ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা উচ্ছেদে বাধা, সময় চান স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে স্থানীয়রা মিছিল করে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।

উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে কেওয়াইসিআর ইন্ডাস্ট্রির সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শুরুর একপর্যায়ে স্থানীয়রা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করলেও হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তাই অন্যত্র যাওয়ার জন্য কয়েক দিন সময় দেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় প্রায় তিনশ পরিবার বসবাস করে আসছে। উচ্ছেদের আগে বিকল্পভাবে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় একসঙ্গে এত পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে তারা বিপাকে পড়বেন।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, জায়গাটি রেলওয়ের মালিকানাধীন এবং সেখানে অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগেই দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে কুমিরা পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় রেলভূমিতে অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাসের বিষয়টি পাওয়া গেছে। অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করার জন্য দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়।

রেলওয়ের দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

রেলওয়ের নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কুমিরা স্টেশন এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী রেললাইনের পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় স্থানীয় লোকজন অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাদের একাধিকবার স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বসতভিটা ছেড়ে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র যাওয়ার মতো আর্থিক ও বাস্তব সক্ষমতা অনেক পরিবারের নেই। তাই বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য সময় দেওয়া হোক।

রেলওয়ের দাবি, নোটিশের পর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আইন অনুযায়ী রেলভূমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা উচ্ছেদের আগে সময় ও বিকল্প থাকার ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ফলে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থানে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা উচ্ছেদে বাধা, সময় চান স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে স্থানীয়রা মিছিল করে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।

উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে কেওয়াইসিআর ইন্ডাস্ট্রির সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শুরুর একপর্যায়ে স্থানীয়রা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করলেও হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তাই অন্যত্র যাওয়ার জন্য কয়েক দিন সময় দেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় প্রায় তিনশ পরিবার বসবাস করে আসছে। উচ্ছেদের আগে বিকল্পভাবে থাকার ব্যবস্থা করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় একসঙ্গে এত পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে তারা বিপাকে পড়বেন।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, জায়গাটি রেলওয়ের মালিকানাধীন এবং সেখানে অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগেই দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে কুমিরা পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় রেলভূমিতে অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাসের বিষয়টি পাওয়া গেছে। অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করার জন্য দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়।

রেলওয়ের দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

রেলওয়ের নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কুমিরা স্টেশন এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী রেললাইনের পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় স্থানীয় লোকজন অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাদের একাধিকবার স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বসতভিটা ছেড়ে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র যাওয়ার মতো আর্থিক ও বাস্তব সক্ষমতা অনেক পরিবারের নেই। তাই বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য সময় দেওয়া হোক।

রেলওয়ের দাবি, নোটিশের পর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আইন অনুযায়ী রেলভূমি দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা উচ্ছেদের আগে সময় ও বিকল্প থাকার ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ফলে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযানকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থানে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন।