ১১ জনের মধ্যে হন ১১তম।
সাঁতারে দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডে ট্রেনিং করা সামিউল ইসলাম রাফি তিন ইভেন্টে নিজের সেরা টাইমিং করেছেন। অন্য সাঁতারু সোনিয়া আক্তার, কাজল মিয়া ও সুকুমার রাজবংশী শুধু অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। জিমন্যাস্ট শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফিকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ১০ দেশের মধ্যে হয়েছে অষ্টম।
এ নিয়ে বাংলাদেশ পাঁচবার পদক শুন্য গেমস শেষ করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পদক জয়ের ইতিহাস ঘাঁটলে কমনওয়েলথ গেমসের নাম আসবে সবার আগে। দক্ষিণ এশীয় গেমসের (এসএ গেমস) বাইরে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে পদকের সন্ধান পেয়েছে মূলত এই কমনওয়েলথ গেমসেই। তবে এই পথচলার ইতিহাস যেমন উজ্জ্বল কিছু সাফল্যের গল্পে রঙিন, তেমনই আবার পদকশূন্যতার হতাশাতেও ঘেরা।

১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টন থেকে কমনওয়েথ গেমসের পথ চলা শুরু। বাংলাদেশের শুরু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর। ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করার পর ১৯৭৮ সালে কানাডার এডমন্টন গেমসে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে ১৯৮২ ও ১৯৮৬ গেমসে অনুপস্থিত থাকার পর ১৯৯০ সালের অকল্যান্ড গেমস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বার্মিংহাম গেমস পর্যন্ত বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতাটিতে অংশগ্রহণ করে আসছে।
দীর্ঘ এই পথচলায় বাংলাদেশ পদক জয়ে প্রথম সাফল্যেআসে ১৯৯০ সালে, শ্যূটিংয়ে। সেদিন দুই শ্যূটার আতিকুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার নিনি দশ মিটার এয়ার পিস্তলের দলগত ইভেন্টে স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন। ওটই ছিল কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের পদক জয়। সে সুবাদে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের মাটিতে প্রথম লাল-সুবজ পতাকা উড়ে। ওই গেমসে আরেকটি পদক জিতেছিলেন তারা,ব্রোঞ্জ। কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার স্বর্ণ পদকের দেখা পায় ২০০২ ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে।
এ পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রাপ্ত মোট পদক ৮টি (২টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ)। অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্য, বাংলাদেশের এই ৮টি পদকের প্রতিটিই এসেছে একমাত্র ইভেন্ট ‘শূটিং’ থেকে। শূটিং ব্যতিরেকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, বক্সিং বা অন্য কোনো ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ কখনো পদকের দেখা পায়নি।
ব্যর্থতার কারণ ও উত্তোরণের পথ
কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ মূলত শূটিংনির্ভর। আয়োজকদের সংক্ষিপ্ত ইভেন্ট কাঠামোর কারণে যখনই শূটিং বাদ পড়েছে (যেমন ২০২২ ও ২০২৬), বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা তখনই পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার আরো কিছু কারণও রয়েছে। যার অন্যতম কারণটাই হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ও আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি। মূলত গুটি কয়েক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয় না। এবারেও সেই অভাবের ফসল হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ গেমসে পদক শুন্য হয়ে থাকলো।
১৯৯০ (অকল্যান্ড): স্বর্ণ: আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার (১০ মিটার এয়ার পিস্তল পেয়ার্স) ব্রোঞ্জ: আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার (৫০ মিটার ফ্রি পিস্তল পেয়ার্স)
২০০২ (ম্যানচেস্টার):স্বর্ণ: আসিফ হোসেন খান (১০ মিটার এয়ার রাইফেল একক)
২০০৬ (মেলবোর্ন):রৌপ্য: আসিফ হোসেন খান ও অঞ্জন কুমার সিংহ (১০ মিটার এয়ার রাইফেল পেয়ার্স)
২০১০ (দিল্লি):ব্রোঞ্জ: আবদুল্লাহ হেল বাকী ও আসিফ হোসেন খান (১০ মিটার এয়ার রাইফেল পেয়ার্স)
২০১৪ (গ্লাসগো):রৌপ্য: আবদুল্লাহ হেল বাকী (১০ মিটার এয়ার রাইফেল একক)
২০১৮ (গোল্ড কোস্ট):রৌপ্য: আবদুল্লাহ হেল বাকী (১০ মিটার এয়ার রাইফেল) রৌপ্য: শাকিল আহমেদ (৫০ মিটার পিস্তল)
২০২২ ( বার্মিং হাম) : পদক শূন্য
২০২৬ (গ্লাসগো ) : পদক শূন্য
পদকশূন্য আসর
২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েথ গেমস নিয়ে মোট ১১ বার অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মোট ৪টি আসরে শূন্য হাতে ফিরেছে। অংশগ্রহনের শুরু এবং অংশগ্রহনের শেষটায় বাংলাদেশ কন্টিজেন্ট কোন পদক জিততে পারেনি।
১. ১৯৭৮ (এডমন্টন): প্রথমবার অংশ নিয়ে কোনো পদক আসেনি।
২. ১৯৯৪ (ভিক্টোরিয়া): অকল্যান্ডের সাফল্যের পর এই আসরে বাংলাদেশ পদকহীন থাকে।
৩. ১৯৯৮ (কুয়ালালামপুর): শূটাররা প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি।
৪. ২০২২ (বার্মিংহাম): দীর্ঘদিন পর গেমসে পুনরায় খালি হাতে ফেরে লাল-সবুজের দল।
৫. ২০২৬ (গ্লাসগো) শ্যূটিং না থাকায় এবারে কমনওয়েলথ গেমসে কোন পদক জিততে পারেনি।





















