ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, সমর্থকরা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতো

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত অফস্পিনার নাঈম হাসান। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটে শিকার করার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে সিরিজেও তিনি দলের হয়ে সফল বোলিং করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দূর্দান্ত সর্বোচ্চ তিনশতাধিক উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) তিনি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় নিয়মিত।
এছাড়া বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলগুলোর হয়ে নিয়মিত খেলছেন এবং ফ্রেঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তিনি অন্যতম কার্যকরী বোলার।
জাতীয় দলের সেই নাঈম হাসানকেই কিনা পুলিশ পিটিয়ে গলা চেপে থানায় নিয়ে পেটালেন! বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িযে পড়তেই দেশের ক্রীড়ামহল থেকে শুরু করে সর্বত্রে বিরুপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। জাতীয় ক্রিকেটারের পরিচয় দেয়ার পরেও পুলিশ কি করে এই আচরণ করতে পারে বিষয়টি দেশবাসিকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা করে কুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে নাঈম সরাসরি এই অভিযোগ  তুলে বলেছেন, তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে।
নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।
নাঈম বলেন,যখন সিএনজি থেকে আমাকে অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা (লোকজন)। উনারা না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো। বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চাই। পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। ভাইয়ারা রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নাঈম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। এতে অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে। আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। ঘটনার দিন পুলিশ সিএনজিতে (অটোরিকশা) আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি। তারা চাইলে করতে দিতাম। সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’

চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায়সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায়

নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন। নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

মারধরের অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। আজ শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, সমর্থকরা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতো

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত অফস্পিনার নাঈম হাসান। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটে শিকার করার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে সিরিজেও তিনি দলের হয়ে সফল বোলিং করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দূর্দান্ত সর্বোচ্চ তিনশতাধিক উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) তিনি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় নিয়মিত।
এছাড়া বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলগুলোর হয়ে নিয়মিত খেলছেন এবং ফ্রেঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তিনি অন্যতম কার্যকরী বোলার।
জাতীয় দলের সেই নাঈম হাসানকেই কিনা পুলিশ পিটিয়ে গলা চেপে থানায় নিয়ে পেটালেন! বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িযে পড়তেই দেশের ক্রীড়ামহল থেকে শুরু করে সর্বত্রে বিরুপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। জাতীয় ক্রিকেটারের পরিচয় দেয়ার পরেও পুলিশ কি করে এই আচরণ করতে পারে বিষয়টি দেশবাসিকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা করে কুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে নাঈম সরাসরি এই অভিযোগ  তুলে বলেছেন, তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে।
নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।
নাঈম বলেন,যখন সিএনজি থেকে আমাকে অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা (লোকজন)। উনারা না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো। বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চাই। পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। ভাইয়ারা রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’

চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নাঈম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। এতে অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে। আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। ঘটনার দিন পুলিশ সিএনজিতে (অটোরিকশা) আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি। তারা চাইলে করতে দিতাম। সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’

চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায়সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাঈম হাসানের বাবা মাহবুবুল আলম। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায়

নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন। নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

মারধরের অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। আজ শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।