ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আর্থিক সংকটে বন্ধ এস.আলমের ১১টি কারখানা,চলছে শ্রমিক ছাঁটাই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্য সংকটে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত গ্রুপটির ব্যবসা ও ব্যাংকগুলোতে ধস নামতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া এবং নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) বা কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।

এস আলম গ্রুপের যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (নফ), চেমন ইস্পাত এবং গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড (ব্যাগ তৈরির কারখানা), এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ ১১টি কারখানা।

কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আনুমানিক আড়াই হাজার স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতা এবং মূলধন ও কাঁচামাল সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ করে শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্তভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকা টাঙানো হয় এবং শুক্রবার থেকে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানানো হয় যে, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের খবরে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা যেন নিজ দায়িত্বে ফিরে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রায় সবকটি কারখানার শ্রমিকদের নোটিশ দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবকিছু চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাঁচামাল না থাকা এবং এলসি বন্ধ থাকার পরও এতদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা তারল্য নেই। ফলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আর্থিক সংকটে বন্ধ এস.আলমের ১১টি কারখানা,চলছে শ্রমিক ছাঁটাই

আপডেট সময় : ০৬:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্য সংকটে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত গ্রুপটির ব্যবসা ও ব্যাংকগুলোতে ধস নামতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া এবং নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) বা কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।

এস আলম গ্রুপের যেসব কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (নফ), চেমন ইস্পাত এবং গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড (ব্যাগ তৈরির কারখানা), এস আলম সিমেন্ট এবং এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ ১১টি কারখানা।

কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আনুমানিক আড়াই হাজার স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতা এবং মূলধন ও কাঁচামাল সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ করে শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে চূড়ান্তভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকা টাঙানো হয় এবং শুক্রবার থেকে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানানো হয় যে, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের খবরে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা যেন নিজ দায়িত্বে ফিরে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রায় সবকটি কারখানার শ্রমিকদের নোটিশ দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবকিছু চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাঁচামাল না থাকা এবং এলসি বন্ধ থাকার পরও এতদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপের কোনো পজিশন বা তারল্য নেই। ফলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।