রাতেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ
- আপডেট সময় : ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
রাতেই আজ মেক্সিকোতে পর্দা ওঠছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের। পরের রাতে কানাডার টরেন্টো রাঙাবে প্রথম আয়োজনে। যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক পরের দিন সকালে। অর্থাৎ শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু। কিন্তু তার আগেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাদকতা ছড়িয়ে পড়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের রিহার্সেলে পারফরমারদের নৃত্য,গান, সংস্কৃতি,ঐতিহ্য ফুটে উঠে দৃশ্যমান সে অনুষ্ঠান মালায়। ৩০ জন পারফরমার গাইবেন গান। আছেন শাকিরাও। যিনি আফ্রিকা বিশ্বকাপ গানে-নিত্যে মাতিয়েছিলেন। ‘সামিরা আমিরা ওক্কা ওক্কা দে দে’। এরপর আরো কয়েকটি বিশ্বকাপ চলে গেলেও শামিরা সেই ঐতিহাসিক গানটির মাদকতা কাটেনি ফুটবল ভক্তদের। এবারেও সামিরা গাইবেন।


এবারের বিশ্বকাপটি নানা দিক দিয়ে ব্যতিক্রম। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম আয়োজক তিনটি দেশের পাশাপাশি দলের সংখ্যাও সর্বাধিক ৪৮টি। দলগুলোর প্রাইজমানি যেমন বাড়ছে তেমনি খরচের অঙ্কটাও আশঙ্কা জনকহারে বেড়েছে। ৮৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিশ্বকাপ। গতবার ছিলো ৪৪ লাখ ডলারের প্রাইজমানি। প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার অর্থা ১৫৩ কোটি টাকা। প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়লে দলগুলোর লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। যাতায়াত খরচ,আবাসন খরচ,পার্কিং খরচ কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে আয়োজকরা। যে কারণে এবারের বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে বড় লোকের বিশ্বকাপ। টাকা ওয়ালাদের জন্যই বিশ্বকাপ। রীতিমতো স্বপ্নের মতো হয়ে দাড়িয়েছে এবারের বিশ্বকাপ দেখাটা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট অনেক আগেই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একেকটা টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলারে। ৩৩ নাম্বার থেকে ৩৬ নাম্বার এই চারটি আসনের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮.৮৫ ডলার। অর্থা্ৎ ২৮ কোটি টাকা!
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবারের বিশ্বকাপে যেন ব্যবসায়ের দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন। টিকিট কিনতে পারলে সেটা আবার বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছেন। অনেকটা স্টোক মার্কেটের শেয়ার বিক্রির মতো। টিকিট ক্রয় করার যোগ্যতার জন্য প্রথমে লটারি এরপর যতো বেশি দামে টিকিট ক্রয় করার সুযোগ। আবার রিসেলেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয় দুদিক থেকেই ফিফার ব্যবসা করছে।
সব আলোচনা-সমালোচনা উতরায়ে রাতেই পৃথিবীর সবচেয়ে এই বড় ক্রীড়াযঞ্জ শুরু হবে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মেক্সিকোয় মেক্সিকো সিটি, কানাডায় টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলস, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রি–আলোর ছটায় আলোকিত হবে পৃথিবী।


‘প্রাসাদের নগরী’ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। এ ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। গতবারের ন্যায় এবারও বিশ্বকাপে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
এরপর কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল রাতে। টরন্টোর টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় স্বাগতিক হয়ে কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। তার আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে আগামীকাল রাত কাবার করে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে কিংবা ভোরে উঠতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। তার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিগত সময়গুলোতে তেমন সাড়া ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপে শাকিরা ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে অমরত্ব আদায় করে নেওয়ার পর থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। কলম্বিয়ান সুরের পাখি শাকিরা ১৬ বছর আগের আসরে উদ্বোধনীতে যে মাদকতা উপহার দিয়েছিলেন, সেই মোহ আজও অনেকের ভাঙেনি। সেসব মোহগ্রস্ত ফুটবলপ্রেমীর জন্য সুখবর—শাকিরা এবারও আছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলাদা তিনটি শহরে হলেও ভাবনাটা এক ও অভিন্ন। আয়োজক তিনটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরাই লক্ষ্য। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেমন আদিবাসী শিল্পী, লোকজ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র মাধ্যমে মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেখানে এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ (লেটস গো) গাইবেন শাকিরা, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়।
পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল অ্যালবামে থাকা শিল্পীদের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকান গায়ক ও গীতিকার টাইলাও মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সে জন্য প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছে মেক্সিকো সিটি। বিশ্বকাপ শুরুর দিনে ছুটি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শেনবাউম।
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সেটি ১৩ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। টরন্টো স্টেডিয়ামে একটি ক্ষণগণনা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কানাডার বিভিন্ন গৌরবময় মুহূর্ত তাতে ফুটিয়ে তোলা হবে। পারফর্ম করবেন সংগীতশিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া ক্যারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত), ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সের মতো শিল্পীরা।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ও আকর্ষণীয় গল্পগাথা। সেই সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্কো বালিচ। অলিম্পিকের বেশ কয়েকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনের কারিগর তিনি। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আবহ ও চরিত্র ভিন্ন হলেও তিনটি আয়োজনই একটি মূল ভাবনায় একীভূত—ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতায় গাঁথায় ফুটবলের যে অনন্য ক্ষমতা, সেটিই তিনটি শহরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম।


তার আগে বড় প্রশ্নটি হচেছ বিশ্বজুড়ে ফুটবল যঞ্জের এই মিলন মেলায় খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সাম্প্রতিক যুদ্ধ নিরসনের কোন বার্তা। মিলবে কি কোন শান্তির প্রতীক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ দামামায় দাড়িয়ে যেতে। এক পৃথিবী,এক ফুটবল হাতে হাত রেখে গড়ে ওঠবে কি সম্প্রীতি। নাকি জয়-পরাজয়ের নেশায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুঙ্কার দিয়ে গর্জে ওঠবে সামরিক শক্তিশালী দেশগুলো।























