ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

পানি নিয়ে বিরোধ নয়, আলোচনাই সমাধানের পথ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ সব ধরনের পানি সমস্যা আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পানি সমস্যাগুলোকে বিরোধ হিসেবে না দেখে পারস্পরিক আলোচনা, ন্যায্যতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা : যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘদিনের বিষয়। এ ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোই সবচেয়ে কার্যকর পথ। দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে পানি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ, নৌপরিবহন ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়ে। ফলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় উজান ও ভাটির দেশের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পানি কোনো একক দেশের বিষয় নয়; আন্তঃসীমান্ত নদীর ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত বৈঠক, তথ্য বিনিময় এবং কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা, তিস্তা, ফেনী, কুশিয়ারা, মনু, মুহুরীসহ অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি সমস্যা সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই নয়, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি সংকট ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বাস্তবতায় আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে ঘিরে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো জরুরি। নদীর পানি নিয়ে বিরোধের পরিবর্তে অভিন্ন সম্পদ হিসেবে নদীগুলোকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পানি ইস্যুতেও একই নীতির ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনা ও কূটনীতিই বাংলাদেশ-ভারতের পানি সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ। পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে হবে, যাতে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অভিন্ন নদীগুলোর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

বাংলাদেশ-ভারতে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য পানি বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পানি নিয়ে বিরোধ নয়, আলোচনাই সমাধানের পথ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ সব ধরনের পানি সমস্যা আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পানি সমস্যাগুলোকে বিরোধ হিসেবে না দেখে পারস্পরিক আলোচনা, ন্যায্যতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা : যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘদিনের বিষয়। এ ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোই সবচেয়ে কার্যকর পথ। দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে পানি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ, নৌপরিবহন ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়ে। ফলে অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় উজান ও ভাটির দেশের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পানি কোনো একক দেশের বিষয় নয়; আন্তঃসীমান্ত নদীর ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত বৈঠক, তথ্য বিনিময় এবং কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা, তিস্তা, ফেনী, কুশিয়ারা, মনু, মুহুরীসহ অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি সমস্যা সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই নয়, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি সংকট ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বাস্তবতায় আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে ঘিরে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো জরুরি। নদীর পানি নিয়ে বিরোধের পরিবর্তে অভিন্ন সম্পদ হিসেবে নদীগুলোকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পানি ইস্যুতেও একই নীতির ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনা ও কূটনীতিই বাংলাদেশ-ভারতের পানি সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ। পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে হবে, যাতে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অভিন্ন নদীগুলোর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

বাংলাদেশ-ভারতে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য পানি বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে।