ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গত ১৯ জুলাই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্রও গৃহীত হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলায় ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট, জিএমজি ট্রেডিং, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, সুপার ইস্টার্ন ও এলিগ্যান্টস ওভারসিজসহ মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠান।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে লাইসেন্স বাতিলের সরকারি প্রজ্ঞাপনে মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইন ও লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানো এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে আগের অনিয়মের ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তের পর এই ৪৯ এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম, লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গত ১৯ জুলাই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্রও গৃহীত হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলায় ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট, জিএমজি ট্রেডিং, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, সুপার ইস্টার্ন ও এলিগ্যান্টস ওভারসিজসহ মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠান।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে লাইসেন্স বাতিলের সরকারি প্রজ্ঞাপনে মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইন ও লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন এবং মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানো এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে আগের অনিয়মের ঘটনায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তের পর এই ৪৯ এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।