জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিবে সরকার
- আপডেট সময় : ১১:২০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
জুলাই আগস্ট আন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আঠার মাস চলে দেশের শাসনভার। অতপর জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারী দেশের দ্বায়িত্ব নেয় নতুন সরকার, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমান হন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ততক্ষণে দেশের বারোটা বাজা শেষ। আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি, দেশের সর্বত্রে বিশৃঙ্খলা, ঘুষ ,দূর্ণীতি,অনিয়ম ফনা দিয়ে উঠে। তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার সেখান থেকে দেশকে টেনে ওপরে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন।
তবে যাদের অবদানে আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালন করতে যাচ্ছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে দিনটি উদ্যাপনে ঢাকাসহ দেশের সব সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, বিনা টিকিটে শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ৫ আগস্ট শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সব জেলায় জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে বলেও সদস্যরা একমত পোষণ করেন।
দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের প্রধান সড়ক, সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ঝলমলে আলোকসজ্জা করা হবে। এদিন দেশের সব সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে (বিনা টিকিটে) চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বেলা ১১টায় ঢাকায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসক থেকে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার আন্দোলন। দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার তীব্র ক্ষোভ ও ত্যাগের ফসল হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি সে চেতনা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জেলা পর্যায়েও শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়।
দেশব্যাপী নানা আয়োজন ও কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এর আগে প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই দিন দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ উপাসনালয়গুলোতে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
৫ আগস্ট দেশের সব জেলা ও উপজেলার সিনেমা হলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (বিনা টিকিটে) চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন মিলনায়তন বা উন্মুক্ত স্থানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সব সরকারি হাসপাতালেও বিশেষ আলোচনা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে।
গণঅভ্যুত্থান দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে ডাক বিভাগ বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি ভবনগুলো ঝলমলে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দেশের বাইরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভার আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। যাদের রক্তের বিনিময়ে এবং যাদের সীমাহীন ত্যাগের ফলে আমরা এ দেশটাকে নতুন করে গড়ার সুযোগ পেয়েছি, তাদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য র্যালি ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ এবং সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করা হবে।
আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব কর্মসূচি যাতে যথাসময়ে ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাক বিভাগ থেকে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে। এমনকি দেশের বাইরের দূতাবাসগুলোতেও আলোচনা সভার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সম্পূর্ণ জাতীয় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে ও যথাসময়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ২ টি কমিটি ও ২ টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার আন্দোলন। দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার তীব্র ক্ষোভ ও ত্যাগের ফসল হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি সে চেতনা ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঐতিহাসিক এ অভ্যুত্থানের চেতনা রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং আপামর জনগণের কাছে এর তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকার ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। যাদের রক্তের বিনিময়ে এবং যাদের সীমাহীন ত্যাগের ফলে আমরা এ দেশটাকে নতুন করে গড়ার সুযোগ পেয়েছি, তাদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।



















